Main Menu

বিয়ানীবাজারে জামাল হত্যা মামলায় ঘাতকের যাবজ্জীবন

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সিলেটের বিয়ানীবাজারে জামাল উদ্দিন হত্যা মামলায় এক ঘাতকের যাবজ্জীবন ও অপরজনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। রায়ের পাশাপাশি দন্ডপ্রাপ্ত আসামীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ৬ মাসের সশ্রম কারাদন্ড দেয়া হয়।
বুধবার দুপুরে সিলেট বিশেষ দায়রা জজ (জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল) আদালতের বিচারক মোঃ মফিজুর রহমান ভূঞা এ রায় প্রদান করেন।
দন্ডপ্রাপ্ত আসামীর নাম ফখরুল ইসলাম (২৬)। সে বিয়ানীবাজার উপজেলার পূর্ব আলীনগর গ্রামের আব্দুল আলী ওরফে তফইয়ের পুত্র। খালাসপ্রাপ্ত জাকারিয়া (১৮) গোলাপগঞ্জের ঘাগুয়ার আব্দুল খালিকের পুত্র। রায় ঘোষণাকালে দন্ডপ্রাপ্ত আসামী ফখরুল ইসলাম আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা গেছে, ২০০৬ সালের ১৪ জুলাই সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে বিয়ানীবাজার উপজেলার চন্দরপুর গ্রামের মৃত ফিরোজ আলী রাজু মিস্ত্রির পুত্র ঠিকাদার মিস্ত্রি জামাল উদ্দিনের (২৫) বাড়িতে ফখরুল ইসলাম ও জাকারিয়াসহ কয়েকজন যান। তারা জামালকে আঙ্গুরা মোহাম্মদপুরে নির্মাণাধীন ব্রীজের কাজে যাওয়ার জন্য বলেন। কিন্তু জামাল তাদের কাজে যেতে অপারাগতা প্রকাশ করেন। এক পর্যায়ে আসামীরা তাকে বুঝিয়ে কাজে নিয়ে যান। ওইদিন জামাল আর বাড়িতে ফিরেননি। পরে তার পবিবার বিভিন্ন স্থানে তাকে খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন। খোঁজাখুঁজি করে তাকে না পেয়ে ১৬ জুলাই জামালের ভাই মারুফ আহমদ বিয়ানীবাজার থানায় একটি জিডি করেন। পরদিন ১৭ জুলাই সকাল ৮টার দিকে গোলাপগঞ্জ উপজেলার সন্ধিসাইল গ্রামের হাওড়ের পানিতে জামাল উদ্দিনের লাশ ভেসে উঠে। স্থানীয় লোকজন লাশটি দেখতে পেয়ে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশকে খবর দেন। পরে জামালের পরিবার ঘটনাস্থলে গিয়ে তার লাশ সনাক্ত করেন। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই মারুফ আহমদ বাদী হয়ে ফখরুল ইসলামসহ ৩ জনের নাম উল্লেখ করে বিয়ানীবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। নং-১৭ (১৭-০৭-০৬)। এর প্রেক্ষিতে পুলিশ ঘাতকদের গ্রেফতার করলে তারা জামাল হত্যার দায় স্বীকার করে।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০০৭ সালের ১০ জুলাই বিয়ানীবাজার থানার এসআই মোঃ মনিরুজ্জামান ২ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে এ মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন এবং ২০০৮ সালের ১২ আগষ্ট থেকে আদালত এ মামলার বিচারকার্য্য শুরু করেন। দীর্ঘ শুনানী ও ১৪ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আসামী ফখরুল ইসলামকে ৩০২ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে তাকে উল্লেখিত দন্ডাদেশ এবং অপর আসামী জাকারিয়ার কোন দোষ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে এ মামলার দায় হতে বেকসুর খালাস প্রদান করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে স্পেশাল পিপি এডভোকেট নওসাদ আহমদ চৌধুরী ও আসামীদের পক্ষে এডভোকেট মোহাম্মদ লালা এবং স্টেট ডিফেন্স এডভোকেট সন্তু দাস ও এডভোকেট ফখরুল ইসলাম মামলাটি পরিচালনা করেন।

Share





Related News

Comments are Closed