Main Menu

ব্লগার রাজীব হত্যা ; দুই আসামির ফাঁসি বহাল

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক : গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার হত্যা মামলায় দুজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের প্রধান মুফতি জসীমউদ্দীন রাহমানীসহ অন্য ছয় আসামির বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডের সাজা বহাল রেখেছে হাই কোর্ট।

কারাদণ্ড পাওয়া আসামিদের শাস্তি বাড়াতে রাজীবের বাবা যে আবেদন করেছিলেন, তার পক্ষে কোনো আইনজীবী শুনানিতে না থাকায় তা খারিজ হয়ে গেছে।

নিম্ন আদালতের দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষে বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের হাই কোর্ট বেঞ্চ রোববার এই রায় দেয়।

ঢাকার একটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর আলোচিত এ মামলায় আসামিদের যে সাজা দিয়েছিল, হুবুহু তাই বহাল রাখা হয়েছে হাই কোর্টে।

হাই কোর্টেও সব আসামির সর্বোচ্চ সাজার রায় না পেয়ে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন রাজীবের বাবা ডা. নাজিম উদ্দিন। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেছেন, এই রায়ে তিনি ন্যায়বিচার পাননি।

যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ সাজার দাবিতে শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলন শুরুর ১০ দিনের মাথায় ২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মিরপুরের কালশীতে নিজের বাসার কাছে চাপাতি হামলায় খুন হন আহমেদ রাজীব হায়দার।

গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী রাজীব পেশায় ছিলেন একজন স্থপতি। উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তির স্বরূপ উন্মোচনে অনলাইনে লেখালেখিতে সক্রিয় ছিলেন তিনি।

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, নিষিদ্ধ সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের প্রধান মুফতি জসীমউদ্দীন রাহমানীর উগ্রবাদী শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হয়ে নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাত ছাত্র মিলে ওই হত্যাকাণ্ড ঘটায়।

রাজীবের পর গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী, ব্লগার, লেখক-প্রকাশক মিলে আরও কয়েকজনের হত্যাকাণ্ডে আনসারুল্লাহর সম্পৃক্ততা পুলিশের তদন্তে উঠে আসে। এর মধ্যে কেবল রাজীব হত্যা মামলারই রায় এসেছে আদালতে।
রেদোয়ানুল আজাদ রানা ও ফয়সাল বিন নাঈম দীপ: মৃত্যুদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা। মাকসুদুল হাসান অনিক: যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড। এহসান রেজা রুম্মান, নাঈম ইরাদ ও নাফিজ ইমতিয়াজ: ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড। মুফতি মো. জসীমউদ্দিন রাহমানী: পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং দুই হাজার টাকা জরিমানা; অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড। সাদমান ইয়াছির মাহমুদ: ৩ বছরের কারাদণ্ড এবং দুই হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড।

আসামিদের মধ্যে রানা নিম্ন আদালতের রায়ের পর পলাতক থাকায় আপিল করার সুযোগ পাননি। কারাগারে থাকা বাকি সাতজনই আপিল করেন।

ফাঁসির আসামি রানা হাই কোর্টে এ মামলার শুনানি শেষ হয়ে যাওয়ার পর গত ২০ ফেব্রুয়ারি পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট ঢাকার বিমানবন্দর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।

Share





Related News

Comments are Closed