Main Menu

ছাতকে শিক্ষকের লাঠি পেটায় ২১ শিক্ষার্থী আহত

ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: ছাতকে প্রাথমিক স্কুলের এক শিক্ষকের বেধড়ক লাঠি পেটায় গুরুতর আহত হয়েছে ৫ম শ্রেনীর ২১ শিক্ষার্থী। এলাকাবাসী আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দিয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে রোববার বেলা সাড়ে ১২টায় উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এলাকাবাসী অমানবিক এ ঘটনার সুষ্টু বিচার দাবি করছেন।
জানা যায়, ঘটনার সময় গোবিন্দগঞ্জ মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আতিকুর রহমান অফিস কক্ষে অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিয়ে খোশ গল্পে মত্ত ছিলেন। এসময় ৫ম শ্রেণীর ছাত্রছাত্রী ক্লাস রুমের বাহিরে এসে খেলাধুলা করতে থাকে। একপর্যায়ে প্রধান শিক্ষক লাঠি হাতে তাদের প্রতি তেড়ে আসে এবং সবাইকে রুমের ভেতরে নিয়ে দরজা বন্ধ করে বেপরোয়াভাবে লাঠিপেটা করেন। এসময় ছাত্রছাত্রীদের শোর-চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এসে দরজা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করতে তিনি (শিক্ষক) দরজা খুলে দেন। এসময় গুরুতর আহত  ২১ জন ছাত্রছাত্রীকে ফ্লোরে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে ওই শিক্ষক পালিয়ে যান। এসময় শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে বিভিন্ন ফার্মেসীতে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। অনেকের হাতের আঙ্গুল, হাত, পিট, মাথা ও শরীরের ভিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম হয়েছে। অনেকের ভেঙ্গে গেছে হাতের ও পায়ের আঙ্গুল।
প্রধান শিক্ষক আতিক নিজের স্ত্রীকে এভাবে প্রায়ই পিটিয়ে থাকেন বলে জানা গেছে। ঘটনার পর পরিচালনা কমিটির সদস্য রইছ আলীসহ এলাকার গন্যমান্য লোকজন ঘটনাস্থলে এসে ছাতক উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মানিক চন্দ্র দাসকে বিষয়টি অবহিত করেন। ২১ জনের মধ্যে গুরুতর আহত ৫ম শ্রেণীর ১০ছাত্র ছাত্র-ছাত্রী হচ্ছে. মৌমিতা তাহরিন তুম্বা, তারেক হোসাইন, রবিউল হাসান, সামিয়া ইসলাম তমি, শামসুন্নাহার সনি, সুমাইয়া আক্তার, তৌহিদুল ইসলাম রাফি, আব্দুল মোতালেব রবিন, নাদিয়া আক্তার বিউটি, পপি বেগম।
এলাকাবাসী অভিযুক্ত শিক্ষককে মানসিক ভারসাম্যহীন দাবী করে এখান থেকে অপসারনসহ তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
প্রধান শিক্ষক আতিকুর রহমান বলেন, রাগ উঠেছিল, এজন্যে তাদেরকে মেরেছি। পরে স্কুল কমিটির সদস্য রইছ আলী সাহেবের সামনেই ক্লাসে গিয়ে তাদের কাছে ক্ষমা চেয়েছি।
এব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মানিক চন্দ্র দাস বলেন, খবর পেয়ে প্রধান শিক্ষককে মারার কারন জিঞ্জেস করি। তিনি রাগের বশবর্তী হয়ে শিক্ষার্থীদের বেধড়ক লাঠি পেটার কথা অকপটে স্বীকার করেছেন। তবে বর্তমানে প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা বা কোন ধরনের শারিরীক নির্যাতন করা সরকার নিষিদ্ধ করেছে। এজন্যে ছাত্র পেটানো কোনোভাবেই সঠিক হয়নি বলে জানান তিনি।

Share





Related News

Comments are Closed