৮দিনেও কাটেনি সিসিকের অচলাবস্থা
বিশেষ প্রতিনিধি : আট দিনেও কাটেনি সিলেট নগর ভবনের অচলাবস্থা। সোমবার পর্যন্ত অফিস করেননি তিন শীর্ষ কর্মকর্তা। শাসক দল আওয়ামীলীগের কাউন্সিলরদের দেয়া তালার চাবি পেলেও অফিস না করতে অনুরোধ করায় ‘বাধ্যতামূলক’ ছুটিতে রয়েছেন তারা। ফলে চাবি দেয়া হলেও অফিস করতে না পারায় এখনো তালা ঝুলছে তিন কর্মকর্তার কক্ষে। এতে নগরভবনের কার্যক্রম অনেকটা অচল হয়ে পড়েছে। শীর্ষ কর্মকর্তারা না থাকায় অনেক প্রয়োজনীয় কাজ আটকে আছে। বিপাকে পড়েছেন নগর ভবনে সেবা নিতে আসা সাধারণ লোকজন।
আজ মঙ্গলবার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত সিলেট আসলে শাসকদলের কাউন্সিলরদের সাথে সিসিকের প্রধান তিন কর্মকর্তার সৃষ্ট জটিলতা নিরসনের সম্ভাবনা রয়েছে।
সূত্র জানায়, গত ১৭ অক্টোবর বিকেলে লালদিঘীরপাড় হকার্স মার্কেটের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভাঙ্গার টেন্ডার তাদের মনোনীত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে না দেয়ায় শাসকদলের কাউন্সিলররা ক্ষুব্ধ হয়ে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব, চীফ ইঞ্জিনিয়ার নূর আজিজুর রহমান ও প্রধান হিসাব রক্ষক এমএ মনসুরের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন। এরপর থেকে তারা অফিস করছেন না। গত মঙ্গলবার রাতে কাউন্সিলর ও তিন শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের অনুষ্ঠিত বৈঠকেও এর কোন সুরাহা হয়নি। আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতারা কর্মকর্তাদের কক্ষের চাবি ফেরত দিলেও কর্মকর্তাদের অফিস না করার জন্য অনুরোধ করেন।
কেন্দ্রীয় কাউন্সিল শেষে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন তারা। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের নির্দেশনার জন্য ২৫ অক্টোবর মঙ্গলবার পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে বলা হয় শীর্ষ কর্মকর্তাদের। এর আগ পর্যন্ত নিজ প্রয়োজন দেখিয়ে ছুটিতে চলে যাওয়ার অনুরোধ করেন তারা।
জানা যায়, সিটি কর্পোরেশনের মালিকানাধীন লালদিঘীরপাড় হকার্স মার্কেটের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভাঙ্গার টেন্ডার তাদের মনোনীত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে না দেয়ায় শাসকদলের কাউন্সিলররা ক্ষুব্ধ হয়ে এ ঘটনা ঘটান। দুই বছর আগে টেন্ডার আহ্বান করা হলে সর্বোচ্চ দরপত্র জমা পড়ে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকার।
কিন্তু লালদিঘীরপাড় হকার্স মার্কেটের ব্যবসায়ীদের উচ্চ আদালতের রিটের প্রেক্ষিতে টেন্ডারটি বাতিল হয়ে যায়। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পুনরায় টেন্ডার আহ্বান করে সিসিক। এ টেন্ডারে আ’লীগের আবজাদ হোসেন আমজাদ, রকিবুল ইসলাম ঝলক, ইলিয়াছুর রহমান ইলিয়াস, মোস্তাক আহমদ, তৌফিক বক্স লিপন ও বিএনপির সিকন্দর আলী, সাইফুল আমিন বাকেরের পছন্দের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এক কোটি ৫ লাখ টাকার দরপত্র জমা দেয়। যা সর্বোচ্চ হলেও আগের টেন্ডারের চেয়ে ৭৫ লাখ টাকা কম।
এ কারনে কাজ প্রদানে অনিহা প্রকাশ করেন সিসিকের শীর্ষ কর্মকর্তারা। তারা পুনরায় টেন্ডার আহ্বানের প্রস্তুতি নিলে তাদের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কাজ প্রদানের জন্য চাপ প্রয়োগ করেন এই ৭ কাউন্সিলর। তাদের চাহিদা মাফিক কাজ না দেয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে সোমবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে তিন কর্মকর্তার কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেয়া হয়।
তবে শাসক দলের কাউন্সিলরদের দাবি নগরভবনের তিন শীর্ষ কর্মকর্তার অনিয়ম, দুর্নীতির কারনে তারা তাদের কক্ষে তালা দিয়েছেন।
Related News
গার্ল গাইডস্ সিলেট অঞ্চলের মহাতাঁবু জলসা ও ৪র্থ আঞ্চলিক গাইড ক্যাম্প অনুষ্ঠিত
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা সিলেট অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর ড. মো. দিদার চৌধুরী বলেছেন,Read More
সিলেট মহানগর জামায়াতের দায়িত্বশীল বৈঠক অনুষ্টিত
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামRead More



Comments are Closed