‘ব্যাংকে তিন লাখের বেশি টাকায় করের খবর ভিত্তিহীন’
নিউজ ডেস্ক: জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান জানিয়েছেন, ‘ব্যাংকে তিন লাখ টাকার বেশি থাকলে কর দিতে হবে’- এমন খবর ‘ভিত্তিহীন’। সোমবার সন্ধ্যায় তিনি বলেন, “এনবিআর চিরাচরিত নিয়মেই যাদের কর দেওয়ার সামর্থ্য আছে তাদের কাছ থেকে কর আদায় করবে। জনকল্যাণের জন্য, দেশের মঙ্গলের স্বার্থে নিয়মিতভাবে এই কর আদায় করা হয়।”
‘এ বিষয়ে ভুল বোঝাবুঝির কিছু নেই’ উল্লেখ করে নজিবুর রহমান আতংকিত না হওয়ার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানিয়েছেন।
৩ লাখ টাকার বেশি আছে এমন ব্যাংক হিসাবগুলো থেকে কর আদায়ের খবরকে ‘গুজব’ আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, “নতুন বাজেট বা অর্থবিলে এমন কোনো বিধান বা আদেশ সংযোজন করা হয়নি। অযথাই এই বিষয়টি নিয়ে আতংক ছড়ানো হচ্ছে। এ ধরনের খবর একেবারেই ভিত্তিহীন।”
“এ কথা ঠিক যে আমাদের দেশে করদাতার সংখ্যা খুবই কম। আমরা এই সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছি। সেটা নিয়মনীতির মধ্যেই করা হবে। যাদের কর দেওয়ার সামর্থ্য আছে- তাদের কাছ থেকেই কর আদায় করা হবে। জোড়-জুলুম করে ভয় দেখিয়ে কখনই ট্যাক্স আদায় করা হবে না।”
২ জুন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জাতীয় সংসদে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেট পেশ করেছেন। সেই বাজেটের উপর আলোচনা চলছে। ৩০ জুন পাস হবে এই বাজেট। ১ জুলাই থেকে শুরু হবে নতুন অর্থবছর।
অর্থমন্ত্রীর বাজেট ঘোষণার পর থেকেই গুজব ছড়িয়ে পড়ে- যাদের হিসাবে ৩ লাখ টাকার বেশি থাকবে তাদেরকে কর দিতে হবে। কয়েকটি অনলাইনে এ নিয়ে প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়।
নজিবুর রহমান বলেন, “আমি বুঝতে পারছি না, এই গুজবটি কোথা থেকে আসল। কারা ছড়াল? আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, নতুন বাজেটে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত বা পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।”এ নিয়ে আতংকিত না হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে করদাতার সংখ্যা ১২ লাখ। আগামী বছরে (২০১৬-১৭ অর্থবছর) এ সংখ্যা ১৫ লাখ করার ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেছেন, “সারা বিশ্বের মধ্যে কর-জিপিডির অনুপাত বাংলাদেশে অত্যন্ত নিম্নস্তরে রয়েছে। বর্তমানে যা হল জিডিপির ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ। আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোতে এ হার ২০ থেকে ৩২ শতাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত।
“আমাদের লক্ষ্যমাত্রা অত্যন্ত সংযত। আমাদের সরকারের এই মেয়াদের শেষ বছরে এটি ১৫ দশমিক ৩ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি।”
২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের ক্ষেত্রে আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত করমুক্তসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তী ৪ লাখ টাকা আয়ের উপর ১০ শতাংশ, পরের ৫ লাখ টাকার জন্য ১৫ শতাংশ, পরবর্তী ৬ লাখ টাকার ২০ শতাংশ, পরবর্র্তী ৩০ লাখ টাকার জন্য ২৫ শতাংশ এবং অবশিষ্ট মোট আয়ের উপর ৩০ শতাংশ হারে হারে কর দিতে হয়। বিদায়ী ২০১৫-১৬ অর্থবছরেও এই একই হার ছিল।
২০১২ সাল থেকে সঞ্চয়ী হিসাব, মেয়াদি আমানত, স্থায়ী আমানতসহ সব ধরনের আমানতের সুদ বা মুনাফার ওপর কমপক্ষে ১০ শতাংশ হারে উৎসে কর কেটে রাখছে এনবিআর। যাদের কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) নেই তাদের মুনাফা থেকে ১৫ শতাংশ কর কেটে রাখা হচ্ছে।
তবে মূল আমানত থেকে কোন কর কাটা হয় না। অর্থাৎ একজন গ্রাহকের কোনো ব্যাংকে যে কোন ধরনের একটি অ্যাকাউন্ট বা হিসাব নম্বর থাকলে ওই গ্রাহকের হিসাবে যে সুদ বা মুনাফা জমা হবে তা থেকে উৎসে কর কেটে রাখা হয়।
গ্রাহকের যদি টিআইএন (বর্তমানে ইটিআইএন) থাকে এবং সেটি ব্যাংকে জমা দিয়ে থাকেন তাহলে তার মুনাফা থেকে ১০ শতাংশ উৎসে কর কাটা হয়। আর যদি ইটিআইএন না থাকে অথবা জমা না দিয়ে থাকেন তাহলে ১৫ শতাংশ কর কাটা হয়।
এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান বলেন, “অর্থবিল ২০১২ এর ওই বিধান এখনও বলবত আছে। নতুন বাজেটে এর কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।”
Related News
দেশের বাজারে বাড়ল স্বর্ণের দাম
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: শুক্রবার স্বর্ণের দাম কমানোর পর ২৪ ঘণ্টা না যেতেই আবারও দাম বাড়ানোরRead More
ইউনিয়ন পর্যায়েও বসছে ভ্যাট, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য মাসে ৫০০ টাকা
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: প্রান্তিক পর্যায়ের ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ব্যবস্থার আওতায় আনতে নতুনRead More



Comments are Closed