ফুলবাড়ীতে ১ মণ ধানের দামে ১ কেজি গরুর মাংস
মোস্তাফিজুর রহমান সুমন, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে গত কয়েক দিন থেকে শুরু হয়েছে বোরো ধান কাটা-মাড়াইয়ের কাজ। এ বছর বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকের মুখের হাসি কেড়ে নিয়েছে ধানের বাজার মুল্য। ভাল নাই, যারা এই অঞ্চলে কৃষির উপর নির্ভরশীল কৃষকরা। তাদের উৎপাদিত ধান বিক্রি করে, প্রয়োজনীয় সমস্যার সমাধান করতে হিমশিম খাচ্ছে।
ফুলবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে দেখা যায়, কৃষকের উৎপাদিত ধান বর্তমানে বাজারে বিক্রি হচ্ছে হাইব্রিড ১ মণ ৩৫০-৪০০ টাকা, ২৮ জাতের ১ মণ ধান ৪০০-৪৫০ টাকায়।
আজ রবিবার উপজেলার বারাই হাটে কৃষক মোঃ মফিজুল ইসলাম তার উৎপাদিত ১০ মণ ধান বিক্রি করার জন্য হাটে নিয়ে আসলে তিনি মণ প্রতি ৪০০-৪৫০ টাকা দরে ধান বিক্রি করেন। ধান বিক্রি শেষে ১ কেজি গরুর মাংস তিনি ক্রয় করেছেন ৪০০ টাকা কেজি দরে। তারপর বাজার দর নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ১ মণ ধান বিক্রি করে ১ কেজি মাংস কিনতে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ১ মণ ধান বিক্রি করে ১ কেজি গরুর মাংস পাওয়া গেলেও খাসির মাংস পাওয়া যায় না। ফলে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত কৃষকদের মাংস ক্রয় ক্ষমতার বাহিরে চলে গেছে। ১ কেজি গরুর মাংস ৪০০ টাকা, খাসি ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বারাইহাট এলাকায় জসীম নামে একজন কৃষক জানান, বেশ কিছুদিন ধরে তিনি মাংস কিনেন না, তার ছোট ছেলে মাংসের আবদার করলে, গরুর মাংসের বদলে ব্রয়লার মাংস কেজি ১৫০ টাকা দিয়ে কিনেন। জাম গ্রামের কৃষক বেলাল জানান, তার উৎপাদিত ধান ৪০০ টাকা দরে বিক্রি করে মাংসের বদলে ছোট মাছ কিনেছি।
মহেশপুর গ্রামের আফছার আলী ধানের বাজার দর কম হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ধান আর চাষ করা যাবে না, ক্ষেতের ধানের অর্ধেকের মতো চলে যাচ্ছে ধান কাটার মজুরদের হাজিরা দিতে। তিনি জানান, এক একর জমিতে ধান হয়েছে ৬০ মন বা ৩০ বস্তা, যার বাজারে দাম মাত্র ২৪ হাজার টাকা। কিন্তু এক একর জমির ধান কাটা মাড়াই করতে মজুরের হাজিরা দিতে হচ্ছে ৯ হাজার টাকা। এছাড়া এতদিনের শ্রম খরচতো আছে। তাহলে শুধু ধান চাষ করে টাকা লোকশান করার দরকার কি?
বাসুদেবপুর গ্রামের ওয়াজেদ আলী ধানের বাজার দর কম হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করলেও তিনি কিছুটা আশাবাদী এই জন্য সবেমাত্র ধান কাটা-মাড়াইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। সরকার ধান কেনা শুরু করলে বাজার দর পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ফুলবাড়ী উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মধুসূদন বর্মন জানান, সরকার কৃষকের কথা বিবেচনা করে ২৮ জাতের ধান কেজি প্রতি ২৩ টাকা হিসেবে মুল্য ধার্য্য করেছে। সেই হিসেবে ১ মণ ধানের মূল্য হচ্ছে ৯২০ টাকা। তবে সরকারিভাবে কবে নাগাদ ধান কেনা শুরু হবে তার কোন প্রকার অফিস আদেশ আমরা এখনও হাতে পাইনি। তবে কিছুদিন দেরী হলেও সরকার অবশ্যই ধান কেনা শুরু করবে। সরকার ধান কেনা শুরু করলে বাজার দর পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
Related News
ধানখেতে মিলল নারী-পুরুষের অর্ধগলিত মরদেহ
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: যশোরের কেশবপুর উপজেলার একটি ধানখেতের পাশ থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারী ও একRead More
যশোরে স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: যশোরের অভয়নগরে এক স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।Read More



Comments are Closed