Main Menu

ছাতকে যুবককে অপহরণ, মাকে ডেকে এনে নির্যাতন

Manual6 Ad Code

ছাতক প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় এক প্রবাসীর স্ত্রীর কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ার জেরে এক যুবককে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে আটকে রেখে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, পরে তার মাকেও কৌশলে ডেকে এনে জিম্মি করে মারধর, ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত এবং নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। আলোচিত এ ঘটনায় উপজেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের তাকিপুর গ্রামে গত ২৭ মে রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

আহত যুবক জাকারিয়া একই গ্রামের সেলিম উদ্দিনের ছেলে। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসী জুনাব আলীর স্ত্রী সুলতানা বেগম জাকারিয়াকে বিভিন্নভাবে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু জাকারিয়া তাতে সাড়া না দেওয়ায় তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন তিনি।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ঘটনার দিন জাকারিয়াকে সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়ক থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় সুলতানা বেগমের কথিত পুরোনো প্রেমিক একই গ্রামের আব্দুল মালিকের ছেলে আবুল হোসেন, তার সহযোগী ভাড়াটিয়া মাসুমসহ কয়েকজন। পরে তাকে সুলতানা বেগমের কক্ষে আটকে রাখা হয়।

Manual3 Ad Code

একপর্যায়ে জাকারিয়ার মা কুলসুম বেগমকে বিভিন্ন কৌশলে সেখানে ডেকে আনা হয়। তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর তাকেও জিম্মি করে মা-ছেলেকে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্যাতনের একপর্যায়ে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে দুজনকে গুরুতর আহত করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, জাকারিয়ার প্যান্টের পকেটে থাকা নগদ দেড় লাখ টাকা এবং তার মায়ের গলায় থাকা প্রায় ১২ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন, যার আনুমানিক মূল্য ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা, জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয় অভিযুক্তরা। এছাড়া ঘটনা প্রকাশ করলে এবং থানায় কিংবা আদালতে অভিযোগ দায়ের করলে পুরো পরিবারকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনার খবর পেয়ে গ্রামবাসী দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে সুলতানা বেগমের কক্ষ থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় জাকারিয়া ও তার মা কুলসুম বেগমকে উদ্ধার করা হয়। তাদের প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হলে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে, আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এদিকে এ ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে যুবক ও তার মাকে ফাঁদে ফেলে আটকে রেখে নির্যাতন চালানো হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনার পর আহত জাকারিয়ার বাবা সেলিম উদ্দিন গত ২৯ মে রাতে ছাতক থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে আবুল হোসেনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া প্রবাসীর স্ত্রী সুলতানা বেগম, তার মেয়ে তানিয়া বেগম এবং মাসুমসহ আরও কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, এমন নৃশংস ঘটনার নজির সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় খুব কমই দেখা গেছে। একজন যুবককে অপহরণ করে আটকে রাখা, পরে তার মাকে ডেকে এনে নির্যাতন চালানো এবং অর্থ-স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
তবে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কথা বলতে রাজি হননি বলে জানা গেছে।

Manual6 Ad Code

এ বিষয়ে ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এদিকে আহতদের স্বজনরা দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় এখনো প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে। ফলে ভুক্তভোগী পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় যুবককে অপহরণ, মাকে ডেকে এনে নির্যাতন

ছাতক প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় এক প্রবাসীর স্ত্রীর কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ার জেরে এক যুবককে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে আটকে রেখে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, পরে তার মাকেও কৌশলে ডেকে এনে জিম্মি করে মারধর, ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত এবং নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। আলোচিত এ ঘটনায় উপজেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের তাকিপুর গ্রামে গত ২৭ মে রাত প্রায় ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

আহত যুবক জাকারিয়া একই গ্রামের সেলিম উদ্দিনের ছেলে। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসী জুনাব আলীর স্ত্রী সুলতানা বেগম জাকারিয়াকে বিভিন্নভাবে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু জাকারিয়া তাতে সাড়া না দেওয়ায় তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন তিনি।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ঘটনার দিন জাকারিয়াকে সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়ক থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় সুলতানা বেগমের কথিত পুরোনো প্রেমিক একই গ্রামের আব্দুল মালিকের ছেলে আবুল হোসেন, তার সহযোগী ভাড়াটিয়া মাসুমসহ কয়েকজন। পরে তাকে সুলতানা বেগমের কক্ষে আটকে রাখা হয়।

একপর্যায়ে জাকারিয়ার মা কুলসুম বেগমকে বিভিন্ন কৌশলে সেখানে ডেকে আনা হয়। তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর তাকেও জিম্মি করে মা-ছেলেকে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্যাতনের একপর্যায়ে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে দুজনকে গুরুতর আহত করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, জাকারিয়ার প্যান্টের পকেটে থাকা নগদ দেড় লাখ টাকা এবং তার মায়ের গলায় থাকা প্রায় ১২ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন, যার আনুমানিক মূল্য ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা, জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয় অভিযুক্তরা। এছাড়া ঘটনা প্রকাশ করলে এবং থানায় কিংবা আদালতে অভিযোগ দায়ের করলে পুরো পরিবারকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনার খবর পেয়ে গ্রামবাসী দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে সুলতানা বেগমের কক্ষ থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় জাকারিয়া ও তার মা কুলসুম বেগমকে উদ্ধার করা হয়। তাদের প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হলে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে, আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এদিকে এ ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে যুবক ও তার মাকে ফাঁদে ফেলে আটকে রেখে নির্যাতন চালানো হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনার পর আহত জাকারিয়ার বাবা সেলিম উদ্দিন গত ২৯ মে রাতে ছাতক থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে আবুল হোসেনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া প্রবাসীর স্ত্রী সুলতানা বেগম, তার মেয়ে তানিয়া বেগম এবং মাসুমসহ আরও কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

Manual6 Ad Code

স্থানীয়দের মতে, এমন নৃশংস ঘটনার নজির সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় খুব কমই দেখা গেছে। একজন যুবককে অপহরণ করে আটকে রাখা, পরে তার মাকে ডেকে এনে নির্যাতন চালানো এবং অর্থ-স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
তবে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কথা বলতে রাজি হননি বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

Manual4 Ad Code

এদিকে আহতদের স্বজনরা দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় এখনো প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে। ফলে ভুক্তভোগী পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code