তনু, শ্যামল কান্তি তার পর কে?
গোলাম সাদত জুয়েল: শ্যামল কান্তি কে নিয়ে সারা দেশ তোলপাড়, চাপা পড়ে গেল মরহুমা তনু হত্যাকান্ড । একজন মহিলা ডাক্তার কিভাবে ময়নাতদন্ত রিপোর্টটা ওলট পালট করে দিল। সেনাবাহিনীর কয়েকজন বিপদ গামী সেনা সদস্যদের বাচানোর জন্য দেশের মানুষের সাথে তামাশা করা হচেছ । শ্যামল কান্তি কে নিয়ে নাসিম ওসমানের প্রথম নাটক সফল হলেও দ্বিতীয় নাটক ফ্লপ করেছে। যে ছেলে মিডিয়ায় বলল, শ্যামল কান্তি ধর্ম নিয়ে কিছু বলেনি, সে ছেলে দুদিন পর নতুন পাঞ্চাবী পরে হেফাজতের নেতাদের মধ্যখানে বলছে শ্যামল কান্তি ধর্মিয় ব্যাপারে আপত্তিকর কথা বলেছেন। কয়েকটা মিছিল ও কিছু ইসলামের অনুসারীদের মাঠে নামালেন নাসিম সাহেব। তারপর কি হয় দেখার বাকী। আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী মন্ত্রী তোফায়েল আহমদ ও সুশিল সমাজ শ্যামলের পক্ষে কথা বলেছেন। নাসিম ওসমান ও তার ভাই সারা নারায়নগঞ্জ নামাবে তাদের সাফাই গা্ইতে, কিন্তু দেখা যাক কোথাকার পানি কোথায় দাড়ায়। কেউ কেউ টাকা খেয়ে নাসিম ওসমানকে ইসলামের সিপাহসালার বানাবার জন্য গান লিখছেন, গাইছে। কিন্তু শেষ রক্ষা হবে কিনা দেখব প্রধানমন্ত্রীর হ্স্তক্ষেপের পর, বাস্তবতায় যেটা দেখা যাচেছ মনে হচেছ প্রধানমন্ত্রীকে পদক্ষেপ নিতে হবে । আমাদের দেশে প্রতি সপ্তাহে দেশের রাজনীতির ও সামাজিক মোড় ঘুরে যায়, তনু চলে গেছে নিভৃতে, আসলাম সাহেব এর ঘটনাটা অদৃ্শ্য হয়ে যাচেছ। শ্যামল কান্তি হয়ত ফিরে যাবেন তার স্কুলে, কিন্তু ওসমান পরিবার কি তাদের দৃষ্টিতে তার ছেড়া এ হিন্দু শিক্ষককে ছেড়ে দেবে। সমাজ কতদিন তাকে আগলে রাখবে । তবে যতটুকু অসম্মান তিনি হয়েছেন তার চেয়ে শতগুন বেশী তিনি সমাজে স্বীকৃতি পেয়েছেন । তার সততা, দৃড়তা এবং তার নিষ্টা তাকে দেশের সাধারন মানুষের মনে ঠাই দিয়েছে। শিক্ষকরা জাতির মেরুদন্ড তৈরীতে ভুমিকা রাখেন, দেশের সকল শিক্ষকদের মাঝে তার এ অপমান সমবন্টন হয়েছে। তিনি তার স্বপদে ফিরে যাবেন, সত্যের জয় হচেছ । নাসিম ওসমানের কি হবে তা সময়ে বলে দেবে । তবে ওসমান পরিবার দেশের মানুষদের কাছে এক নিকৃষ্ট পরিবার হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছে। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম তার দৃড়তায় যে দায়িত্ব পালন করেছেন ও শ্যামল কান্তির ঘটনায় দু:খ প্রকাশ করেছেন, তা শ্যামল কান্তির কষ্ট কিছুটা লাগব করবে। এখন যা হচেছ বা যা করার চেষ্টা নাসিম ও্সমান করছেন এবং তা করার জন্য যে সব গোষ্টি মাঠে নেমেছে তারা্ই ইতিহাসের আস্তাকুড়ে চলে যাবে। যারা ঘটনাকে অন্যদিনে মোড় দেবার চেষ্টা করছেন তারা সরকারের মন্ত্রী ও রাজনীতিবিদদের সাথে যুদ্ব ঘোষনা করেছেন। যেখানে সরকারের ৭ জন মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী মন্ত্রীরা শ্যামল কান্তির জন্য সহমর্মিতা জানাচেছন, সেখানে যে নতুন নাটক সাজানোর চেষ্টা করা হচেছ তা টিকবে না।
শিক্ষক সমাজের উপর অপমান ও একটি মিথ্যাকে সঠিক বলে চালানোর যে অপচেষ্টা চালানো হচেছ তা কতক্ষন ঠিকে থাকবে । সত্য সব সময় সত্য, গুটি কয়েক মানুষের অপচেষ্টায় একজন সম্মানিত মানুষকে অপমান কেউ সহ্য করবে না। ধর্মিয় অনুভুতি নামক এক ধারালো অস্ত্র অপব্যবহার করার সংস্কৃতি সাধারন মানুষ প্রত্যাখান করেছে।
