যথাসময়ে শাকসু নির্বাচনের দাবি, অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষরে আপত্তি প্রার্থীদের
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন নির্ধারিত সময়ে হওয়ার দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছে বিভিন্ন প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেল ৪টায় শাকসু নির্বাচন কমিশনের কাছে এই স্মারকলিপি জমা দেন তারা।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, আমরা ইতিমধ্যে লক্ষ করেছি গত ১২ জানুয়ারি ২০২৬ বাংলাদেশ জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি প্রজ্ঞাপনকে (নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের স্মারক নম্বর- ১৭.০০.০০০০.০৩৪.৩৬.০০৯.২৫-৩৬৭) কেন্দ্র করে আসন্ন শাকসু নির্বাচনের পথে বাধা তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশন থেকে মনে করা হচ্ছে, শাকসু নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনে বিরূপ প্রভাব ফেলবে।
আমরা শাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীগণ মনে করি যে, জাতীয় নির্বাচনের সাথে শাকসু নির্বাচনের কোন ধরনের সংশ্লিষ্টতা ও সাংঘর্ষিকতা নেই। আসন্ন শাকসু নির্বাচন কোনভাবেই জাতীয় নির্বাচনকে প্রভাবিত করে না।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অঙ্গীকারনামা বা মুচলেকা চাওয়া কোনভাবেই সম্মানজনক না, আমরা এই ধরনের পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করি। এজন্য আমরা বিশ্বাস করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্ণ সদিচ্ছা ও দায়িত্বশীল ভূমিকার মাধ্যমে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে কোন বাধা নেই। সুতরাং, আমরা পূর্বনির্ধারিত সময়ে যে কোন কর্তৃপক্ষ থেকে নতুন কোন শর্ত আরোপ ছাড়াই শাকসু নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানাই।
এ সময় শাকসু প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. আবুল মুকিত মোহাম্মদ মুকাদ্দেছ বলেন, ‘আমরা শতভাগ প্রস্তুত। আমাদের কাজ বন্ধ হয়নি। আমরা চাই যথাসময়েই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। সবার সহযোগিতা পেলে আশা করছি নির্ধারিত সময়েই শাকসু নির্বাচন দেওয়া সম্ভব হবে।’
এরআগে সোমবার (১২ জানুয়ারি) জাতীয় নির্বাচনের আগে ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজন না করার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রজ্ঞাপন জারি করে। এর প্রতিবাদে ওই রাতেই শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে নামেন।
এরপর মঙ্গলবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য মো. সাজেদুল করিম বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করেছেন। সেখান থেকে শাকসু নির্বাচন নিয়ে তিনটি শর্ত দেওয়া হয়েছে। প্রার্থীদের শর্তগুলো মেনে অঙ্গীকারনামায় সই করে শাকসু নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দিতে হবে। কমিশন সেই অঙ্গীকারনামা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকে পাঠাবে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সেটা ইসিতে পাঠাবে। সেখান থেকে আবার বার্তা এলে নির্বাচন আয়োজন হবে।
সহ-উপাচার্য মো. সাজেদুল করিম জানান, শর্তগুলো হলো- নির্বাচনকালে কোনো ধরনের সহিংসতা ঘটবে না, নির্বাচনের আগে ও পরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনো অবনতি হবে না ও এই নির্বাচন কোনোভাবেই জাতীয় নির্বাচনে বিরূপ প্রভাব ফেলবে না।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ২৬ নভেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ শুরু। সকল প্রক্রিয়া শেষে ১১ ডিসেম্বর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ। ২০ জানুয়ারি সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
প্রায় ২৮ বছর পর হওয়া এ নির্বাচনে কেন্দ্রীয় সংসদে ২৩টি এবং হল সংসদে নয়টি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
Related News
সিলেটে মাজারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ, ৬৬ বিশিষ্ট নাগরিকের উদ্বেগ
Manual6 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: আধ্যাত্মিক রাজধানী খ্যাত পুণ্যভূমি সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারRead More
ডিসি সরওয়ার আলমের বদলীর আদেশ প্রত্যাহারের দাবী খেলাফত মজলিসের
Manual5 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের সর্বজন গ্রহণযোগ্য জেলা প্রশাসক জনাব সরওয়ার আলমকে আকস্মিকRead More



Comments are Closed