জাফলংয়ের পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর হচ্ছে না ‘ইসিএ’
বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সীমান্তের ওপারের ভারতীয় পাহাড়-টিলা থেকে প্রবাহমান জলপ্রপাত, জিরো পয়েন্ট এলাকায় ঝুলন্ত ডাউকি ব্রীজ, পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ হিমেল পানি, উঁচু পাহাড়ে গহিন অরণ্য ও নিরবতার কারণে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং এলাকাটি পর্যটকদের দারুণভাবে মোহাবিস্ট করে। পাশাপাশি পিয়াইন নদীর তীরে স্তরে স্তরে থাকা পাথরের স্তুপও পর্যটকের মন আকৃষ্ট করত।
এসব দৃশ্যপট দেখতে প্রতিদিনই দেশী-বিদেশী পর্যটকরা ছুটে আসেন এখানে। তবে পাথরখেকোদের আগ্রাসনের মুখে পর্যটক আকর্ষণ হারিয়েছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি খ্যাত পাহাড়-পাথর আর ঝর্ণাধারার এই রাজ্যটি। বোমা মেশিনের তাণ্ডবে ক্ষতবিক্ষত হয়েছে এখানকার ভূমি আর নদী। যত্রতত্র পাথর উত্তোলনের ফলে রূপ হারিয়েছে পিয়াইন নদী। অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন অব্যাহত থাকায় ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে পুরো এলাকা।
জাফলংকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে ২০১২ সালে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করে উচ্চ আদালত। ২০১৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ হয়। তবে গেজেট প্রকাশিত হলেও স্থানীয়ভাবে তা বাস্তবায়নে নেই জোরালো কোন পদক্ষেপ। তাছাড়া ইসিএ ঘোষণার সিদ্ধান্ত বাস্তবে কার্যকর হচ্ছে না। ফলে অবাধে চলছে পাথর উত্তোলন। গর্তে চাপা পড়ে ঘটছে হতাহতের ঘটনা।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)-এর সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট শাহ সাহেদা আখতার জানান, ২০১০ সাল থেকে জাফলংয়ে বোমা মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলনের ওপর হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আদালতের নিষেধাজ্ঞার পরও পাথর তোলার ক্ষেত্রে আদালতের নিদের্শনা মানা হচ্ছে না। তাছাড়া জাফলংকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তারও অভিযোগ আনেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘জাফলংকে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা হলেও সেখানে বন্ধ হচ্ছে না পরিবেশ বিধ্বংসী কার্যক্রম। পাথর উত্তোলনের নামে ধ্বংস করে দেয়া হচ্ছে পর্যটন সমৃদ্ধ এই এলাকার পরিবেশ ও প্রতিবেশ। প্রশাসনের নিস্ক্রিয়তার কারণে জাফলংয়ে অবৈধ বোমা মেশিন, শ্যালো মেশিন ও পেলোডারের ব্যবহার বন্ধ করা যাচ্ছে না। এতে পরিবেশ ধ্বংসের পাশাপাশি শ্রমিকদের হতাহতেরও ঘটনা ঘটছে। গত প্রায় এক মাসে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করতে গিয়ে জাফলংয়ে নিহত হয়েছেন ৭ শ্রমিক।’ কিন্তু এসব ঘটনায় পাথরখেকোদের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ইসিএ গেজেটে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত হতে সারি-গোয়াইনঘাট নদীর সংযোগস্থল পর্যন্ত প্রবাহমান জাফলং-ডাউকী নদীকে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা সমীচীন’। গোয়াইনঘাট উপজেলার আলীরগাঁও ও পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের ১১টি মৌজা নিয়ে মোট ১৪.৯৩ বর্গ কিলোমিটার এলাকাকে নিয়ে ইসিএ ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষিত এলাকার মধ্যে রয়েছে-জাফলং-ডাউকি নদী এবং এ নদীর উভয় পাড় থেকে ৫০০ মিটার প্রস্থের এলাকাসহ বল্লাঘাটের বিপরীত দিকে পিয়াইন নদী পর্যন্ত বিস্তৃত পুরো খাসিয়াপুঞ্জি এলাকা।
গেজেটে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট ইসিএ ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনেরও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ অনুযায়ী সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার ইসিএ কমিটির সভাপতি হবেন। আর সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন পরিবেশ অধিদফতরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক। গেজেট প্রকাশের পর গত বছর কাগজে-কলমে বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে চারটি কমিটি গঠন করা হলেও তাদের কোন তৎপরতা নেই। রয়েছে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগও।
Related News
সিলেটের তামাবিল হাইওয়ে পুলিশের চার সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটে চোরাচালানবিরোধী অভিযানে পর্যটকদের হয়রানি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সিলেট হাইওয়েRead More
ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষায় গড়ে তুলতে হবে : এমপি লুনা
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেছেন, একটি শিক্ষিত ওRead More



Comments are Closed