Main Menu

তাহিরপুরে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে টাকা আত্নসাতের অভিযোগ

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে এক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ২১ বছর ধরে বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের হিসাব না দিয়ে কয়েক কোটি টাকা আত্বসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ কারনে দু’দফায় বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির নির্বাচনী তফসীল ঘোষণা করার পরও উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বাদাঘাট পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আবারো নির্বাচন বানচাল ও মনোনয়নপত্র সংগ্রহে বাঁধা প্রদান করার অভিযোগ আনলেন অভিভাবকগণ।
এ নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক সদস্য ও সুশীল সমাজের লোকজনের মধ্যে চাঁপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী মহলের সহযোগীতায় নিজের আখের গোছাতে বারবার নির্বাচনকে বাঁধাগ্রস্থ্য করছেন ওই প্রধান শিক্ষক।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য এবং নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক সোমবার এ প্রতিবেদককে জানান, ১৯৬২ সালে বাদাঘাট পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ৫৪ বছরের মধ্যে দু’বছর মেয়াদে শুধু মাত্র অভিভাবকের চাপে প্রায় ১ যুগ আগে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির নির্বাচন হয়। বিদ্যালয়ের খন্ডকালীন শিক্ষক থেকে সহকারি শিক্ষক এরপর প্রধান শিক্ষক হিসাবে ১৯৯৪ সালের ৬ ডিসেম্বর শফিকুল ইসলাম দানু দায়িত্বভার নেন। এরপর অভিভাবকদের চাপে একবারই বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির নির্বাচন হয়। ওই পরিরচালনা কমিটির মেয়াদ শেষ হলে প্রধান শিক্ষক নিজের পছন্দমত লোকজন দিয়ে বারবার মনগড়া কমিটি তৈরী করে নিজের আখের গুছিয়েছেন, বাড়িয়েছেন নিজের সম্পদ কিন্তু বাড়েনি বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান। প্রায় একযুগ পর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে লোক দেখানো বিদ্যালয় পরিচালানা কমিটির নির্বাচনী তফসীলে ২০ থেকে ২২ মার্চ পর্য্যন্ত মনোনয়নপত্র বিতরণ ও জমাদানের তারিখ নির্ধারণ করে দেয়া হয়। মনোনয়ন পত্র জামা দেয়ায় মাত্র আধাঘন্টা আগে অভিভাবগণের চাঁপে ওই প্রধান শিক্ষক মনোনয়নপত্র বিতরণ করলেও জমা নিতে টালবাহানা শুরু করেন। এক পর্যায়ে আইনশৃংখলার অজুহাত তৈরী করে ওই প্রধান শিক্ষক নির্বাচন বানচাল করার জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে মোটা অংকের উৎকোচ দিয়ে কৌশলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে দিয়ে সাময়িক ভাবে নির্বাচন স্থগিত করান। এ নিয়ে অভিভাবকগণ জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম, দুর্নীতি ও বিগত ২১ বছরেরর বিদ্যালয়ের কয়েক কোটি টাকা আত্বসাতের অভিযোগ করেন। অভিযোগে বিদ্যালয়ের ভুমিতে মার্কেট নির্মাণের পর দোকান কোটার জামানত ও ভাড়া, জমি বর্গা, খেলার মাঠে গরুর হাট ও বাঁশ মহালের জন্য ভাড়া প্রদান করা, শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে আদায়কৃত বেতনের একটি বড় অংশ, অধিক হারে সেশন ফি, এসএসসি, জেএসসির ফরম পূরন ও কোচিং এর নামে প্রতি বছর লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ করেন। বিগত ২১ বছরে ওই প্রধান শিক্ষক বিভিন্ন সরকারি বরাদ্দ, অভিভাবগণের অনুদান সহ বিদ্যালয়ের কোন রকম আয়-ব্যয়ের হিসাব বিদ্যালয় পরিচালানা কমিটিতে দেননি। এরপর আবারো