Main Menu

মৃত্যুসনদ জালিয়াতি করে সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্ঠা

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সিলেটের গোলাপগঞ্জে মৃত্যুর সনদ জালিয়াতি করে একটি পরিবারের প্রায় দুই কোটি টাকার সম্পত্তি আত্মসাতের পাঁয়তারার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকার একটি প্রভাবশালী চক্র ইউনিয়ন পরিষদের ভুয়া মৃত্যুসনদ নেওয়ার পর এ পরিবার এখন দিশেহারা। ভূমি হারানোর ভয়ে তাদের পরিবারে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা।
গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাঘা ইউনিয়নের হেতিমগঞ্জ গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় মহিলা মেম্বার জোসনা বেগম গোলাপগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করেছেন । আর প্রতিকার চেয়ে প্রকৃত মৃত্যুসনদ প্রদানের জন্য ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের বরাবর আবেদন করেছেন নিহতের পরিবার।
এ উপজেলার বাঘা ইউনিয়নের হেতিমগঞ্জ গ্রামের মৃত খুশিদ আলীর ছেলে ইছাক মিয়া ১৯৭০ সালের ১ মার্চ মারা যান। তিনি মারা যাওয়ার পর তাঁর সম্পতি ভাগবাঁটোয়ারা করতে ইছাক মিয়ার মেয়ে হাবিবা বেগম বাঘা ইউনিয়ন থেকে ১৯৭০ সালের ১ মার্চ প্রকৃত মৃত্যুর সনদ সংগ্রহ করেন। ওই মৃত্যুর সনদ এবং উত্তরাধিকারী সনদ দিয়ে তাদের ভূসম্পত্তি নামজারিসহ সকল সম্পত্তি ভাগবাঁটোয়ারা করা হয়। পরবর্তীকালে ওই চক্র প্রায় ২কোটি টাকার ভূমি আত্মসাতের জন্য মৃত ইছাক মিয়ার ভাতিজা পরিচয়ে লিলু মিয়া, কায়েস্থগ্রাম’র রেদওয়ান, হেতিমগঞ্জ এর মস্তাকসহ অন্যরা ওই তারিখে ইছাক মিয়া মারা যাননি উল্লেখ করে এবং ভুল তথ্য দিয়ে আরো একটি আবেদন করেন। এভাবে দুইবার সনদ নেওয়া হয়। ইউনিয়ন পরিষদের রেকর্ড পত্রে ১৯৭০ সালকে ১৯৭১ সাল বানিয়ে ওভারাইটিং করে সনদ দেওয়া হয়। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে সংরক্ষিত মহিলা সদস্য জোছনা বেগম এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শন করে অর্ধশতাধিক মুরুব্বির মতামতের ভিত্তিতে প্রকৃত মৃত্যুসনদ প্রদান করতে সুপারিশ করেন। এ উদ্যোগের পর জোছনা বেগমকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করলে তিনি গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় একটি জিডি করেন (নম্বর ১৫৩৮/১৬)।
জোছনা বেগম বলেন, ইছাক মিয়ার উত্তরাধিকারী হাবিবা বেগমের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত করে পুনরায় সঠিক মৃত্যু সনদ প্রদান করা হয়েছে। ইউনিয়নের সচিব কামরান আহমদ নিজের ভুল স্বীকার করে জানান, ভুল তথ্যের পরিপ্রেক্ষিতে মৃত্যু সনদ প্রদান করা হয়েছে লিলু মিয়াকে। পরে বিষয়টি জানতে পেরে সংশোধন করা হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একে এম ফজলুল হক শিবলী বলেন, মৃত্যুসনদ জালিয়াতির দরুণ ভূক্তভোগিদের পক্ষ থেকে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি।

Share





Related News

Comments are Closed