যে সব ইসলামের লেবাসধারী মাঠে নেমেছেন নাসিম ওসমানকে ইসলামের খেদমতগার হিসাবে চিহ্নিত করার জন্য তাদের প্রতি অনুরোধ লতিফ সিদ্দিকী কোথায় আছে খুজ করুন। লতিফ সিদ্দিকী যে ধরনের ইসলামের বিরুদ্বে কথা বলেছে, সে তো জীবিত থাকার কথা নয়। সে তো জামিন নিয় ঢাকায় ব্যবসা বানিজ্য করছে। টাকা খেয়ে মিছিল মিটিং করছেন, হায়রে ধর্মীয় অনুভুতির সেবকদার। সরকারী তদন্তকারী প্রতিষ্টান ও বেসরকারী টিভি চ্যানেল সহ পুরো মিডিয়া যেখানে শ্যামল কান্তির কোন দোষ খুজে পেল না সেখানে কিছু ইসলামী দল মাদ্রাসার ছেলেদের নামিয়ে রাজপথ গরম করার চেষ্টা করছেন। মানুষকে বোকা বানানো কত সহজ, অথচ নাসিম ওসমান নিজে স্বীকার করছে তিনি কোন সহযোগীতা পাচেছন না। কোন বিবেকবান মানুষ বা সাংসদ তাকে সহযোগীতা করবে না । যা করা হচ্ছে তার ভাই শামিম ওসমান তাকে বাচানোর জন্য নারায়নগঞ্জ অশান্ত করার পায়তারা করছে। তবে তাদের সে দিনও বেশী দিন ঠিকবে না । শামিম ওসমান ও নাসিম ওসমান সরকারের জন্য বোঝা হয়ে গেছে । শিক্ষক সমাজের ওপর এ অপমান কে্উ সহজে মেনে না নেওয়ায় দেশে বিদেশে সবাই এখনও কান ধরে ওঠ বস করছে। ঘুর্নিঝড় রোয়ানু কি দেশের ভেতরে জেগে ওঠা এ প্রতিবাদের ঝড় উড়িয়ে নিয়ে যাবে। নাকি নতুন কোন সমস্যা দেশের মধ্যে আগামী সপ্তাহে আসবে, যার কারনে তনু’র মত শ্যামল কান্তি হারিয়ে যাবেন । নাসিম ওসমান ও শামিম ওসমানরা বার বার জয়ি হযে যাবেন। একটি পুরনো ফ্যাশব্যাক দিয়ে লেখাটা শেষ কর্ব, লতিফ সিদ্দকী অনেক বড় ধর্মিয় ব্যাপারে আঘাত দেবার পরও তার কিছু হল না। লতিফ সিদ্দীকি আমেরিকা থেকে ঠিকই দেশে এসে কয়েক মাস জেল খানায় প্রথম সারির মর্যাদায় দিন কাটিয়ে জামিন নিয়ে ভালই আছেন। ব্রাম্মনবাড়িয়ায় ছাত্রলীগের ছেলেরা কয়েককটা মাদ্রাসা ছাত্রদের মেরেছে, সারা ব্রাম্মনবাড়িয়া জ্বালিয়ে দিল মাদ্রাসার ছেলেরা। কয়েক শত কোটি টাকার সম্পদ জ্বালিয়ে দেবার পরও তাদের কারও বিরুদ্বে মামলা হল না । মাওলানা সফি সাহেব হুংকার দিলেন মাদ্রাসা ছাত্রদের গায়ে হাত দেওয়া যাবে না । তার কথা মত সব চলল, পুড়ে যাওয়া ব্রাম্মনবাড়িয়া সরকার আবার তৈরী করছে । রাজনীতির অনেক হিসাব মিলানো কঠিন, অনেকে বুঝে না । আবার অনেকে আমাদের মত বুঝেও না বোঝার চেষ্টা করেন । যেমন তনুকে কারা মেরেছে, সব জানার পরও প্রশাসন পুলিশ কিছু করতে পারছে না ।
মহান বৌদ্ব দিবসে শুধু এ কামনা পৃথিবীর সকল প্রানীর মঙ্গল হোক। আমাদের অহিংসার দিকে জীবন ধাবিত করতে হবে। বৌ্দ্ব বেচে থাকলে কি করতেন ? তারপরও পৃথিবীর সকল ধর্মেই সত্য সুন্দন ও অহিংসার কথা বলা হয়েছে । কিন্তু কতজন মানছে ধর্মিয় বানী। আমরা ধর্মকে আমাদের রাজনীতির হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করছি। আমাদের প্রার্থনা প্রকৃতিক এই বিপর্যয়ে সকল প্রানী রক্ষা পাবে । মানবতার সেবায় সবা্ই এগিয়ে আসবেন । ঘুর্নিঝড় বোয়ানু তেমন কোন ক্ষতি করবে না এ প্রার্থনা । লেখক: সাংবাদিক-কলামিষ্ট (আমেরিকা প্রবাসী) ২১ মে, ২০১৬।
Related News
পত্নীতলায় তৃণমূলে গণমানুষের নেতৃত্বে গড়ে উঠছে পুষ্টি সমৃদ্ধ গ্রাম
Manual1 Ad Code মহসিনা ফেরদৌস, পত্নীতলা (নওগাঁ) প্রতিনিধি: পত্নীতলার পাটিআমলাই গ্রামের নাহিদা সুলতানা একজন গৃহবধু।Read More
বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য যে সুযোগ দিলো ডেনমার্ক
Manual4 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে পড়তে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য খন্ডকালীনRead More



Comments are Closed