দ্বিতীয় দফায় নির্বাচনের জন্য ১৬ অক্টোবর থেকে ১৮ অক্টোবর পর্য্যন্ত মনোনয়পত্র সংগ্রহ ও জমা দানের সময় নির্ধারিত করা হলে প্রধান শিক্ষকের নিকট রবিবার ও সোমবার সকাল থেকে দফায় দফায় একাধিক অভিভাবগণ মনোনয়পত্র সংগ্রহ করতে গেলে তিনি তাদেরকে ফিরিয়ে দেন এবং জানিয়ে দেন এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা আমাকে ফরম বিতরণ করতে নিষেধ করেছেন। বিদ্যালয়ে প্রায় ১৮শ’র অধিক শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত রয়েছে। অভিভাবক সদস্য রয়েছেন প্রায় ১৫৭৮ জন। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির নির্বাচনে মনোয়নয়নপত্র সংগ্রহ করতে গিয়ে প্রধান শিক্ষকের বাঁধার মুখে ফিরে আসা অভিভাবক সদস্য শেখ শফিকুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম সিকদার, আমির শাহ, নুর মিয়া, রেনু মিয়া, মুখলেছুর রহমান, নেকবর হোসেন, হারুন মিয়া, হাছেন আলী, ফাবিহা খাতুন সহ একাধিক অভিভাবক সদস্য সোমবার বিকেলে এই প্রতিবেদকের নিকট অভিযোগ করে বলেন, রবিবার রাতেই শুনেছি প্রধান শিক্ষক একটি মনগড়া কমিটির রুপ রেখা তৈরী করে ফেলেছেন, বিদ্যালয়ের অর্থ আত্বসাতের বিষয়টি বের হয়ে আসার ভয়েই প্রধান শিক্ষক উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে মোটা অংকের উৎকোচ দিয়ে আতাত করে প্রতিবারই নিজের লোকজন দিয়ে মনগড়া কমিটি গঠন করেন। তারা আরো বলেন, গত দু’দিন ধরে বিদ্যালয়ের বারান্দা আর প্রধান শিক্ষকের অফিসে আসা যাওয়া করছি কিন্তু মনোনয়ন ফরম যেন সোনার হরিণ, তিনি তা আলমিরাতে তালাবদ্ধ করে রেখেছেন।
প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামের নিকট অভিভাবকদের অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এলাকার গণ্যমান্য লোকজনের কথা ছাড়া আমি ফরম দিতে পারব না। তিনি বিদ্যালয়ের অর্থ আত্বসাত ও আয় ব্যয়ের হিসাব না দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি কোন দূর্নীতি বা অনিয়মের সাথেই জড়িত নই।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রমা কান্ত দেব নাথের নিকট সোমবার এ বিষয়ে জানতে চাইলে, তিনি প্রথমে প্রধান শিক্ষক ও নির্বাচন না করার স্বপক্ষে সাফাই গাইতে শুরু করেন। উৎকোচ গ্রহন ও আতাত করে নির্বাচন বানচাল করে পুরনো কায়দায় ফের মনগড়া কমিটি গঠনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কিছুটা স্থম্ভিত হয়ে বলেন না-না, শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ীই নির্বাচন হবে।
উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী অফিসার ও অস্থায়ী বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনার আলোকেই নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। যদি প্রধান শিক্ষক মনোনয়নপত্র সংগ্রহে বা গ্রহনে বাঁধা দিয়ে থাকেন তার ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জেলা শিক্ষা অফিসার মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, বিদ্যালয়ের জায়গায় মার্কেট তৈরী করে দোকানকোটার জামানত, ভাড়া আদায়, পতিত ভুমি বর্গা দেয়া, গরুর হাট, বাঁশ মহাল বসানো সম্পূর্ণ অবৈধ। ডিজি মহোদয় সহ সংশ্লিষ্ট উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ওই প্রধান শিক্ষক যে কাজটি করে চলেছেন তা দূর্নীতির আওতায় পড়ে। তিনি আরো বলেন, বিদ্যালয় পরিচালানা কমিটির নির্বাচন যথা সময়েই সম্পন্ন করতে হবে। এছাড়া অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে দ্রত তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Share





Related News

Comments are Closed