Main Menu

বিশ্বকবির জন্মদিন আজ

Manual8 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: চির নূতনেরে দিল ডাক পঁচিশে বৈশাখ। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৫তম জন্মজয়ন্তী আজ। এ উপলক্ষে দেশে ও দেশের বাইরে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহন করা হয়েছে।
বিশ্বকবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্টপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে উল্লেখ করেন, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ বাংলা সাহিত্যের একজন দিকপাল, উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাঁর সাহিত্য সম্ভার যেমন বিশাল তেমনি বর্ণাঢ্য। তাঁর কালজয়ী লেখায় একদিকে ঋদ্ধ হয়েছে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, অন্যদিকে তা বিশ্বসাহিত্যের অপরিহার্য উপাদানে পরিণত হয়েছে আপন বৈভব, আঙ্গিক, বহুমাত্রিকতায়।
কবির মানসপটে ছিল শিল্পের পরিশীলিত আবহ, প্রকৃতি, প্রেম, আধ্যাত্মিকতা এবং তাতে সম্মিলন ঘটে বিশ্বসভ্যতা, দর্শন ও বিজ্ঞান। রবীন্দ্রনাথ পারিপার্শ্বিক সবকিছুকে আত্মস্থ করেছেন গভীর উপলব্ধিতে এবং এর সার্থক বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন তাঁর কালোত্তীর্ণ সাহিত্যকর্মে।
তিনি একাধারে কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক। রবীন্দ্রনাথ কেবল তাঁর কালের কবি নন, তিনি কালজয়ী। তিনি বাংলা সাহিত্যকে পূর্ণতা দিয়েছেন, দিয়েছেন বিশ্বসমাজে উচ্চ প্রতিষ্ঠা ও মর্যাদা। শিল্প-সাহিত্যে তাঁর বিপুল অবদান আমাদের সাংস্কৃতিক সত্তার এক অপরিহার্য অংশ।
রবীন্দ্রনাথের বিশালতা এবং তাঁর সৃষ্টির অপূর্ব মাধুর্যকে অন্তরাত্মা দিয়ে উপলব্ধি করতে হলে রবীন্দ্রচর্চার বিকল্প নেই। আমি আশা করব জগৎ-সংসারকে গভীরভাবে জানতে তরুণ প্রজন্ম রবীন্দ্র সাহিত্যে অবগাহন করবে, রবীন্দ্রচর্চায় থাকবে ব্যাপৃত।
প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে উল্লেখ করেন, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা ও বাঙালির শৈল্পিক অহঙ্কারের এক বিশ্বব্যাপ্ত নাম। তিনি নিজের সমৃদ্ধ সাহিত্যচর্চার পরিধি দিয়ে বিস্তৃত করেছেন গোটা বাংলা সাহিত্যের পরিসর। তিনি বিশ্বসাহিত্যের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র। তিনি ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। কালজয়ী এ কবি জীবন ও জগৎকে দেখেছেন অত্যন্ত গভীরভাবে যা তাঁর কবিতা, ছোটগল্প, উপন্যাস, নাটক, গীতিনাট্য, প্রবন্ধ ও ভ্রমণ কাহিনী, সঙ্গীত ও চিত্রকলায় সহ¯্রধারায় উৎসারিত হয়েছে।
সাহিত্য, সঙ্গীত ও শিল্পমাধ্যমের প্রতিটি শাখায় তাঁর অনায়াস বিচরণ সত্যিই বিস্ময়কর। তিনি ছিলেন শান্তির কবি, মানবতার কবি। তিনি ছিলেন প্রকৃতির চিরন্তন সৌন্দর্য ও বৈচিত্র্যের সাধক। ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জন করে তিনি বাংলা সাহিত্যের বৈশ্বিক অভিযাত্রাকে বেগবান করেছেন।
রবীন্দ্রনাথ ছিলেন প্রকৃতিলগ্ন ও জীবনমুখী শিক্ষাদর্শনের পথপ্রদর্শক। তাঁর শিক্ষাভাবনা আমাদের বিজ্ঞানভিত্তিক, আধুনিক শিক্ষায় অগ্রগামী হতে অনুপ্রাণিত করে। বাংলাদেশের মাটি ও মানুষের তিনি একান্ত আপনজন।
কবিগুরুর অমর সৃষ্টি ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি’ গানটি জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে গ্রহণ করেন যা দেশের মানুষের মনে সঞ্চারিত করেছে দেশপ্রেমের নতুন প্রেরণা। বিশ্বব্যাপী দ্বন্দ্ব, সংঘাত ও বৈষম্যের বিলোপ সাধন এবং ধর্ম-বর্ণ-ভাষার বৈচিত্র্য সমুন্নত রাখতে রবীন্দ্রনাথের জীবন ও দর্শন এক উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা।
