Main Menu

যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীকে নির্যাতন, স্বামী আটক

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সিলেট বিমান বন্দর থানার খাদিমনগর এলাকার টিলাপাড়া গ্রামে স্ত্রীকে নির্যাতন করে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার সময় স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার ভোর রাতে শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমান বন্দর থেকে তাকে আটক করা হয়। আটককৃত জৈন উদ্দিন (৩৬) গোয়াইনঘাট উপজেলার জাঙ্গাইল বীরকুলি গ্রামের নুর মিয়ার ছেলে। বৃহস্পতিবার বিমান বন্দর থানা পুলিশ আটক জৈন উদ্দিনকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সুত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালে বিমান বন্দর থানার খাদিমনগর ইউনিয়নের টিলাপাড়া গ্রামের আব্দুল মনাফের মেয়ে নাজমা বেগমের বিয়ে হয় গোয়াইনঘাট উপজেলার জাঙ্গাইল বীরকুলি গ্রামের নুর মিয়ার ছেলে জৈন উদ্দিনের সাথে। বিয়ের পর তাদের পর তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান জন্ম হয়। এক পর্যায়ে পরিবারের তাগিদে জৈন উদ্দিন বিদেশে চলে যান। সম্প্রতি দেশে এসে স্ত্রী নাজমা বেগমকে মারধর করে দ্বিতীয় বিয়ে করার জন্যে জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেন। পরবর্তীতে এলাকার মুরব্বীদের সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে সেই স্ট্যাম্প উদ্ধার করা হয়। তারপর জৈন উদ্দিন ঘর বানানোর কথা বলে স্ত্রী নাজমা বেগম ও তার পরিবারের কাছে ২ লক্ষ টাকা দাবী করেন। তারা টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে ফের শুরু হয় নাজমার উপর অমানুষিক নির্যাতন। খুদ স্বামী জৈন উদ্দিন স্ত্রীর পিত্রালয়ে এসেও টাকা না পেয়ে চালায় নাজমার উপর হামলা। ঘটনাটি দেখার পর নাজমার পরিবারের লোকজন স্থানীয় ইউপি সদস্য ও এলাকার মুরব্বীদেরকে বিষয়টি অবগত করেন। পরে গুরুতর অবস্থায় নাজমা বেগমকে ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু ঘটনার সুরাহা না হওয়ায় তারা ২০১৬ সালে ১৩ ডিসেম্বর বিমান বন্দর থানায় একটি এজাহার দেন। পুলিশ অভিযোগপত্রটি তদন্ত করে সাত জনকে আসামী করে পরদিন ১৪ ডিসেম্বর মামলাটি রেকর্ড করেন। মামলা নং ০৫। তারিখ ১৪.১২.১৬ইং। উক্ত মামলার অন্যান্য আসামীরা হলেন, জৈন উদ্দিনের মা ও নুর মিয়ার স্ত্রী কুলসুমা বেগম, তার বোন রমলা বেগম, দিলাই বেগম, সায়মা বেগম, বাহার বেগম ও স্থানীয় জাঙ্গাইল বীরকুলি গ্রামের চাচাতো ভাই মনির মিয়া।
এ ব্যাপারে বিমান বন্দর থানার এসআই সাব্বির জানান, নাজমা বেগমকে নির্যাতনের ঘটনায় থানায় মামলা ছিলো। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিদেশে পালানোর সময় শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমান বন্দর থেকে জৈন উদ্দিনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বিমান বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ মোশাররফ হোসাইন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

Share





Related News

Comments are Closed