Main Menu

“বিহঙ্গ” কবি কাইয়ূম খাঁনের ব্যতিক্রমী সৃষ্টি

শফিক আহমদ শফি: মোহাম্মদ কাইয়ূম খাঁন মূলত একজন গীতিকবি। দেশ ছেড়ে বিদেশ-বিভুঁইয়ে গেলেও এখনও গ্রাম বাংলার মায়া ভরা রূপ তাকে প্রবলভাবে টানে। বিশেষকরে সাহিত্যের প্রতি তার অগাধ ভালবাসা ছিল এবং আছে। তাইতো বিদেশের মাটিতে বসেও এদেশের মাটি-মানুষ ও সাহিত্যকে নিয়ে কাজ করছেন। যে সাহিত্যে রয়েছে সৃষ্টিকর্তা, সৃষ্টিকূলের প্রাণী, ¯েœহময়ী মা, জন্মভূমির মাটি ও এদেশের মানুষ, প্রেমাতুর প্রেয়সী, চলমান রাজনীতি, সমাজশৈলী, কিংবা জল-জোছনাসহ আঞ্চলিকতার টানও। দেবর-ভাবি, আপা-দুলাভাই বা প্রচলিত বিলেতি কন্যার আবেগও ছুঁয়ে যায় তার মন। চারপাশের বিষয়ই তাঁর কার্ব্যরে মূল উপাদান। সমাজের অসঙ্গতিগুলোও কালির আছড়ে তুলে ধরেছেন তার নিজস্ব ভঙ্গিতে নিখুঁতভাবে। শৈশব, কৈশরের স্মৃতিময় দিনগুলিকে সাহিত্যের পাতায় রূপ দিতে গিয়েই রচনা করেছেন তার প্রথম কাব্য গ্রন্থ “বিহঙ্গ”। মুক্ত বিহঙ্গের মত ডানা মেলে উড়তে চান সাহিত্যের আকাশে মোহাম্মদ কাইয়ুম খাঁন। তিনি তার গ্রন্থের প্রতিটি কবিতায় নিখুঁতভাবে তার না বলা প্রতিটি কথা কখনো কবিতার ছন্দে, আবার কখনো গানের সূরে। জীবনের শত কষ্টের নিখুঁত চিত্র যেন স্থান পেয়েছে এ গ্রন্থে। এ যেন কবির এক ব্যতিক্রমী সৃষ্টি। জীবনের বিচিত্র ভাবনাগুলিকে একত্রিত করে পাঠক সমাজে তুলে দেয়ার প্রত্যয়ই মূলত বিহঙ্গের স্বার্থকতা।
কবি মোহাম্মদ কাইয়ুম খাঁনের একেকটি রচনায় একেক ধরণের অনুভূতি উপস্থাপিত হয়েছে। কখনও প্রেম-ভক্তি, কখনও বিরহ, কখনও হাস্যাত্মক আবার কখনও ফেলে আসা দিনগুলোর স্মৃতি রোমন্থন। বিষয়াবলীকে ছন্দের তালে তালে সহজভাবে উপস্থাপন পাঠককে করবে মুগ্ধ ও বিহŸল। ১৬০ পৃষ্ঠার এ গ্রন্থে ১৫৪টি কবিতা ও গান রয়েছে। প্রতিটি গান এবং কবিতায় তার মনের চিন্তা ধারাগুলো সাবলিলভাবে তুলে ধরেছেন পাঠক সমাজে। নগর সাহিত্য ও প্রকাশনা সংস্থার প্রকাশনায় কাইয়ুম খাঁনের প্রথম কাব্য গ্রন্থ “বিহঙ্গ” গত ২১ শে বইমেলায় প্রকাশিত হয়। যার চার কালারের চমৎকার প্রচ্ছদ এঁকেছেন নুরুল ইসলাম কাদির। গ্রন্থটি কবি উৎস্বর্গ করেছেন তার শ্রদ্ধেয় পিতা-মাতা ও আদরের সন্তান নাবিলকে।
চেনা পরিচিতি গলি বা মেঠোপথ ধরে দিগন্তের দিকে যেমন এগিয়ে চলে সময়, ঠিক তেমনি এগিয়ে চলেছেন মোহাম্মদ কাইয়ুম খাঁন ও। তিনি সিলেটের ঐতিহ্যবাহী গোলাপগঞ্জ উপজেলার পালপাড়া গ্রামে ১৯৭৪ সালের ১৬ এপ্রিল সম্ভ্রান্ত এক মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। শ্রদ্ধেয় পিতার বসবাসের সুবাধে শৈশবের সময়টা পার করেন নিজ ঢাকাদক্ষিণ গ্রামে। পিতা- হাজী আব্দুল হামিদ খাঁন ও মাতা মোছাঃ কামরুন নেছা খাঁনের অতি আদর ¯েœহে তাহার প্রাথমিক শিক্ষার হাতেখড়ি।
ছাত্রজীবনে কাইয়ুম খাঁন কাব্য চর্চায় ব্রতী হন এবং সাহিত্যের প্রতি ঝুকে পড়েন। লেখাকে পেশার পরিবর্তে তিনি নেশা হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তাকে অনেক সাধারণ কবিতা ও গীতিকাব্য দেশ-বিদেশের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। যার ফলশ্রæতিতে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য গুনগ্রাহী। তার কবিতা মানুষের ঘুমন্ত বিবেককে জাগ্রত করবে নিঃসন্দেহে। কবিতা ও গানের প্রতিটি শব্দই যেন পাঠক হৃদয়ে উন্মাদনা সৃষ্টি করবে। নতুন লেখকদের প্রেরণা দেবে। জীবন জীবিকার তাগিদে লেখক বর্তমানে ফ্রান্স প্রবাসী। তার পরেও ব্যস্ততম জীবনের প্রতিটি ক্ষণকে দেশ ও সমাজের কাজে লাগিয়ে নতুন নতুন সৃষ্টির চেষ্টায় রয়েছেন। এই প্রবাসে বাংলা সাহিত্য চর্চায় কাইয়ুম খাঁনের ক্ষুরধার লেখনী হোক অন্যায়ের বিরুদ্ধে সত্যের বজ্রধ্বনি, সাহিত্য চর্চায় তার পদচারণা হোক কুসুমাস্তীর্ণ। আমি তার প্রথম কাব্য গ্রন্থ “বিহঙ্গ” এর বহুল প্রচার কারনা করছি।
লেখক: সিলেট প্রতিনিধি, দি নিউ ন্যাশন, সাধারণ সম্পাদক, সিলেট কেন্দ্রীয় লেখক ফোরাম।

Share





Related News

Comments are Closed