ভুট্টোকে খুনের দায় থেকে অব্যাহতির সুপারিশ
বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামীর সাজার প্রক্সি দিতে গিয়ে কারাবন্দী রিপন আহমদ ভুট্টোর মুক্তির সুপারিশ করেছেন সিলেটের জেলা ও দায়রা জজ মনির আহমদ পাটোয়ারি। একই সাথে ভুট্টোসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে প্রতারণা মামলা দায়ের করতে সিলেটের জেল সুপারকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে গঠিত বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনার ভিত্তিতে রোববার এসব নির্দেশনা দেন তিনি।
নির্দেশনায় জেলা ও দায়রা জজ রিপন আহমদ ভুট্টো, আইনজীবী শাহ আলম, শিক্ষানবীশ আইনজীবী শামীম আহমদ, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের দালাল লিয়াতক হোসেনের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি আইনজীবী শাহ আলম ও শিক্ষানবীশ আইনজীবী শামীম আহমদের বিরুদ্ধে বার কাউন্সিল ও স্থানীয় বার এসোসিয়েশনকে চিঠি দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
এর আগে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ভুট্টোর মুক্তির বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা। ওই প্রতিবেদন পাওয়ার পর শনিবার জেলা ও দায়রা জজ কারাগার পরিদর্শনে আসেন। কারাগারে তিনি ভুট্টোর সাথেও কথা বলেন।
গত ৭ জানুয়ারি সিলেটের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাজী আব্দুল হান্নান ও যুগ্ম জেলা জজ মো: রেজাউল করিমের সমন্বয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পরে ৮ জানুয়ারি ভুট্টোর জবানবন্দী নেন তদন্ত কমিটি। ওইদিন সিলেটের সিনিয়র জেল সুপারসহ ৬ জনের জবানবন্দীও গ্রহণ করা হয়। এছাড়া তদন্ত কমিটি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, মিডিয়া কর্মী, পুলিশ এবং আইনজীবীদেরও বক্তব্য গ্রহণ করেছে।
সিনিয়র জেল সুপার ছগির মিয়া আরও জানান, ২০১৫ সালের ১১ নভেম্বর ইকবাল হোসেন বকুল নামের যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ওই আসামী কারাগারে আসে। এক বছর কারাগারে অবস্থানের পর সে জানায়, তার নাম বকুল নয়। তার আসল নাম রিপন আহমদ ভুট্টো এবং তার পিতার মৃত সোলায়মান। এরপর থেকে বিষয়টি মিডিয়ায় আসে।
২০০৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সিলেট শহর থেকে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হন-সিলেট সদর উপজেলার মোগলগাঁও ইউনিয়নের চানপুর গ্রামের পশ্চিমপাড়ার চেরাগ আলীর পুত্র আলী আকবর সুমন (২৪)। পরে পাশ্ববর্তী হাওর থেকে আলী আকবর সুমনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তিনি জনের যাবজ্জীবন সাজা হয়।
তারা হচ্ছে-সিলেট সদর উপজেলার হাউসা গ্রামের মৃত মছকন্দর আলীর পুত্র দরাছ মিয়া উরফে গয়াছ (৩৪) ও তার স্ত্রী রুজিনা বেগম (৩২) এবং একই গ্রামের আব্দুল মতিনের পুত্র মোঃ ইকবাল হোসেন বকুল (২৬)। এই ইকবাল হোসেন বকুলের পরিবর্তে বর্তমানে কারাভোগ করছেন নগরীর আম্বরখানা সৈয়দ মুগনী এলাকার ট্রাক চালক রিপন আহমদ ভুট্টো। অভিযোগ রয়েছে, আসামী বকুলের স্বজনরা ভট্টোকে ফুসলিয়ে কারাগারে যেতে উদ্বুদ্ধ করেন। ২০১৫ সালের ১১ অক্টোবর আদালতে আত্মসমর্পণ করে ইকবাল আহমদ ভুট্টো। তখন নিজেকে হত্যা মামালার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামী ইকবাল আহমদ বকুল পরিচয় দিয়ে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। তখন আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠান। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই রয়েছেন। কারাভোগের ১ বছর ২ মাস পর গেল ডিসেম্বরের শেষের দিকে ভুট্টো কারা কর্তৃপক্ষকে জানান, তিনি আসলে বকুল নন। তার আসল পরিচয় ভুট্টো। তিনি পেশায় একজন ট্রাক চালক।
রিপন আহমদ ভুট্টোর বদলা কারাবরণ নিয়ে স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হলে শুরু হয় তোলপাড়। নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। উৎসুক হয়ে উঠেন পাঠকরা। এরপর বিভিন্ন টেলিভিশন ও বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রচার করে। মূল আসামী ইকবাল হোসেন বকুল বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করছে বলে তার পরিবার দাবি করছে। অন্যদিকে, মুক্তির জন্য ছটফট করছে রিপন আহমদ ভুট্টো। যে গণমাধ্যমই সংবাদ সংগ্রহের জন্য কারাগারে যাচ্ছে- সুযোগ পেলে তাদের কাছে চোখের জল ফেলে মুক্তির জন্য সরকারের কাছে আকুতি জানাচ্ছে।
Related News
হবিগঞ্জে শিশুকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: ২ জনের ৩ বছরের কারাদন্ড
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জে মাদ্রাসার এক শিশুশিক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় দুইRead More
ড. জাফর ইকবালের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় উসকানির অভিযোগে সাবেক উপাচার্যRead More



Comments are Closed