Main Menu

শিশু ফাহিমা হত্যার দ্রুত বিচার চাইলেন জামায়াত আমির

Manual7 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের বাদাঘাটে যৌন নির্যাতন ও খুনের শিকার শিশু ফাহিমা আক্তারের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

Manual6 Ad Code

মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে ফাহিমার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন- ২৮ দিন পেরিয়ে গেলেও মামলার তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়া উদ্বেগজনক।

তিনি বলেন, “একটি অবুঝ শিশুর জীবন ও সম্ভ্রম কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অপরাধী এবং তাদের সহযোগীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। তারা দেশের যেখানেই আত্মগোপন করে থাকুক না কেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তাদের গ্রেপ্তার করতে হবে। তিনি বলেন, “এ ধরনের অপরাধের বিচার না হলে সমাজে অপরাধপ্রবণতা আরও বাড়বে। ঘটনার পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও এখনও অভিযোগপত্র দাখিল হয়নি।

এজন্য তিনি সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের প্রতি দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করার আহ্বান জানান।

ফাহিমার পরিবারের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী আইনগতসহ সব ধরনের সহযোগিতা নিয়ে তাদের পাশে থাকবে। তিনি স্থানীয় জনগণকেও পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

Manual2 Ad Code

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা চাই না আর কোনো বাবা-মাকে বলতে হোক—আমার সন্তানকে আর ফিরে পাব না, আমি শুধু বিচার চাই। বিচার ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, দেশের যেখানেই কোনো নির্যাতিত বা মজলুম মানুষের ঘটনা ঘটবে, সেখানেই মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবে তার দল।

Manual1 Ad Code

হত্যাকারী জাকির ও নিহত ফাহিমা।

উল্লেখ্য, সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের জালালাবাদ থানাধীন সোনাতলা গ্রামের শিশু ফাহিমা গত ৬ মে দুপুরে নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় একই দিন পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

নিখোঁজের তিন দিন পর বাড়ির পাশের একটি পুকুরপাড় থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

‎ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় যুবসমাজ অভিযুক্তদের শনাক্তে কাজ শুরু করে। একপর্যায়ে গত ১১ মে জাকির নামের এক যুবককে জালালাবাদ থানা পুলিশ আটক করে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে জাকির ফাহিমাকে হত্যার বিষয়ে স্বীকারোক্তি দেয়।

স্থানীয়রা জানান, বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে শিশু ফাহিমাকে পাশবিক নির্যাতন করে জাকির। এরপর ফাহিমাকে হত্যা করে স্ত্রীর ওড়না দিয়ে পেঁচিয়ে ব্যাগে রাখে জাকির। পরে সেই ওড়নাসহ বাদাঘাট এলাকার ডোবায় ফেলে দেয় জাকির। ওই ডোবা থেকে ৮ মে ফাহিমার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

Manual1 Ad Code

নিহত শিশু ফাহিমা সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের দিনমজুর রাইসুল হকের মেয়ে। রাইসুল হক স্থানীয় বাজারে একটি দোকানে দিনমজুরের কাজ করেন।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ফাহিমাকে হত্যার পর তাকে ওড়না পেচিয়ে বালতির মধ্যে রাখে। তার জিহ্বা ও চোখ দুটো বেরিয়ে এসেছিল। অপরাধী জাকির ইয়াবাখোর। ধর্ষণের পর শিশুটিকে হত্যা করে লাশ গুম করার চেষ্টা করে। তখন এলাকাবাসী শিশুটির খোঁজে চারিদিকে খোঁজ খবর রাখছিল, নয়তো সে কেটে নদীতে ভাসিয়ে দিতো।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code