Main Menu

অনিবন্ধিত ২ কোটি সিমের তথ্য নেই

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক : দেশে এখন অনিবন্ধিত মোবাইল ফোন সিমের সংখ্যা কত? দুই মাসের কর্মযজ্ঞ শেষে প্রায় ১১ কোটি মানুষের সিম বায়োমেট্রিক রি-রেজিস্ট্রেশন (পুনর্নিবন্ধন) হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত কত সিমের পুনর্নিবন্ধন হয়নি বা নিবন্ধন ছাড়া কতো সিম চালু রয়েছে তার সঠিক কোনো তথ্য সরকারের হাতে নেই। একইভাবে যেসব সিম পুনর্নিবন্ধন ছাড়া চলছে তার বিরুদ্ধে কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেই। কতদিন পুনর্নিবন্ধনের সুযোগ থাকবে তার সময়সীমাও নেই।

এ বিষয়ে সংবাদ মাধ্যম’র পক্ষ থেকে জানতে চাইলে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফয়জুর রহমান চৌধুরী দাবি করেন, সিম পুনর্নিবন্ধনের বিষয়ে কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। ৩১ মে সিম পুনর্নিবন্ধনের সময়সীমা শেষ হবার পরদিনই সকল মোবাইল ফোন অপারেটরকে অনিবন্ধিত সিম বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে সচিব স্বীকার করেন, এ সংক্রান্ত কিছু কারিগরি প্রতিবন্ধকতা রয়েছে।

সচিব মোবাইল ফোন অপারেটরদের অনিবন্ধিত সিম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন জানালেও সরেজমিন অনিবন্ধিত অসংখ্য সিম ব্যবহার ও বিক্রির ঘটনা দেখা যাচ্ছে। এমনকি আগে যে দামে সিম বাজারে বিক্রি হতো এখন তার চেয়ে কম দামে পুনর্নিবন্ধিত সিম বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। রাজধানীর ফার্মগেট, মগবাজার, গুলিস্থানসহ প্রায় অনেক স্থানেই মাত্র ৩০ থেকে ৪০ টাকায় মোবাইল ফোন সিম পাওয়া যাচ্ছে। পাড়া মহল্লায় যেসব এজেন্ট সিম পুনর্নিবন্ধনের কাজ করেছেন তারা কৌশলে অসংখ্য সিমের পুনর্নিবন্ধন করিয়ে রেখেছেন। এক্ষেত্রে একই ব্যক্তির নামে ২০টি সিম, একই প্রতিষ্ঠানের নামে ৫০০ সিম পুনর্নিবন্ধনের সুযোগ নেওয়া হয়েছে।

একইভাবে মফস্বল ও গ্রামাঞ্চলে অশিক্ষিত মানুষদের কাছ থেকে একাধিকবার আঙ্গুলের ছাপ রেখে তাদের অজান্তেই একাধিক সিম পুনর্নিবন্ধন করে রাখার ঘটনাও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের নজরে এসেছে।

টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, দেশে বিক্রি হওয়া মোট মোবাইল ফোন সিমের সংখ্যা ১৩ কোটি। কিন্তু ৩১ মে পর্যন্ত পুনর্নিবন্ধন হয়েছিল ১১ কোটি ১০ লাখ সিম। বাকি ২ কোটি (এক কোটি নব্বই লাখ প্রায়]) সীমের কোনো হিসাব মন্ত্রণালয়ের কাছে নাই। ৩১ মে এর পর মোবাইল ফোন অপারেটররা তাদের কিছু গ্রাহককে নিজেদের পক্ষ থেকে সরকারকে সিম প্রতি ১০০ টাকা পরিশোধ করে পুনর্নিবন্ধনের সুযোগ করে দিচ্ছে। কিন্তু এরমধ্যেও আছে শুভংকরের ফাঁকি। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে অনিবন্ধিত অনেক সিম অপারেটররা সাময়িক বন্ধ রাখলেও কিছু সময় পরই সেগুলো আবার চালু করে দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। মোবাইল ফোন অপারেটররাও এর মধ্যে মন্ত্রণালয়ের কাছে কিছু বাহানা তুলে ধরেছে। তিনটি মোবাইল ফোন অপারেটর জানিয়েছে যে তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই যেকোনো সিম যে কোনো সময় বন্ধ করতে পারে। আর বাকিগুলো জানিয়েছে তাদের কোনো সিম বন্ধ করতে হলে সময় নিয়ে ম্যানুয়ালি বন্ধ করতে হয়। ১ মে থেকে সব কয়টি মোবাইল ফোন অপারেটর মিলে দৈনিক পুনর্নিবন্ধন করা সিমের সংখ্যা দেখায় চার থেকে পাঁচ হাজার। এ অবস্থায় সব শেষ এখন দেশে অনিবন্ধিত মোবাইল ফোন সিমের সংখ্যা কত বা সেগুলো কারা ব্যবহার করছে এ নিয়ে চিন্তিত সংশ্লিষ্টরা।

পুনর্নিবন্ধন নিয়ে নানাবিধও জটিলতার মুখে মন্ত্রণালয়ও সহনশীল নীতিতে চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে। চলতি মাসের বাকি দিনগুলো পুনর্নিবন্ধনের জন্য গ্রাহক ও অপারেটরদের সময় দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাই আগে ঘোষণা দেওয়া হলেও মন্ত্রণালয় বা টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন- বিটিআরসি কোনো অনিবন্ধিত সিম বিরোধী অভিযানে যাচ্ছে না। অনিবন্ধিত সিম সবশেষ কতগুলো থাকে ও তার মধ্যে সত্যিকার কতগুলো ব্যবহার হচ্ছে তা যাচাই-বাছাই করে জুলাই মাসের প্রথমদিকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

মন্ত্রণালয়ের সহনশীল নীতি বুঝতে পেরে সরকারি মালিকানাধীন মোবাইল ফোন অপারেটর টেলিটকও অনিবন্ধিত সব সিম বন্ধ করেনি বা কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গিয়াস উদ্দীন আহমদও কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি।

বায়োমেট্রিক রি-রেজিস্ট্রেশন নিয়ে সব থেকে আগ্রহী ও তৎপর ছিলেন টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। তার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য গত তিনদিন বারবার মোবাইল ফোনে চেষ্টা করে এবং ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। –তথ্য সূত্র : পরিবর্তন ডটকম

Share





Related News

Comments are Closed