কানাইঘাটে কুমারী মাতার মামলা নিয়ে তোলপাড়
বিশেষ প্রতিনিধি: সিলেটের কানাইঘাটে কুমারী মাতার অপকর্মের ফসল দিয়ে প্রবাসী পরিবারকে মামলায় ফাসিয়ে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ১০ নভেম্বর কানাইঘাট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে এ মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলায় একই পরিবারের স্বামী-স্ত্রীসহ ৪জনকে আসামী করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামী বর্তমানে দেশের বাইরে রয়েছেন। প্রবাসী পরিবারের অভিযোগ, কুমারী মাতার বিয়ের খরচ দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় ‘মিথ্যা’ মামলায় তাদের হয়রানী করা হচ্ছে। এ নিয়ে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কানাইঘাট উপজেলার ৩নং দিঘীরপার ইউনিয়নের পশ্চিম দর্পনগরের পূর্ব কোণাগ্রামের এবাদুর রহমানের কুমারী মেয়ে মারজানা বেগম (১৮) গত ২০ অক্টোবর এক ছেলে সন্তানের জন্ম দেয়। এর আগে সে তার বাড়ির মরহুম জামাল উদ্দিনের বিধবা জহিরুন নেছার ঘরে থেকে তার সেবা সুশ্র“জা করতো। জহিরুন নেছার প্রবাসী ছেলে বাবুল আহমদ ও বাবুলের প্রয়াত বোন আনোয়ারা তাদের বৃদ্ধা মায়ের সেবায় তাকে নিয়োজিত করেছিল। একই বাড়ির ও একই গোত্রীয় মেয়ে হওয়ায় মারজানা তার চাচী জহিরুন নেছার ঘরে থাকার পাশাপাশি মাঝেমধ্যে মা-বাবার ঘরেও থাকতো। কখনো চাচা আইনজীবি সহকারী মাশুক উদ্দিনের সিলেটের বাসায় ও সড়কের বাজারস্থ বাসায়ও বেড়াতে যেতো। গরীব পরিবারের মেয়ে মারজানা শিশু বয়সে লেখাপড়ার সুযোগ পায়নি। বয়স বেশী হয়ে গেলেও লেখাপড়া শেখাতে তাকে স্কুলে ভর্তি করে দেন জহিরুনের বড় মেয়ে আনোয়ারা বেগম। কিছুদিন সে আনোয়ারার স্বামী আব্দুল মালিকের বাড়িতেও ছিল। আনোয়ারা মারা গেলে মারজানা সেখান থেকে নিজ বাড়িতে চলে আসে এবং বেতনে চাচী জহিরুন নেছার সেবায় নিয়োজিত থেকে স্থানীয় সড়কের বাজার স্কুলেও যাতায়াত করতে থাকে। একই বাড়ি ও পাশপাশি ঘরের মেয়ে হওয়ায় মা-বাবার ঘরেও আসা-যাওয়া করতো এবং থাকতো সে। মারজানার দুই ভাই আকরাম ও ইকবাল সিএনজি অটোরিক্সা চালক। সেই সুবাদে মারজানার ফুফুতো ভাই অটোরিক্সা চালক সাইদুল এবং সাইদুলের চাচাতো ভাই আলকাছ উদ্দিনসহ তাদের বন্ধু ড্রাইভাররা তাদের বাড়িতে আসা যাওয়া ও থাকা খাওয়া করতো।
এলাকাবাসীর অভিযোগ এবাদুর রহমার পরিবারের নৈতিক অবস্থা ভাল না থাকায় তাদের ঘরবাড়িতে পর-পুরুষের আনাগোনা লেগেই থাকতো। মারজানা সড়কের বাজার হাইস্কুলের ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী হলেও তার বর্তমান বয়স ১৮ থেকে কম নয়। ফুফুত ভাই সাইদুল ও সাইদুলের চাচাতো ভাই আলকাছের সাথে মারজানা পরিবারের ঘনিষ্টতা থাক্য়া তাদের কোন এক জনের সাথে মন দেয়া-নেয়া চলছিল মারজানার। এক পর্যায়ে সবার অগোচরে মারজানা অন্তঃসত্তা হয়ে পড়লে গৃহকর্তী জহিরুনের ছেলে বাবুলের কাছে বিয়ের খরচ বাবদ মোটা অংকের টাকা দাবি করে মারজানার মা-বাবা। খরচ না দিলে মারজানার অনাগত সন্তান দিয়ে তাদের ফাসিয়ে দেয়া হবে বলেও হুমকি দেয়া হয়। কিন্তু জহিরুন নেছা ও তার পুত্ররা তাদের এ আবদার মানতে রাজি হননি। একপর্যায়ে গত ২০ অক্টোবর মারজানা এক পুত্র সন্তান প্রসব করে। মারজানা ও তার পরিবারের দাবি প্রবাসী বাবুল আহমদ দেশে এসে মারজানার সাথে শারিরীক মিলন ঘটালে সে অন্তঃসত্তা হয় এবং সে ওই পুত্র সন্তান প্রসব করে। বিয়ের খরচ নিয়ে কথাবার্তা ও দেন-দরবার চলার এক পর্যায়ে ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় বাবুল গত ৭ সেপ্টেম্বর ফের সৌদী আরব পাড়ি জমান। এর প্র্য়া একমাস পর ২০ অক্টোবর মারজানা এক পুত্র সন্তান প্রসব করে। এ ঘটনায় গত ২২ অক্টোবর কানাইঘাট থানায় মামলা