দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাসে পূর্বপ্রস্তুতি অত্যন্ত জরুরি : অর্থমন্ত্রী
বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এমপি বলেছেন, দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় পূর্বপ্রস্তুতি অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় বড়ধরণের দুর্যোগ হলে আমরা বিপদে পড়ে যাবো।
তিনি বলেন, যদিও ঘনবসতির ঝুঁকির তুলনায় বাংলাদেশে অগ্নিকান্ড ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখনও অনেক কম। এটা আমাদের ভাগ্য বলা যেতে পারে। আলাহর রহমত আমাদের উপর আছে। তাই, বড়ধরণের দুর্যোগ থেকে রক্ষা পাচ্ছি।
বৃহস্পতিবার সিলেটে “সচেতনতা, প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতি, ভূমিকম্প দুর্যোগ মোকাবিলার সর্বোত্তম উপায়“ শীর্ষক দিনব্যাপি সেমিনারের সমাপনি অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, সিলেট এর আয়োজনে দিনব্যাপি এ সেমিনারে ভূমিকম্প ঝুঁকি হ্রাস ও ক্ষয়ক্ষতি রোধে করণীয় বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়।
অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্যে আরও বলেন, বাংলাদেশে ফায়ার সার্ভিসের যান্ত্রিক ও জনবল ব্যবস্থা অত্যন্ত অপ্রতুল। আমাদের ভাগ্য সুপ্রসন্ন। গায়ে গায়ে গড়ে ওঠা ঘরবাড়ি, অলিগলি, রান্নাবান্নার ব্যবস্থা। এতকিছু সত্তে¡ও আমাদের দেশে গত কয়েক বছরে আগুন খুব বেশি লাগে না। নির্দিষ্ট কিছু ঘটনা ঘটেছে।
তিনি বলেন, যদিও খুব প্রস্তুতি নেই, তবে ফায়ার নিয়ন্ত্রিত আছে। এটা আমাদের ভাগ্য বলা যেতে পারে। নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে খুব অসুবিধায় পড়তে হবে। ভূমিকম্পসহ সবধরণের দুর্যোগ মোকাবিলায় পূর্বপ্রস্তুতি অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী।
সেই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সিলেটের এই আলোচনা সভা কাজে লাগবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
এর আগে সকাল ১০টা থেকে সিলেট নগরীর তালতলাস্থ বাংলাদেশ ব্যাংক ভবন হলে দিনব্যাপি সেমিনার শুরু হয়। উদ্বোধনি পর্বে আলোচকরা জানান, বাংলাদেশের মধ্যে সিলেট সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। সিলেটের খুব কাছাকাছি ডাউকি ফল্ট এর অবস্থান। এছাড়া সিলেট অঞ্চলে মাটির নিচে বিপুল পরিমাণ গ্যাস ও খনিজ পদার্থ থাকায় ঝুঁকি আরো বেশি রয়েছে। তাই, সিলেটবাসীকে বিল্ডিং কোড মেনে ভবন নির্মাণ করতে হবে। তবেই, উচ্চ ভবনে শান্তিতে ঘুমানো যাবে।
বক্তারা সম্প্রতি নেপালে সংঘটিত ভূমিকম্পে তাদের প্রস্তুতি, উদ্ধার তৎপরতা, ক্ষয়ক্ষতি ও পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয় পর্যালোচনা করে বলেন, আমাদের দেশের জনগণকে এখনই সচেতন হতে হবে। বিল্ডিং কোড মানার পাশাপাশি ভূমিকম্পসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকতে হবে।
সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জাতিসংঘস্থ বাংলাদেশ মিশনের সাবেক রাষ্ট্রদূত ড. একে আব্দুল মোমেন, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার নাজমুন আরা সুলতানা, সিলেট রেঞ্জের উপ-মহা পুলিশ পরিদর্শক মো. কামরুল আহসান বিপিএম, সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. রাহাত আনোয়ার, বাংলাদেশ ব্যাংক সিলেটের নির্বাহী পরিচালক মো. মোসলেম উদ্দিন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) লে. কর্ণেল মোহাম্মদ মোশাররফ হুসেন পিএসসি। স্বাগত বক্তব্য দেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সিলেট এর উপ-পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম।
