বিশ্বনাথ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনিয়মের অভিযোগ
বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি: সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আগত রোগীদের মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিতরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওষুধের গায়ে মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ রোগীদের অভিভাবকদের কাছে ধরা পড়লে নিরবে সমাধান করে দেন কর্মকর্তা। সেই সাথে কমপ্লেক্সে আগত রোগীদের চিকিৎসায় অবহেলারও অভিযোগ ওঠেছে। সঠিক চিকিৎস্যা না পেয়ে স্বজনরা রোগীদের নিয়ে হাসপাতাল ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। তবে কর্তব্যরত ডাক্তার বলছেন তাদের সাধ্য অনুযায়ি রোগীদের চিকিৎস্যা দিচ্ছেন।
এক শিশু রোগীর অভিভাবক আব্দুল জলিল জানান, তার বাড়ি কমপ্লেক্সের পার্শ্ববর্তি কাদিপুর গ্রামে। গত মঙ্গলবার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ‘রাফি’ নামে তার ৬ বছরের শিশু পুত্রকে নিয়ে চিকিৎস্যার জন্য যান। ডাক্তার পরিক্ষা করে স্লীপে একটি সিরাপ লিখেন। ওই স্লীপ নিয়ে ওষুধ বিতরণ কক্ষে গেলে সেখান থেকে একটি সিরাপ তার হাতে দেয়া হয়। ওই সিরাপটি আব্দুল জলিল বাড়িতে নিয়ে দেখতে পান প্রায় তিন মাস পূর্বে এই সিরাপের মেয়াদ শেষ হয়েছে। বুধবার ওই মেয়াদোত্তীর্ণ সিরাপটি তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কাছে নিয়ে গেলে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সিরাপ রেখে তাকে বিদায় করে দেন।
তেমনি করে আজিজনগর গ্রামের লোকমান মিয়া চিকিৎস্যার জন্য তার ভাতিজাকে নিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। একইভাবে ডাক্তার পরিক্ষা করে মেয়াদোত্তীর্ণ একটি এমোক্সিসিলিন সিরাপ দেন। তার কাছ থেকেও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সিরাপটি রেখে দেন। তবে সনেআষজনক কোনো জবাব দেননি।
এছাড়াও বুধবার বেলা আড়াইটার দিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে দেখা যায় সু-চিকিৎস্যা না পেয়ে একজন মহিলা তার শিশুপুত্রকে নিয়ে হাসপাতাল ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। তিনি উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের রুনা বেগম (৩০)। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গেটের সামনে তার সাথে কথা হলে তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তিনি বলেন, গত ২ অক্টোবর রোববার তার শিশুপুত্র মাহিন (৫) কে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। ভর্তির পর থেকে সময় মতো কোনো ডাক্তার পাওয়া যায় না। একদিন একজন ডাক্তার তার ছেলের জন্য ওষুধ লিখেছেন। কিন্তু অপর আরেকজন ডাক্তার গিয়ে বলেন ওই ওষুধ তার ছেলের রোগের জন্য নয়। তাই তিনি এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎস্যা সেবায় আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ও সঠিক চিকিৎস্যা না পেয়ে চলে যাচ্ছেন বলে দুঃখ প্রকাশ করেন।
এব্যাপারে জানতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দায়িত্বরত কর্মকর্তা ডাক্তার বিভাষ চন্দ্র মানি’কে পাওয়া যায়নি।
Related News
সিলেটে হামের উপসর্গে আরেক শিশুর মৃত্যু, প্রাণহানি বেড়ে ১৬৫
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটে গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যুRead More
হাম উপসর্গে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু, প্রাণহানি বেড়ে ১০৩০
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আট শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একইRead More



Comments are Closed