Main Menu

সিলেটে শিশু ফাহিমা হত্যায় জাকিরের মৃত্যুদণ্ড

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের শিশু ফাহিমা আক্তার হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি জাকির হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি তাকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

রায়ে অপর দুই আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে মহানগর শিশু সহিংসতা ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও বিশেষ জজ আবু ওবায়দা এ রায় ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও মহানগর আদালতের পিপি মো. বদরুল আহমদ চৌধুরী সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জাকির হোসেন (৩০) সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা পশ্চিমপাড়ার ধন রায়ের চক এলাকার বাসিন্দা মৃত তোতা মিয়ার ছেলে এবং প্রতিবেশী ও সম্পর্কে নিহত শিশুটির চাচা।

তিনি বলেন, মাত্র তিন মাসের মধ্যে এ মামলার রায় ঘোষণা হলো। আদালত জাকিরের দুই ভাই জয়নাল আবেদীন ও আবুল কালামের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য প্রমাণ না পাওয়ায় তাদের খালাস দেন।

চলতি বছরের ১১ মে রাতে চার বছরের শিশু ফাহিমাকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার অভিযোগে তার প্রতিবেশী জাকির হোসেনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

ঘটনার এক মাস পাঁচ দিনের মাথায় পুলিশ জাকির হোসেন ও তার দুই সহোদর জয়নাল আহমদ এবং আবুল কালামকে অভিযুক্ত করে
আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।

অভিযোগপত্রে জাকির হোসেনকে প্রধান আসামি হিসেবে তার বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। তার দুই ভাই জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামকে লাশ গুমে সহযোগিতার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়।

গত ৬ মে ফাহিমা নিখোঁজ হয়। নিহত ফাহিমা আক্তার (৪) সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের দিনমজুর রাইসুল হকের মেয়ে।

ঘটনার দুই দিন পর গত ৮ মে ভোররাতে তার মরদেহ গ্রামের একটি ডোবার পাশ থেকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশ বলছে, জাকির প্রথমে মরদেহ ডোবায় ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে সেটি পানিতে না ডুবিয়ে ডোবার পাশেই ফেলে রেখে যান। স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

গ্রেফতারের পর জাকির পুলিশের কাছে ও পরে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় এ ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা দেন।

হত্যাকারী জাকির ও নিহত ফাহিমা।

এরআগে গত ১২ মে জাকিরকে গ্রেফতারের পর সংবাদ সম্মেলনে সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, ৬ মে সকালে ফাহিমাকে একটি দোকান থেকে সিগারেট এনে দিতে পাঠানো হয়। শিশুটি সিগারেট এনে দেওয়ার পর তাকে নিজের ঘরে ডেকে নেন জাকির। এসময় তার স্ত্রী বাড়িতে ছিলেন না। ঘরের দরজা বন্ধ করে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানায় আসামি। তবে ধর্ষণ সংঘটিত হয়েছিল কি না, তা মেডিকেল রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানায় পুলিশ।

পুলিশের দাবি, একপর্যায়ে শিশুটি অজ্ঞান হয়ে গেলে তাকে গলা টিপে হত্যা করা হয়। মরদেহ প্রথমে ঘরের ভেতরে একটি ব্রিফকেসে লুকিয়ে রাখা হয়। এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু হলে পরে লাশ সরিয়ে বাড়ির পেছনে রাখা হয়। সেখান থেকে দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করলে গভীর রাতে পাশের একটি ডোবায় লাশ ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে মরদেহ পানিতে না ডোবার পাশেই রেখে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত জাকির।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, অভিযুক্তের দেখানো মতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাদর ও ব্রিফকেস উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসব আলামত জব্দ করে তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হবে। এই হত্যার ঘটনায় সিলেটজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। ফাহিমা হত্যাকারীদের বিচার দাবিতে আন্দোলনে নামেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ফাহিমার বাড়িতে গিয়ে দ্রুত বিচারের আশ্বাস দেন।

 

Share





Related News

Comments are Closed