Main Menu

তিন ঘন্টার মাথায় ফের বরখাস্ত সিসিক মেয়র আরিফ

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম : দায়িত্ব পেয়ে নগর ভবনের চেয়ারে বসার তিন ঘন্টার মাথায় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে ফের বরখান্ত করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়।
এ সংক্রান্ত একটি চিঠি আজ রোববার বেলা ২টার দিকে সিলেট সিটি কর্পোরেশনে পৌঁছছে বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে।
এর আগে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা পেয়ে আজ রোববার সকাল ১১টার দিকে নগর ভবনে আসেন আরিফুল হক চৌধুরী। এসময় সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলরবৃন্দ, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তাকে ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানান।
মেয়র আরিফ অফিসে যোগদান শেষে একটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকতে যোগ দেন। এর পর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার খবর সিলেট সিটি কর্পোরেশনে আসে।
দীর্ঘ আইনী লড়াই চালিয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়রের পদ ফিরে পেয়েছিলেন আরিফুল হক চৌধুরী। রবিবার সকালে রীতিমতো শোডাউন করে গিয়েছিলেন নগর ভবনে। বসেন মেয়রের চেয়ারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি করপোরেশন অ্যাক্ট উপ-সচিব মো. মাহমুদুল আলম কর্তৃক সিলেট সিটি করপোরেশনে একটি ফ্যাক্স বার্তা প্রেরণ করা হয়েছে।
ওই বার্তায় বলা হয়েছে, ‘আরিফুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল মামলা-৪/২০০৯ এর সম্পূরক অভিযোগপত্র গত ২২ মার্চ আদালতে গৃহিত হয়েছে। সেহেতু সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে স্থানীয় সরকার বিভাগ আইন ২০০৯ এর ১২ উপধারা প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।’
ওই বিশেষ ট্রাইব্যুনাল মামলাটি হচ্ছে প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের জীবদ্দশায় দিরাইয়ে একটি জনসভায় বোমা হামলার মামলা।
২০১৩ সালের ১৫ জুন সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে বিজয়ী হন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী। নির্বাচনের দেড় বছরের মাথায় তিনি জড়িয়ে পড়েন সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএম এস কিবরিয়া হত্যা মামলায়। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে সিআইডির সম্পূরক চার্জশিটে ওই মামলায় আসামি করা হয় তাকে। ওই বছরের ৩০ ডিসেম্বর হবিগঞ্জ আদালতে আত্মসমর্পন করে জামিন প্রার্থনা করেন আরিফ। আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

কারাগারে যাওয়ার পরই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন আরিফ। পরে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকায়। সেখানে প্রায় ৬ মাস হাসপাতালে থেকে তার চিকিৎসা চলে। সিলেট কেন্দ্রীয় কারগারে আসার পরও কয়েক দফায় তিনি ভর্তি হন ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। মামলার নির্ধারিত তারিখে হুইল চেয়ারে বসিয়ে তাকে নিয়ে আসা হতো আদালতে। কিবরিয়া হত্যার পর তাকে গ্রেফতার দেখানো হয় সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের জনসভায় বোমা হামলার মামলায়।
এদিকে, কারান্তরিণ হওয়ার একসপ্তাহের মধ্যে ২০১৫ সালের ৭ জানুয়ারি সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র পদ থেকে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এরপর ভারপ্রাপ্ত মেয়রের পদ নিয়ে আইনী লড়াইয়ে অবতীর্ণ হন প্যানেল মেয়র রেজাউল হাসান কয়েস লোদী ও এডভোকেট সালেহ আহমদ। অবশেষে মামলার জালে আটকা পড়ে মেয়রের চেয়ারে বসা হয়নি কারো। আরিফের অনুপস্থিতিতে দু’বছরই শূন্য থাকে মেয়রের চেয়ার।
কিবরিয়া হত্যা ও সুরঞ্জিত সেনের জনসভায় বোমা হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত ৪টি মামলায় পর্যায়ক্রমে উচ্চ আদালত থেকে জামিন লাভ করেন আরিফ। ২ বছর ৪ দিন পর চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি সবকয়টি মামলায় জামিনে মুক্ত হন তিনি। গত ১৩ মার্চ আরিফের রিটের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বরখাস্তের আদেশ ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেন। রাষ্ট্রপক্ষ এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করলে গত ২৩ মার্চ হাইকোর্টের দেওয়া আদেশই বহাল রাখেন আপিল বিভাগ।
ওই আদেশের প্রেক্ষিতে আজ রবিবার স্বাড়ম্বরে নগর ভবনে গিয়ে ফের মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। নতুন করে তার দায়িত্ব গ্রহণ উপলক্ষে নগর ভবনে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় দলীয় নেতাকর্মী ও এলাকার লোকজনদের নিয়ে বাসা থেকে নগর ভবনের উদ্দেশ্যে বের হন আরিফ। পায়ে হেঁটে নগরীর চৌহাট্টা হয়ে সকলকে নিয়ে নগর ভবনে বেলা সোয়া ১১টার দিকে পৌঁছান তিনি। এসময় সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আরিফকে ফুলেল অভর্থ্যনা জানান।

মেয়র পদ থেকে বহিষ্কার করার প্রতিক্রিয়ায় আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন,  মন্ত্রণালয় আমার দপ্তর কেড়ে নিয়েছে। কিন্তু জনগণের ভোট তো কেড়ে নিতে পারবে না। বহিষ্কার করা হলেও আমি মেয়র। জনগণের ভোটে নির্বাচিত মেয়র। তাই আমি এখন দপ্তরবিহীন মেয়র।

আরিফ বলেন, মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আমি আইনি লড়াই চালিয়ে যাবো। একইসঙ্গে জনগণের কাছেও আমি বিচার দিলাম। জনগণ ভোটের মাধ্যমে এই অবিচারের জবাব দেবে বলেও মন্তব্য করেন আরিফ।

তিনি বলেন, সংসদ সদস্যরা কোনো মামলার আসামী হলে তাদের বরখাস্ত করা হয় না। কিন্তু স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিরা মামলায় জামিনে থাকলেও বরখাস্ত করা হয়। একই দেশে দুই আইন কেনো- এমন প্রশ্ন তুলেন তিনি।

Share





Related News

Comments are Closed