করতে যান মারজানার মা হোসনা বেগম। কিন্তু ঘটনার প্রাথমিক তথ্যের সত্যতা না পাওয়ায় মামলা নেয়নি থানা পুলিশ। পরে মারজানার মা হোসনা বেগম গত ২১ অক্টোবর সিলেটের বিভাগীয় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নালিশা মামলা করেন। ট্রাইব্যুনালের আদেশে ১০ নভেম্বর কানাইঘাট থানায় এ মামলা রুজু করা হয়। মামলায় প্রবাসী বাবুল আহমদের বিরুদ্ধে ধর্ষন, বাবুলের স্ত্রী শিফা বেগম, বাবুলের ভাই দুলাল ও ফারুকের বিরুদ্দে ধর্ষনে সহযোগিতার অভিযোগ এনে তাদেরও আসামী করা হয়। মামলায় ঘটনার তারিখ দেয়া হয় এ বছরের ২০ মার্চ রাত ২টা থেকে থেকে ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন তারিখ ও সময়।
প্রবাসী বাবুল আহমদের স্ত্রী শিফা বেগমের অভিযোগ, তার স্বামী দুই সন্তানের জনক বাবুল আহমদ এ বছরের ১৭ মার্চ দেশে ফিরে ১৮ মার্চ বাড়ি পৌছান। এর মাত্র দু’দিনের মাথায় রাত ২টায় স্ত্রীর ঘর ছেড়ে মারজানার বিছানায় চলে যাওয়ার কোন যুক্তি নেই। এছাড়া মারজানা তার শাশুড়ী জহিরুন নেছার ঘরে তার কাছেই থাকতো। তার থাকার জন্য আলাদা কোন কক্ষও ছিল না। এ অবস্থায় একই কক্ষে মায়ের উপস্থিতিতে মারজানাকে ধর্ষণ করার অভিযোগ পাগলের প্রলাপ বৈ কিছু নয়। এ ছাড়া স্ত্রীর সহযোগিতায় স্বামী অপর মেয়ের সাথে শারিরীক মিলন ঘটাতে পারে এবং স্ত্রীকে ধর্ষণ মামলার আসামী করারও কোন যুক্তিকতা নেই । শিফার বেগমের দাবি মারজানার সাথে অন্য কোন পুরুষের শারিরীক সম্পর্ক ছিল এবং সে সম্পর্কের ফসল তার নবজাাতক ওই সন্তান। তাইতো মারজানা পরিবার অন্যত্র বিয়ে দিতে তাদের কাছে টাকার দাবি করে। টাকার না দেয়ায় তার স্বামী দেবর ও তার বিরুদ্ধে মারজানা পরিবার এ ‘মিথ্যা’ মামলা দায়ের করেছে। মামলার উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত ও পুলিশ হেফাজতে নিয়ে মারজানা ও তার পরিবারের জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনার মূল রহস্য এবং নবজাতকের প্রকৃত জন্মদাতা বেরিয়ে আসবে বরে জানান তিনি।
সরেজমিনে গ্রাম ও এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিরা জানান, মারজানার বয়স ১৩ বলা হলেও তার প্রকৃত বয়স ১৮ থেকে কম নয়। তারা জানান, মারজানা ও তার পরিবারের নৈতিক অবস্থা ভাল নয় এবং এ সন্তান একাধিক ছেলের সাথে মারজানার অবৈধ সম্পর্ক ও অপকর্মের ফসল । এলাকাবাসী এ ঘটনা ও মামলার উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত দাবি করেন।
মারজানার ভাই আকরামের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ ব্যাপারে কোন বক্তব্য না দিয়ে চাচা আইনজীবি সহকারী মাশুক উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন।
সিলেট জেলা বারের আইনজীবি সহকারী মাশুক উদ্দিন নিজেকে মারজানার চাচা পরিচয়ে ঘটনার জন্য প্রবাসী বাবুল আহমদকে দায়ী করে জানান, অজ্ঞাত কারনে থানা পুলিশ মামলা না নেয়ায় তার সহায়তায় ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে এ মামলা হয়েছে। তিনি মারজানা প্রসুত নবজাতক শিশুটি অন্তঃসত্তা হওয়ার ২৮ সপ্তাহের পরে জন্ম হয়েছে বলে জানিয়েছেন।
Related News
জৈন্তাপুরে বাসের সাথে সংঘর্ষে প্রাণ গেল মোটরসাইকেল আরোহীর
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের জৈন্তাপুর উপজেলার শ্রিখেল মসজিদের সামনে পর্যটকবাহী বাস ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষেRead More
ওসমানীনগরে মশাল মিছিলের প্রস্তুতিকালে ৩ ছাত্রলীগ নেতা আটক
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের ওসমানীনগরে মশাল মিছিলের প্রস্তুতিকালে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের তিন নেতাকে আটক করেছে পুলিশ।Read More



Comments are Closed