Main Menu

কাল বৈশাখী ঝড়ে কমলগঞ্জে বিদ্যুৎ বিপর্যয়

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি : শনিবার রাত সাড়ে ৭ টায় আকস্মিক কাল বৈশাখী ঝড় ও ভারী বর্ষনের সময় বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙ্গে, গাছ ভেঙ্গে পড়ে তার ছিড়ে ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ ভেঙ্গে মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটে। শনিবার রাত পৌনে নয়টা থেকে রোববার সকাল পৌনে ১১টা পর্যন্ত পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কমলগঞ্জ জোনালের ৩৬ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎবিহিন ছিলেন। ১৬ ঘন্টা পর রোববার সকাল পৌনে ১১টায় কমলগঞ্জ উপজেলা সদর, শমশেরনগর, মুন্সীবাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ হাট বাজারে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বভাবিক হলেও গ্রামাঞ্চল এখনও রয়েছে বিদ্যুৎ বিহিন।
শনিবার সারা দিন প্রচন্ড খরতাপের পর সন্ধ্যার পর থেকে আকাশ কালো হয়ে মেঘের আনাগোনা ছিল। রাত পৌনে নয়টায় আচমকা ঘুর্ণি বাতাস আর ধুলি ঝড়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। হাট বাজার রাস্তাঘাট সর্বত্রই ছিল ধুলোময়। সাথে ছিল এক ধরনের দুর্গন্ধ। কিছুক্ষণের মধ্যে বৃষ্টির সাথে ঝড় বাতাসে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গাছ ভেঙ্গে পড়ে রাস্তাঘাট আর বৈদ্যুতিক তারের উপর। এর পর থেকে পুরো কমলগঞ্জ উপজেলা বিদ্যুৎ বিহিন অবস্থায় ঘন অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে পড়ে। ভোর পর্যন্ত ধমকা বাতাসের সাথে সাথে হালকা বৃষ্টিপাতও হয়।
বৈশাখী ঝড়ে উপজেলার মুন্সীবাজার এলাকায় ১১ হাজার কেভি বিদ্যুৎ লাইনের দুইটি বৈদ্যুতিক খুটি, মাধবপুর ইউনিয়ন এলাকায় ৬০০ কেভি লাইনের একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙ্গে পড়ে। অসংখ্য স্থানে গাছ ভেঙ্গে বৈদ্যুতিক তার ছিড়েছে ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ ভেঙ্গেছে।
রাতের ধূলি ঝড়ের পর পর পুরো উপজেলায় এক ধরের দুগন্ধে সর্বত্র অস্বস্থি বিরাজ করে। শমশেরনগর চা বাগানের ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশনের স্বাস্থ্য কর্শী রাজু বর্মা, শিংরাউলী গ্রামের ব্যবসায়ী ইয়াকুব মিয়া, দোকানী রাজ্জাক শেখসহ অনেেেকই শনিবার রাতে মুঠোফোনে এ প্রতিনিধির কাছে ধুলোঝড়ের পর পর দুর্গন্ধে অস্বস্থি বিরাজের কথা জানান। তারা আরও বলেন, গর্ন্ধটি অনেকটা গ্যাসের গন্ধের মত লাগায় তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। রোববার সকালে কমলগঞ্জ উপজেলার সর্বত্রই ধূলি ঝড়ের পর পর গ্যাসযুক্ত দুর্গন্ধের বিষয়ে আলোচিত হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিপর্যয় সম্পর্কে মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ভারপ্রাপ্ত ডিজিএম গোলাম ফারুক বলেন, রাতে প্রচন্ড বেগে বৈশাখী ঘূর্ণি ঝড় হয়েছে। এ ঝড়ে দুটি স্থানে তাদের ৩টি খুঁটি ভেঙ্গেছে। অসংখ্য স্থানে গাছ ভেঙ্গে পড়ে বৈদ্যুতিক তার ছিড়েও যন্ত্রাংশ ভিঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সংস্কার কাজ করে রোববার সকাল পৌনে ১১টায় কমলগঞ্জ উপজেলা সদর, শমশেরনগর, মুন্সীবাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হয়। তবে অধিকাংশ গ্রামাঞ্চলে এখনও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা যায়নি। বিদ্যুৎকর্মীরা বৈদ্যুতিক লাইন চেকআপ করার পর সেব সব অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে বলেও তিনি জানান।

Share





Related News

Comments are Closed