শ্রীমঙ্গলে চুরি-ডাকাতি বৃদ্ধি, জনমনে আতংক
এহসান বিন মুজাহির: গত কয়েক মাস ধরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল জুড়ে চুরি, ডাকাতির ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। স্বর্ণ, মোবাইল, হার্ডওয়ার, ফাস্টফুড, কম্পিউটারের দোকান থেকে নিয়ে উপজেলার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, শিল্পপতি এমনকি সাংবাদিকদের বাসায়ও দুর্র্ধষ চুরি-ডাকাতির ঘটনা থেকে বাদ পড়েনি।
একের পর এক দুর্ধর্ষ চুরি-ডাকাতির ঘটনা যেন নিত্য নৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। শ্রীমঙ্গল চৌমোহনাস্থ ইয়াকুব শপিং মার্কেট, মৌলভীবাজার রোড, মিশন রোডের মতো স্থানে জনবহুল ও ব্যবসাবান্ধব এলাকায় পর্যাপ্ত পরিমাণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেদ করে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ও অর্থ চুরির ঘটনার পর ব্যবসায়ীদের মধ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তা এসে ভর করেছে। একশ গজ থেকেও কাছে শ্রীমঙ্গল থানার অবস্থান, মালিক পক্ষের নিজস্ব সতর্কতা, মার্কেটের অভ্যন্তরে আলাদা পাহারার ব্যবস্থা রাখা সত্তেও শহর ও শহরতলীতে চুরি-ডাকাতির ঘটনায় জনমনে সৃষ্টি হয়েছে আতঙ্ক।
চোর-ডাকাতের ভয়ে শহর ও শহরতলীর মানুষ নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। অনিয়ন্ত্রিত চুরি ডাকাতির ঘটনার কারণে পুলিশী তৎপরতার ব্যাপারে মানুষের মনে নানা প্রশ্নের উদ্রেক করে। এসব ঘটনায় ব্যবসায়ীসহ সচেতন মানুষের মাঝে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
গত ১ নভেম্বর মঙ্গলবার দিবাগত রাতে শহরতলির সবুজবাগ আবাসিক এলাকার মৃত মানিক লাল চক্রবর্তীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতরা ওই বাড়ির লোকজনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ১৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা নিয়ে যায়।
সর্বশেষ বুধবার (২ নভেম্বর) শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম ইদ্রিস আলীর শহরের বাসায় চুরি। সাংবাদিক ইদ্রিস আলীর রবার্ট হল রোডের শিবলী মহল বাসার ৪র্থ তলার জানালা খুলে পাশের বিল্ডিং এর ছাদ থেকে লম্বা হাতল ডুকিয়ে মোবাইল সেট নিয়ে যায়। একই দিন তার পাশের রুমের ভাড়াটিয়ার মোবাইল সেট চুরি হয়।
এদিকে একই দিন ১ নভেম্বর বিকালে মৌলভীবাজার রোডের ৫নং পুলের মুসাদ্দিক উদ্দিনের কারখানার সামনে থেকে তার হিরো মোটর সাইকেল চুরি হয়েছে বলে তিনি জানান। প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদকের বাসার চুরির খবর পেয়ে শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও আনলাইন মিডিয়ার কর্মীসহ জনপ্রতিনিধি তার বাসায় ছুটে যান। শ্রীমঙ্গল থানার পুলিশও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। চুরির ঘটনায় সাংবাদিক এম ইদ্রিস আলী থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করেছেন বলে জানা যায়।
গত কয়েক মাসে শ্রীমঙ্গলে কয়েকশ বাসা-দোকানে চুরি ডাকাতির ঘটনা ঘটে। জানা যায়, গত ৪ সেপ্টেম্বর শহরতলির হাউজিং এস্টেট এলাকায় এক লন্ডন প্রবাসীর ভাড়াটিয়ার বাসায় ডাকাতি এবং সন্ধানী আবাসিক এলাকার অঞ্জনকান্তি পালের বাসা থেকে মোটর সাইকেল চুরি হয়েছে। গত ৩১ আগস্ট শহরের মৌলভীবাজার সড়কের এহসান মার্কেটে একটি দোকানে চুরি হয়েছে। ২৯ আগস্ট মৌলভীবাজার সড়কের লোকনাথ বাণিজ্যালয়ে চুরি হয়। ৩০ আগস্ট পশ্চিম ভাড়াউড়া এলাকার ব্যবসায়ী আক্তার হোসেনের বাসায় ডাকাতি হয়। ৭ আগস্ট রাতে মাইজদিহি চা বাগানে ম্যানেজার বাংলোয় ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ২৮ অক্টোবর রাতে শ্রীমঙ্গলে চার বাসায় মুখোশধারী ডাকাত দল হানা দেয়। রাত আড়াইটা থেকে ভোর সাড়ে ৪টা পর্যন্ত শহরের উত্তর ভাড়াউড়া এলাকার বিশিষ্ট শিল্পপতির সালাউদ্দিন আহমেদ আলফি মিয়া, সাংবাদিক আবুজার বাবলা, চামড়া ব্যবসায়ী সোহেল আহমেদ ও জনৈক ফরিদ মিয়ার বাসায় ডাকাতির ঘটনায় ২ জন আহত হন। গত ১৯ অক্টোবর রাজাপুর গ্রামে মাহমুদের, ২ আক্টোবর শহরতলির পশ্চিম ভাড়াউড়ার হান্নান মিয়ার, ৬ সেপ্টেম্বর সবুজবাগ আবাসিক এলাকার মানিক লালের, ৩ সেপ্টেম্বর হাউজিং এস্টেট এলাকায় এক প্রবাসীর ভাড়াটিয়ার বাসা, ৩০ আগস্ট পশ্চিম ভাড়াউড়ার আক্তার হোসেনের বাসায় ডাকাতি হয়। ওই রাতেই ক্যাথলিক মিশন সড়কের ফ্রান্স প্রবাসী কাজল পালের বাসা ও বারিধারা এলাকার সুভাষ দেবের বাসায় ডাকাতির চেষ্টা চালনো হয়। ১৪ মে রাতে শহরের শান্তিবাগ চান স্বর্ণকারের বাসায়, ৫ আগস্ট রাতে আব্দুল হান্নানের বাসায়, ৭ আগস্ট মাইজদিহি চা বাগানের ম্যানেজার বাংলো, ৩০ আগস্ট পশ্চিম ভাড়াউড়ার আক্তার হোসেনের বাসায়, ৩ সেপ্টেম্বর হাউজিং এস্টেট এলাকায় প্রবাসী ভাড়াটিয়ার বাসা, ৬ সেপ্টেম্বর সবুজবাগ আবাসিক এলাকার মানিক লালের বাসায়, ২ অক্টোবর শহরতলির পশ্চিম ভাড়াউড়ার হান্নান মিয়ার বাসায়, ১৯ অক্টোবর রাজাপুর গ্রামে মাহমুদেও বাসায়, ২৮ অক্টোবর রাতে শহরের উত্তর ভাড়াউড়া এলাকায় মো: আলফু মিয়ার বাড়িতে ডাকাত হানা দেয়। বাড়ির সবাইকে বেঁধে মালামাল লুট করে। এই রাতে একই এলাকার প্রতিদিনের সংবাদ এর প্রতিনিধি আবুজার রহমান বাবলাv বাড়িতে ডাকাতির চেষ্টা চালানো হয়।
গত ১ নভেম্বর মঙ্গলবার রাতে স্থানীয় সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ মো: আব্দুস শহীদ এমপির পিএস সাংবাদিক ইমাম হোসেন সোহেলের বাসায় চোরেরা হানা দেয় এবং একই রাতে শ্রীমঙ্গল শহরের কালীঘাট রোডে একটি কম্পিউটার দোকানে চুরি হয়। শুধু অক্টোবর মাসেই পৃথক ঘটনায় শহরের চৌমুহনীর ইয়াকুব শপিং সেন্টার, মৌলভীবাজার রোডের মাহবুব ট্রেডার্স, মীম স্যানেটারী ও তপন মজুমদারের দোকানে দু:সাহসিক চুরি সংঘটিত হয়। এছাড়াও কালাপুরের মাহমুদুর রহমান এর বাড়ি হতে ২৫ ভরি সোনা ও নগদ ৮০ হাজার টাকা এবং পশ্চিম ভাড়াউড়ার হান্নান মিয়ার বাড়ি হতে ৭ ভরি সোনা, নগদ ৫২ হাজার টাকা, ৫টি মোবাইল সেট এবং ১টি মটর সাইকেল ডাকাতরা লুট করে নিয়ে যায়।
শহরজুড়ে চুরি ডাকাতির ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যবসায়ি ও প্রবাসী পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ উৎকন্ঠা বেড়ে গেছে। ডাকাত আতংকে নির্ঘুম রাত পার করছে আতঙ্কিত পরিবারের লোকজন। শ্রীমঙ্গলে চুরি-ডাকাতি ও আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে ১ লা নভেম্বর সকল শ্রেণি ও পেশাজীবী মানুষের অংশগ্রহণে সচেতন শ্রীমঙ্গলবাসীর ব্যানারে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলার শ্রীমঙ্গল শহরে আইন শৃঙ্খলা অবনতির কারনে উপজেলাতে ব্যাপক হারে চুরি ডাকাতির ঘটনার ঘটছে। কাজেই যে কোনো মুল্যে জননিরাপত্তাসহ চুরি-ডাকাতি রোধে প্রশাসনকে কার্যকরি উদ্যোগ নিতে হবে।
Related News
জুড়ীতে অটোরিকশাচালককে হত্যার অভিযোগ, মা-মেয়ে গ্রেপ্তার
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: মৌলভীবাজারের জুড়ীতে সিএনজিচালিত অটোরিকশার এক চালককে কুপিয়ে হত্যার পর মরদেহ নদীতে ভাসিয়েRead More
মৌলভীবাজারে ২ সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে তরুণী নিহত
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে দুটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে এক তরুণী নিহত হয়েছেন। এRead More



Comments are Closed