Main Menu

সুনামগঞ্জের পর্যটন কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্প আলোর মুখ দেখতে শুরু করেছে

হাবিব সরোয়ার আজাদ, সুনামগঞ্জ থেকে: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পর্যটন কেন্দ্র স্থাপনে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরবাসীকে দেয়া প্রতিশ্রতি এবার আলোর মুখ দেখতে শুরু করেছে। ২০১০ সালের ১০ নভেম্বর তাহিরপুরের এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব ঐতিহ্যের প্রতীক দেশের দ্বিতীয় সুন্দরবন খ্যাত তাহিরপুরের গাছ মাছ হিজল করচ সবুজ বৃক্ষরাজী সমৃদ্ধ টাঙ্গুয়ার হাওর, টেকেরঘাট চুনাপাথর খনি প্রকল্পের পতিতভুমি ও ওপারের মেঘালয় পাহাড়ের বুক চিরে বেড়িয়ে আসা রুপের নদী জাদুকাঁটার তীরবর্তী বারেকটিলা কেন্দ্রীক একটি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার প্রতিশ্রতি দিয়েছিলেন।
জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের দায়িত্বশীল একটি সুত্র জানায়, দেশ-বিদেশের ভ্রমণ পিপাসুরা ও বিভিন্ন কলেজ বিশ্ব-বিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত ষ্টাডি ট্যুরে আসছেন তাহিরপুর সীমান্তের পাহাড়, টিলা, দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ব চুনাপাথর খনি প্রকল্প ও টাঙ্গুয়ার হাওরের নীর জলরাশীর বুখে। তাহিরপুরে ভ্রমণে এসে পর্যটকরা থাকা-খাওয়া ও যাতায়াত ব্যবস্থার নাজুক পরিস্থিতির কারনে বিরম্ভনা ও দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতেই প্রধানমন্ত্রী তাহিরপুরে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার প্রতিশ্রতি দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রতির আলোকে সারা দেশের ২৭ পর্যটন কেন্দ্রকে আরো আর্কষণীয় করে তোলার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন এবং বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড তাহিরপুরের টেকেরঘাট ও সীমান্তনদী জাদুকাঁটা ঘেষা বারেকটিলাকে পর্যটন কেন্দ্রের সুবিধায় আনতে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
সিলেটের বিছনাকান্দি ও রাতারগুল, সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের টাঙ্গুয়ার হাওর, টেকেরঘাট চুনপাথর খনি প্রকল্প ও বারেকটিলাসহ দেশের ২৭টি আকর্ষণীয় পর্যটন স্থানকে আরও দৃষ্টিনন্দন করতে বাড়ানো হচ্ছে পর্যটকদের জন্য সুযোগ-সুবিধা। যাতে করে দেশি পর্যটকের পাশাপাশি বিদেশি পর্যটকরাও এসব স্থানে ভ্রমনে উদ্বুদ্ধ হন।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন এবং বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড’র একটি সুত্র এ প্রতিনিধিকে নিশ্চিত করেছে দেশের আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র বিছনাকান্দি, রাতারগুল, টেকেরঘাট, বারেক টিলা, রাণী ভবানী, পানাম নগর, ময়নামতি, মেঘলা, মহাস্থানগড়, পাহাড়পুর, কক্সবাজার, বিজয়পুর, কুয়াকাটা, হালুয়াঘাটসহ ২৭টি পর্যটন স্থানের উন্নয়ন করা হবে। পর্যটন সুবিধার লক্ষ্যে চারটি ট্যুরিস্ট কোচ, চারটি মাইক্রোবাস ও ২৪ সেট উন্নত মানের ক্যামেরা ও নৌ-যান ক্রয় করা হচ্ছে। পর্যটকদের সুবিধার জন্য উল্লেখিত দর্শনীয় পর্যটন স্পটগুলোয় এয়ারলাইনস, বাস, শিপিং, হোটেল, রেস্তোরাঁ, ব্যাংক ও অন্যাঅন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ট্যুর অপারেটর সুবিধা দেয়া হবে। পর্যটকদের জন্য এসব স্থানে ট্রাভেল এজেন্ট, কার রেন্টাল ফার্ম, ক্যাটারার, হস্তশিল্প ও কৃষিপণ্য খুচরা বিক্রির প্রসার ঘটানো হবে। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আবাসন সমস্যা হ্রাসে নির্মাণ করা হবে স্থাপনা। নিশ্চিত করা হবে স্যানিটেশন ও পানি সরবরাহ।
জেলা প্রশাসক শেখ মো. রফিকুল ইসলাম সোমবার এ প্রতিবেদককে জানান, ইতিমধ্যে তাহিরপুরের বারেকটিলায় ৩০ একর জায়গা একোয়ার করা হয়েছে, ৮ কোটি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে স্থাপনা নির্মাণের জন্য।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব (পর্যটন) জ্যোতির্ম্ময় বর্ম্মন জানান, প্রাথমিকভাবে সুনামগঞ্জের টেকেরঘাট ও বারেকটিলা সহ দেশের ২৭টি আকর্ষণীয় স্থানে আমরা সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করবো। দেশীয় পর্যটকের পাশাপাশি যেন বিদেশি পর্যটকরাও নির্বিঘ্নে ভ্রমণ করতে পারেন। সড়ক যোগাযোগের পাশাপাশি উন্নত মানের আবাসন সুবিধা, স্যানিটেশন ও পানি সরবরাহ বৃদ্ধি করা হবে। আমরা দেশি-পর্যটকদের পাশাপাশি যদি বিদেশি পর্যটকদের সুবিধা বাড়াতে পারি তবে অর্থনীতিতে অনেক অবদান রাখতে পারবো।

Share





Related News

Comments are Closed