Main Menu

বখাটেরা স্কুলছাত্রীর ভাইকে মারধর করেছে

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে উত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় বখাটেরা স্কুলছাত্রীর ভাইকে আটকিয়ে মারধর করে টাকা পয়সা ছিনিয়ে নিয়েছে। ঘটনাটি পরবর্তীতে দুই গ্রামবাসীর মাঝে সশস্ত্র উত্তেজনায় রুপ নিলে ইউপি চেয়ারম্যান ও থানার পুলিশি হস্তক্ষেপে সাময়িক নিরসন হয়। মঙ্গলবার রাতে ছাত্রীর ভাই হামলাকারী বখাটের বিরুদ্ধে কমলগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

কমলগঞ্জ থানায় দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মাধবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের ফারজানা আক্তার প্রতিদিন বিদ্যালয়ে আসা যাওয়ার সময় পার্শ্ববর্তী কাটাবিল গ্রামের শাকিল মিয়া (২০), জমশেদ মিয়া (২৫), আরমান মিয়া (২১)সহ একদল বখাটে উত্যক্ত করত। মঙ্গলবার (১২ জুলাই) অর্ধ বার্ষিক পরীক্ষা দিয়ে মাধবপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ছাত্রী ফারজানা বাড়ি ফিরছিল। এসময় পথরোধ করে আবারও এসব বখাটেরা উত্যক্ত করে। তখন ছাত্রীর ভাই নিজাম উদ্দীন এ ঘটনার প্রতিবাদ করলে তাকে আটকিয়ে শাকিল মিয়া ও আরমান মিয়ার নেতৃত্বে ১০/১২ জনের বখাটের একটি দল তাকে (ছাত্রীর ভাইকে) মারধর করে। সন্ধ্যার পর আবার ঘটনাটিকে অন্য দিকে প্রবাহিত করে বখাটেরা নোয়াগাঁও-কাটাবিল গ্রামবাসীর মাঝে উত্তেজনা ছড়ায়। এই দুই গ্রামের লোকজন দা, লাটিসোটা নিয়ে মাধবপুরে মুখোমুখি অবস্থান নিলে ইউপি চেয়ারম্যান পুষ্প কুমার কানু প্রাথমিকভাবে উত্তেজনা নিরসনের চেষ্টা করেন। পরে চেয়ারম্যান কমলগঞ্জ থানা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলে পুলিশ এসে সাময়িকভাবে উত্তেজনার নিরসন করেন। এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে ছাত্রীর বড় ভাই সেলিম আহমদ বাদী হয়ে বখাটে শাকিল মিয়া (২০), আরমান মিয়া (২১), জমশেদ মিয়া (২৫), শাহীন মিয়া (১৮), সোহেল মিয়া (২০), ফয়ছল মিয়া (২৫), নিয়ামত মিয়া (২৬), হেলাল মিয়া (২২), আক্কাস মিয়া (২২), মুক্তা মিয়া (২২) ও লোকমান মিয়া (২৫)-র নাম উল্লেখ সহ আরও কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামী করে কমলগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগকারী সেলিম আহমদ জানান, তার ছোট বোনকে উত্যক্ত করে ক্ষান্ত হয়নি বখাটেরা। মঙ্গলবার প্রতিবাদ করায় তার ছোট ভাই নিজামকে মারধর করে। এসময় তাদের কয়েকজন স্বজন এগিয়ে আসলে তাদেরকেও মারধর করে টাকা পয়সা ছিনিয়ে নেয়।
মাধবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পুষ্প কুমার কানু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযোগটিকে মামলাভুক্ত করে বখাটেদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা উচিত। বখাটেদের দলে মাধবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির দুইজন ছাত্রও রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিদ্যালয় ব্যবস্থা গ্রহন করবে।
বুধবার বিকেলে আলাপকালে মাধবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি সৈয়দ শফিকুর রহমান (জহুর) ও প্রধান শিক্ষক আব্দুস সোবহান ছাত্রীকে উত্যক্ত করা ও উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় ছাত্রীর ভাইকে মারধরের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আগামী ১৬ জুলাই শনিবার বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির জরুরী সভা আহবান করা হয়েছে। সভা থেকে তদন্তত্রমে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অভিযোগ সম্পর্কে মুঠোফোনে জানতে চাইলে একই বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্র শাকিল মিয়া এ প্রতিনিধিকে বলেন, সে বা তার বন্ধুরা কাউকে উত্যক্ত বা মারধর করেনি।
কমলগঞ্জ থানার উপ পরিদর্শক জাহিদুল হক বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। পুলিশ তদন্তক্রমে এ ঘটনার বিহিত ব্যবস্থা গ্রহন করবে।

Share





Related News

Comments are Closed