Main Menu

ফটো সাংবাদিক আফতাব হত্যায় ৫ জনের ফাঁসির রায়

Manual8 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক : রাজধানীর রামপুরায় ডাকাতরা ডাকাতিকালে ফটো সাংবাদিক আফতাব আহমেদকে হত্যার দায়ে পাঁচ আসামির ফাঁসির রায় দিয়েছে আদালত।

ঢাকার চার নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আব্দুর রহমান সরদার মঙ্গলবার এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
২০১৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর রাতে পশ্চিম রামপুরা ওয়াপদা রোডে নিজের বাসায় খুন হন ফটো সাংবাদিক আফতাব আহমেদ (৭৮)।
তার গাড়ি চালক মো. হুমায়ুন কবীর মোল্লা এবং এ মামলার অপর চার আসামি বিল্লাল হোসেন কিসলু, হাবিব হাওলাদার, মো. রাজু মুন্সী ও মো. রাসেলকে ডাকাতি ও হত্যায় জড়িত থাকার দায়ে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।
অপর আসামি মো. সবুজ খানকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে রায়ে।

রায়ে বলা হয়, “সবুজ শুধু বাড়ি পাহারার দায়িত্বে ছিল। খুনের সঙ্গে সে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত ছিল না। তার বয়স ১৮। বয়স বিবেচনায় তাকে স্বল্পমেয়াদের শাস্তি দেওয়া হল।”

আসামিদের মধ্যে রাজু মুন্সী ও মো. রাসেল পলাতক। বাকি আসামিরা রায়ের সময় কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।

সাজা শুনে আসামি সবুজকে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা গেলেও সর্বোচ্চ সাজার রায় পাওয়া পাঁচ আসামিকে নির্বিকার দেখা যায়।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, “আফতাবের মত প্রবীণ ও বিচক্ষণ সাংবাদিকের এ রকম মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য এ ধরনের অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া জরুরি।”

Manual3 Ad Code

আফতাবের বড় মেয়ে আফরোজা আহমেদ বন্যা রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় গণমাধ্যমকে বলেন, “সবুজের ফাঁসি হওয়া উচিত ছিল। আর দুই পলাতক আসামিকে তাড়াতাড়ি গ্রেপ্তার করা হোক।”

২০০৬ সালে একুশে পদক পাওয়া আফতাব দীর্ঘদিন ইত্তেফাকের জ্যেষ্ঠ আলোকচিত্রী হিসাবে কাজ করেন। তার গ্রামের বাড়ি রংপুরের গঙ্গাচড়ায়। ঢাকার পশ্চিম রামপুরার ৬৩ নম্বর হোল্ডিংয়ে একটি চারতলা ভবনের তৃতীয় তলার বাসায় থাকতেন তিনি।

Manual2 Ad Code

তার দুই সন্তানের মধ্যে ছেলে মনোয়ার আহমেদ থাকেন যশোরে। আর মেয়ে আফরোজা আহমেদ তার স্বামী ফারুক আহমেদের সঙ্গে থাকেন গাজীপুরে।

২০১৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর রাতে নিজের বাসায় খুন হন ৭৮ বছর বয়সী আফতাব। পরদিন সকালে পুলিশ তার হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করে।

Manual8 Ad Code

নিহতের শ্যালক মনোয়ার আহমদ সাগর ওই ঘটনায় রামপুরা থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত চলাকালে আফতাবের গাড়ি চালক মো. হুমায়ুন কবীরসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করার সময় বাধা দেয়ার কারণেই আফতাবকে হত্যা করা হয় বলে সে সময় তদন্তকারীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়। আসামিদের মধ্যে হাবিব, বিল্লাল ও হুমায়ুন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন।

Manual1 Ad Code

তদন্ত শেষে পরের বছর ২৫ মার্চ আদালতে অভিযোগপত্র দেন র‌্যাব-৩ এর উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আশিক ইকবাল।

ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ ২০১৪ সালের ২৪ জুলাই অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচার শুরু করেন। দণ্ডবিধির ৩৯৬ ধারায় ‘ডাকাতি করতে গিয়ে হত্যার’ অভিযোগ আনা হয় ছয় আসামির বিরুদ্ধে।

ওই আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে মাস দেড়েক আগে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে আসে। আসামিপক্ষে মামলা লড়েন ঢাকা আইনজীবী সমিতির কার্যকরী পরিষদের সাবেক সভাপতি মো. বোরহান উদ্দিন।

এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২০ জনের সাক্ষ্য শোনে আদালত। আসামিপক্ষ কোনো সাক্ষী হাজির করতে পারেনি। দুই পক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে গত ২০ মার্চ বিচারক রায়ের জন্য ২৮ মার্চ দিন ঠিক করে দেন।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code