কবিগুরু বরীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিন বাঙালির জীবনে এক আনন্দঘন উৎসবের উপলক্ষ। কবির পূর্বপুরুষদের স্মৃতিবিজড়িত খুলনার দক্ষিণডিহি এবং নওগাঁর পতিসর, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর ও কুষ্টিয়ার শিলাইদহসহ তার স্পর্শে ধন্য প্রতিটি স্থানেই উদযাপিত হচ্ছে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ (১৮৬১ সালের ৭ মে) কলকাতার অভিজাত পরিবার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে। কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবার তখন মানমর্যাদায়, বুদ্ধি ও সংস্কৃতি চর্চায় খ্যাতির মধ্যগগনে। মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর-সারদা দেবীর চতুর্দশ অর্থাৎ সর্বকনিষ্ঠ সন্তান রবীন্দ্রনাথ বেড়ে ওঠেন মুক্ত সাংস্কৃতিক পরিবেশে।
প্রচলিত শিক্ষাধারার প্রতি রবীন্দ্রনাথের অনাগ্রহ দেখে তার মেজদা সত্যেন্দ্রনাথ তাকে ব্যারিস্টারি পড়াতে বিলাত নিয়ে যান। সেখানে তাকে ১৮৭৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ব্রাইটন পাবলিক স্কুল ও লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে পড়ে কোর্স শেষ না করেই দেশে ফিরে আসেন। এ সময় তিনি সমাজ ও জীবনকে গভীরভাবে নিরীক্ষণ এবং উপলব্ধি করেন। একই সঙ্গে প্রতিভা বিকাশ তথা সাহিত্যকর্মের বিচিত্র পথও খুঁজে পান। রবীন্দ্র প্রতিভার সত্যিকার স্ফুরণ ঘটে এখান থেকেই। এ সময় তিনি রচনা করেন বাল্মিকী প্রতিভা গীতিনাট্য। একে একে রচনা করতে থাকেন কবিতা ও গান। প্রকৃতির প্রতিশোধ, কড়ি ও কোমল, মায়ার খেলা ও মানসী কাব্য তার এ সময়কার রচনা। এর একাধিকবার বিলাত ভ্রমণ এবং জমিদারি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েই তিনি মাটি ও মানুষের সংস্পর্শে আসেন। জমিদারি তদারকি উপলক্ষে তিনি শাহজাদপুর, পতিসর, কালিগ্রাম ও শিলাইদহসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বেড়ান। এ সময় বাংলায় পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, ইছামতিতে নৌকা ভ্রমণের মধ্য দিয়ে বাংলার নিসর্গ ও নদীবর্তী সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা তার ভেতরে জাগিয়ে তোলে প্রকৃতি ও মানুষের প্রতি অপার ভালোবাসা। বিচিত্র দেশ ভ্রমণ, সমকালীন ঘটনাবলীর তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ এবং জ্ঞান-বিজ্ঞান, দর্শন ও রাজনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রের অগ্রগণ্য ব্যক্তিদের সান্নিধ্যে আসার মধ্য দিয়ে তিনি সর্বমানবিকতার পথে নিয়ে গিয়েছিল তাকে। পৌত্তলিক ধর্মের আধুনিকায়ন করে ব্রাহ্ম ধর্মের সার্বজনীনতাও তাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছিল। আর এজন্যই রাজা রামমোহন রায়ের সংস্পর্শে এসে প্রতিষ্ঠা করেন ব্রাহ্মসমাজ।
যুগে যুগে পৃথিবীতে সাহিত্য, সংস্কৃতি, সভ্যতা, দর্শন ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে যে রূপান্তর ঘটেছে, রবীন্দ্রনাথ তার সবকিছুকেই আত্মস্থ করেছেন গভীর অনুশীলন, ক্রমাগত নিরীক্ষা এবং বিশ্বপরিক্রমার মাধ্যমে। এর মধ্য দিয়ে তিনি পেয়েছেন যেমন, আমাদের দিয়েছেন তেমনি উজাড় করে। তাই তো রবীন্দ্রনাথ শুধুই বাঙালির- শুধুই বাংলার।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code