মূল প্রবন্ধের উপর আলোচনা করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের সিভিল ও এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. জহির বিন আলম।
কামরুল আহসান বলেন, ভূমিকম্পে তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয় না, ক্ষতি হয় প্রস্তুতি ও সচেতনতার অভাবে। সরকার ফায়ার সার্ভিসের কার্যক্রম বিস্তৃতি করছে। প্রশিক্ষণ বাড়ানো ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ক্রয় করা হয়েছে। তবুও আমাদের অনেক কিছু করণীয় আছে।
তিনি আরও বলেন, অনেকে সচেতনভাবে অপরাধ করে থাকে। এ ব্যাপারে আমাদের নজরদারি বাড়াতে হবে। বিল্ডিং কোড না মানলে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
জহির বিন আলম বলেন, সিলেটে ভূমিকম্প ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অনেক। তবে, এখন যেসব ভবন নির্মাণ হচ্ছে সেগুলো বিল্ডিং কোড মেনেই হচ্ছে। এতে বোঝা যাচ্ছে সিলেটের মানুষ এখন অনেকটা সচেতন হয়েছেন।
তিনি বলেন, সিলেটে বিদ্যুতের দক্ষ কারিগর কম। যে কারণে ঘনঘন বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটছে। এক্ষেত্রে সিলেটবাসীকে সচেতন হওয়া দরকার আছে।
দুর্যোগ বিষয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয় প্রতি বছর শিক্ষার্থীদের গবেষণায় উদ্বুদ্ধ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, সিলেট ভূমিকম্পের একটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। সচেতন থাকতে হবে। অন্যথায়, যে কোন সময় অঘটন ঘটতে পারে।
জহির বিন আলম বলেন, সিলেটের পাশ দিয়ে ডাউকি ফল্ট লাইন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। জাপানি এক গবেষকের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, সিলেটে যেকোন সময় ৭ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্প হতে পারে। তিনি বলেন, বিল্ডিং কোড মেনে ভবন নির্মাণ করলে রাতে শান্তিমত ঘুমাতে পারবেন। তাই, সিলেটবাসীকে নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।
মূল প্রবন্ধে মোশাররফ হোসেন সারাদেশে ভূমিকম্প ঝুঁকির প্রেক্ষাপট ও সার্বিক প্রস্তুতি বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি ফায়ার সার্ভিসসহ সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয় তুলে ধরেন।
আরবান কমিউনিটি ভলান্টিয়ারু অব এফএসসিডি এর আওতায় সিলেটসহ সারাদেশে ৩৩ হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। মোশাররফ হুসেন বলেন, ফায়ার সার্ভিসের নিজস্ব জনবল ছাড়াও বর্তমানে পাঁচহাজার কর্মী প্রশিক্ষণ চলছে। এছাড়া সরকার ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপন ও উদ্ধার তৎপরতার জন্য প্রচুর পরিমাণে উন্নত যন্ত্রপাতি ক্রয় করছে।
সেমিনারের দ্বিতীয় পর্বে অংশগ্রহণকারিদের গ্রæপ পর্বে উঠে আসা দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে করণীয় বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়।
Related News
সিলেটে ‘একতাবদ্ধ সিলেটবাসী’র বিক্ষোভ সমাবেশ শুক্রবার
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার কমিটির সংস্কার এবং দৈনন্দিন হিসাব-নিকাশের স্বচ্ছতা নিশ্চিত, বর্তমানRead More
মিছিলের প্রস্তুতিকালে সিলেটে ছাত্রলীগের ৩০ নেতাকর্মী আটক
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় মিছিলের প্রস্তুতিকালে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ৩০ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।Read More



Comments are Closed