Main Menu

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারি শাকিল আর নেই

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারি মাহবুবুল হক শাকিল আর নেই। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মঙ্গলবার দুপুরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৪৮ বছর।

রাজধানীর গুলশানে একটি রেস্টুরেন্টে দুপুরের খাবার খাওয়ার সময় তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসক ডাকা হয়। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। পরে তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-প্রচার সম্পাদক আজিজুল হক রানা সংবাদ মাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

আজিজুল হক রানা জানান, রাজধানীর গুলশান ২ নম্বরের ওয়েস্টিন হোটেলের পিছনে সানদাদো রেস্টুরেন্টে দুপুর আড়াইটার দিকে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রচণ্ড বুকে ব্যথা শুরু হলে সেখানেই চিকিৎসক ডাকা হয়। ওই চিকিৎসকই তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মরদেহ বর্তমানে ইউনাইটেড হাসপাতালে রাখা আছে।

মাহবুবুল হক শাকিল ১৯৬৮ সালে ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করেন। ছাত্রলীগের একসময়ের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিনিয়র সহ-সভাপতি ছিলেন এ ছাত্রনেতা।

বাবা আইনজীবী ও মা শিক্ষক। আইনজীবী স্ত্রী ও শাকিলের সংসারে একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে।

শাকিল আওয়ামী লীগের গেলো মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারি (মিডিয়া) ও উপ-প্রেস সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। টানা দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে বিশেষ সহকারি করেন।

শাকিল একজন কবি হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। তার অনেক কবিতাই বোদ্ধা মহলে বেশ প্রশংসিত। তিনি মনে করতেন, ‘আমার কবিতার যে অডিয়েন্স, তারা আমার রাজনৈতিক পরিচয়কে ভুলে গিয়েই, হয়তো কারণে অকারণেই আমার কবিতাকে ভালোবাসেন। আমার কবিতা পড়েন এবং কবি হিসেবে অবশ্যই তখন আমি ধন্য হই।’

মারা গেছেন মাহবুবুল হক শাকিল। হঠাৎ করে পাওয়া এ সংবাদটি কেউ বিশ্বাস করেছেন, কেউ বিশ্বাস করতে পারছেন না। এভাবে তো হঠাৎ করে চলে যাওয়ার কথা ছিলো না মাহবুবুল হক শাকিলের। দিব্যি সুস্থই তো ছিলেন। সংবাদ মাধ্যমে উঠে আসা তথ্যে জানা গেছে রাজধানীর গুলশানে একটি রেস্তোরাঁয় দুপুরের খাবার খাচ্ছিলেন। হঠাৎই হৃদরোগে আক্রান্ত হন, ঢলে পড়েন মৃত্যুর কোলে। কারো কল্পনাতেই ছিলো না হঠাৎ করে মৃত্যু এভাবে এসে ছুঁয়ে দিয়ে যাবে মাহবুবুল হক শাকিলকে।
কারো কল্পনাতে ছিলো না, কিন্তু মাহবুবুল হক শাকিলের ভাবনায় হয়তো মৃত্যু ধরা দিযেছিলো। নইলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তার শেষ ভাবনা কেনো হবে মৃত্যু নিয়েই। ফেসবুকে তার সর্বশেষ স্ট্যাটাসটিই মৃত্যু বিষয়ক একটি কবিতা। তার মৃত্যুর সংবাদটি যখন প্রচারিত হয় তখন তার টাইমলাইনে জ্বলজ্বল করছে একটি কবিতা। যা তিনি ১৬ ঘণ্টা আগে পোস্ট করেছিলেন।
কবিতাটির মাঝে মৃত্যুর ছায়া স্পষ্ট করেই ফুটে উঠেছে। পাঠক কবিতাটি গভীরভাবে পড়লে অনুভব করতে পারবেন কেউ একজন অধীর হয়ে মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করছেন। সে মৃত্যুর কাছেই ১৬ ঘন্টা পর ধরা দিলেন মাহবুবুল হক শাকিল।

পাঠকের জন্য মাহবুবুল হক শাকিলের শেষ ফেসবুক স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে দেওয়া হলো।

এলা, ভালবাসা, তোমার জন্য

কোন এক হেমন্ত রাতে অসাধারণ
সঙ্গম শেষে ক্লান্ত তুমি, পাশ ফিরে শুবে।
তৃপ্ত সময় অখন্ড যতিবিহীন ঘুম দিবে।
তার পাশে ঘুমাবে তুমি আহ্লাদী বিড়ালের মতো,
তার শরীরে শরীর ছুঁয়ে ছুঁয়ে, মাঝরাতে।
তোমাদের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকবে এক প্রগাঢ় দীর্ঘশ্বাস,
আরো একবার তোমাদের মোথিত চুম্বন দেখবে বলে।
মৃতদের কান্নার কোন শব্দ থাকে না, থাকতে নেই,
নেই কোন ভাষা, কবরের কোন ভাষা নেই।
হতভাগ্য সে মরে যায় অকস্মাৎ বুকে নিয়ে স্মৃতি,
তোমাদের উত্তপ্ত সৃষ্টিমুখর রাতে।ভালবাসা, তোমার জন্য
———————-
কোন এক হেমন্ত রাতে অসাধারণ
সঙ্গম শেষে ক্লান্ত তুমি, পাশ ফিরে শুবে।
তৃপ্ত সময় অখন্ড যতিবিহীন ঘুম দিবে।
তার পাশে ঘুমাবে তুমি আহ্লাদী বিড়ালের মতো,
তার শরীরে শরীর ছুঁয়ে ছুঁয়ে, মাঝরাতে।
তোমাদের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকবে এক প্রগাঢ় দীর্ঘশ্বাস,
আরো একবার তোমাদের মোথিত চুম্বন দেখবে বলে।
মৃতদের কান্নার কোন শব্দ থাকে না, থাকতে নেই,
নেই কোন ভাষা, কবরের কোন ভাষা নেই।
হতভাগ্য সে মরে যায় অকস্মাৎ বুকে নিয়ে স্মৃতি,
তোমাদের উত্তপ্ত সৃষ্টিমুখর রাতে।

Share





Related News

Comments are Closed