Main Menu

কমলগঞ্জে স্কুলছাত্রী মীমের মৃত্যুর ঘটনায় প্রধান আসামীকে গ্রেপ্তার না করার প্রতিবাদে মানববন্ধন

Manual8 Ad Code

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে বখাটে এক যুবকের দীর্ঘদিনের মানসিক নির্যাতন ও ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়ে স্কুলছাত্রী মীম আক্তার (১৫) আত্মহত্যার ঘটনায় ফুঁসে উঠেছে স্কুল সহপাঠী ও এলাকাবাসী। ঘটনার ১৮ দিন পার হয়ে গেলেও এখনো প্রধান অভিযুক্ত বখাটে সানোয়ার মিয়া গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে তার স্কুল সহপাঠী, শিক্ষক ও এলাকাবাসী।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে মাধবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর যৌথ উদ্যোগে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

Manual7 Ad Code

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: আব্দুস সোবহান, সহপাঠী সোহানা আক্তার, নেহা আক্তার, সুমন মিয়া, বেলাল আহমেদসহ মীমের অভিভাবক মনির মিয়া, চাচাতো বোন শরীফা আক্তার, ফুফু আম্বিয়া বেগম, চাচী রেহানা বেগম ও মামা মিলন মিয়া প্রমুখ।

এ সময় বক্তারা বলেন মীম আক্তারের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষী বখাটে সানোয়ারের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির জোর দাবি জানান। ঘটনার ১৮ দিন পার হয়ে গেলেও এখনো প্রধান অভিযুক্ত সানোয়ার মিয়া গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

বক্তারা আরো বলেন, মীমের মতো আর কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর জীবন যেন এভাবে বখাটেদের কারণে ঝরে না যায়। ভিডিও বার্তার মতো স্পষ্ট প্রমাণ থাকার পরও মূল অভিযুক্ত সানোয়ার মিয়া এখনো আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রশাসন যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে বখাটে সানোয়ারকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় না আনে, তবে আগামীতে আরও কঠোর ও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

Manual6 Ad Code

উল্লেখ্য, নিহত মীম আক্তার উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের কাটাবিল গ্রামের মনির মিয়ার মেয়ে এবং মাধবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। বখাটে সানোয়ার মিয়া দীর্ঘদিন ধরে মীমকে নানাভাবে মানসিক নির্যাতন ও ব্ল্যাকমেইল করে আসছিল। লোকলজ্জা ও মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে মীম আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। আত্মহত্যার আগে ধারণ করা একটি ভিডিও বার্তায় মীম তার এই চরম সিদ্ধান্তের জন্য অভিযুক্ত সানোয়ার মিয়ার ব্ল্যাকমেইল ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে যায়।

Manual5 Ad Code

লাগাতার ব্ল্যাকমেইলের কারণেই মীম বিষপানে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছে। বিষপানের পর আশঙ্কাজনক অবস্থায় মীমকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে আইসিইউতে এক সপ্তাহ মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে গত ২২ মে রাত ১১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরদিন মীমের পিতা মনির মিয়া বাদী হয়ে ৩ জনকে আসামী করে কমলগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় এজাহারভূক্ত আসামী সানোয়ারের পিতা পচন মিয়াকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও প্রধান অভিযুক্ত আসামী সানোয়ার মিয়াকে ১৮ দিনেও গ্রেপ্তার করা যায়নি। মীমের এই অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও সহপাঠীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে।

Manual8 Ad Code

কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো: কমর উদ্দিন জানান, প্রধান আসামী মুঠোফোন ব্যবহার না করায় তার লোকেশন নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছেনা। তবে তাকে ধরতে সবধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code