রবিবার থেকে শুরু হচ্ছে শিশুদের হামের টিকা কার্যক্রম
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: আগামী রবিবার (৫ এপ্রিল) থেকে জরুরি ভিত্তিতে ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের হামের টিকা কার্যক্রম শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বুধবার (১ এপ্রিল) সচিবালয়ে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, আপৎকালীন ব্যবস্থা হিসেবে গ্যাভির (ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনার বৈশ্বিক জোট গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিন ইনিশিয়েটিভ) কাছ থেকে ২ কোটি ১৯ লাখ ডোজ হামের ভ্যাকসিন নিয়ে দেওয়া হবে। এটা ধার নেওয়া হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে এটা তাদের দিয়ে দেওয়া হবে।
এ কর্মসূচি পরিচালনায় আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) থেকে মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে বলেও জানান স্বাস্থ্য মন্ত্রী।
তিনি বলেন, আমরা আগামী রবিবার থেকে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করব। এ উলক্ষ্যে আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) থেকে আমরা মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সমস্ত ছুটি আমরা প্রত্যাহার করে নিলাম। এখন কোনো ছুটি থাকবে না। ভ্যাকসিন যারা দেবেন, তারা সবাই স্থানীয় কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে তারা থাকবে মাঠে থাকবেন এবং কাজ করবেন।
বুধবার ও বৃহস্পতিবারের মধ্যে সিরিঞ্জ সংগ্রহ করে যেসব উপজেলায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত, সেগুলোসহ প্রত্যেকটা উপজেলায় এসব টিকা পাঠিয়ে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আগামী দুইদিনের ভেতরে ভ্যাকসিন ও সিরিঞ্জ আমরা গ্রামাঞ্চলে পাঠিয়ে দেব। রবিবার সকাল থেকে আমরা নিজেরা বিভিন্ন জায়গায় এটার উদ্বোধন করব ইনশআল্লাহ।
হাম মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত বলেন, যত ভয়াবহভাবে হাম আমাদের আক্রমণ করেছে, আমরা তার তার চেয়ে দ্রুতগতিতে ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করেছি। কিছু প্রাণহানি হয়েছে, তারপরও বলব—এটা আমাদের অনেকটা সার্থকতা।
তিনি বলেন, আমরা বিভিন্ন জায়গায় সঠিকভাবে ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করেছি। অতি তড়িৎ গতিতে বেসরকারি খাত থেকে ভেন্টিলেটর সংগ্রহ করেছি, বাচ্চারা যাতে অক্সিজেনের অভাবে মারা না যায়।
মন্ত্রী জানান, হামের সঙ্গে নিউমোনিয়া আক্রান্তদের মৃত্যুহার বেশি। নিউমোনিয়া আক্রান্ত হলে ফুসফুসের ভেতর শ্লেষ্মা হয়। যার ফলে ফুসফুসে অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায় যা রোগীকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়।
হামের প্রাদুর্ভাব ও এর আনুষঙ্গিক নিউমোনিয়াজনিত শিশুমৃত্যু রোধে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আইসিডিডিআরবি যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
তিনি আরও জানান, আইসিডিডিআরবির পক্ষ থেকে বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্ভাবনী ও সাশ্রয়ী ‘বাবল সিপ্যাপ’ প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে যা শিশুদের শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতা কমাতে অত্যন্ত কার্যকর।
সম্প্রতি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হামের সংক্রমণ বাড়ছে। হাম নিয়ে হাসপাতালগুলোতে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ও শিশু মৃত্যুর ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
ঢাকা ও রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় হাম আক্রান্ত হয়ে এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
Related News
দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১০ শিশুর মৃত্যু
Manual3 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবারRead More
সিলেটে হামের উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু
Manual3 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও একRead More



Comments are Closed