সুনামগঞ্জে বাঁধ ভেঙে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সুনামগঞ্জে গত তিন দিনের টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে হাজার হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান।
শুক্রবার সকাল পর্যন্ত হাজার হাজার হেক্টর জমির ধান ডুবে গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে; যার আর্থিক ক্ষতি প্রায় ১২ কোটি টাকা।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সোনাতলা কাইক্কার দাইর হাওরের ২০০ হেক্টর জমির বোরো ফসল তলিয়ে গেছে। গতকাল সকাল থেকে দিরাই উপজেলার বরাম হাওরের কাদিরপুর-সংলগ্ন তুফানখালী বাঁধ ভেঙে হাওরে পানি ঢুকতে শুরু করেছে।
স্থানীয় কৃষকরা বাঁশ, বস্তা সংগ্রহ করে পানি আটকানোর চেষ্টা করছে। এ হাওরে তিন হাজার ২০০ হেক্টর জমি রয়েছে। এ ছাড়া ধর্মপাশা উপজেলার টগার হাওর, বোয়ালিয়া, শালদিঘা, কাইল্যানিসহ কয়েকটি উপজেলার হাওরসহ জেলার অন্তত ১৩৩টি হাওরের ফসল ঝুঁকিতে রয়েছে। অন্যান্য হাওরে বিভিন্ন স্থান দিয়ে পানি ঢুকছে বলে কৃষক ও জনপ্রতিনিধিরা জানান।
সংশ্লিষ্ট এলাকার কৃষকদের অভিযোগ, সুনামগঞ্জের পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দিয়ে গঠিত প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) ও ঠিকাদাররা সময়মতো বাঁধ মেরামত না করার কারণে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, তিন দিন ধরে সুনামগঞ্জে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বৃদ্ধি পেয়েছে পাহাড়ি ঢলও। এর ফলে হাওরে পানির চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঝুঁকির মুখে পড়েছে ১৩৩টি হাওরের কাঁচা বোরো ধান।
এলাকাবাসী জানায়, কংস নদের পানির চাপে গত বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে ডুবাইল, মারাধারিয়া, চাদরা, কাইলানী পেরের খেও, উইরবন্ধ হাওরসহ ছোট-বড় ১০টি হাওরের প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমির বোরো ফসল তলিয়ে যায়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে বৌলাই নদের পানির চাপে উপজেলার চামরদানী ইউনিয়নের ফাঁশুয়া হাওর ও এর লাগোয়া গুরমার হাওরে পানি ঢুকে প্রায় তিন হাজার হেক্টর জমির বোরো তলিয়ে গেছে।
জানা যায়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে পানি উন্নয়ন বোর্ড ৪৮টি হাওরের বোরো ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ মেরামত, সংস্কার ও নতুন বাঁধ নির্মাণে ৫৫ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছিল। গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর কাজ শুরুর কথা থাকলেও কাজ শুরু হয়েছিল এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে। ফলে এখনো বাঁধের কাজ শেষ হয়নি। কোনো কোনো বাঁধে এখনো মাটি ফেলা হয়নি।
শুক্রবার সকালে ধর্মপাশা উপজেলার সুখাইর রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের ডুবাইল হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধে মাটি না দেওয়ায় পানি ঢুকে ফসল তলিয়ে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড একজন ঠিকাদারকে বাঁধ নির্মাণের দায়িত্ব দিয়ে নিজেরাই তদারকির দায়িত্ব নিয়েছিল। ওই ঠিকাদার কাজ না করায় পানি ঢুকে ফসল তলিয়ে গেছে বলে কৃষকরা অভিযোগ করেছে।
Related News
শান্তিগঞ্জে ৮ বছর ধরে অকেজো কোটি টাকার সোলার প্যানেল, রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও প্রশ্ন
সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা: বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য শান্তিগঞ্জ উপজেলার প্রশাসনিক ভবনের ছাদে বসানো এক কোটি ৪৭ লাখRead More
দিরাইয়ে টিনের চালে ষাঁড়, কৌতূহল উঠলো কিভাবে?
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে পথ হারিয়ে একটি ষাঁড় দোকানের টিনের চালে উঠে আটকা পড়ারRead More



Comments are Closed