Main Menu

সুনামগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির একক প্রার্থী কয়ছর এম আহমদ

Manual3 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জ) আসনে বিএনপির একক প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহি কমিটির সদস্য কয়ছর এম আহমদ।

রোববার (১৯ অক্টোবর) বিকালে বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে সুনামগঞ্জের পাঁচটি আসন থেকে ডাক পাওয়া নেতাদের সাথে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় সুনামগঞ্জ-৩ আসনে প্রাথমিকভাবে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে কয়ছর এম আহমদকে মাঠপর্যায়ে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সভায় ডাক পাওয়া সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাক্ষর ক্ষমতাপ্রাপ্ত সদস্য এডভোকেট আব্দুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

Manual6 Ad Code

তিনি জানান, পূর্ব নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আজ বিকাল ৩ টায় বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে সুনামগঞ্জের পাঁচটি আসনের প্রার্থীদের সাথে সভায় বসেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এই সভায় অন্যান্য আসনে একাধিক প্রার্থীকে ডাকা হলেও সুনামগঞ্জ-৩ আসন থেকে এককভাবে কয়ছর এম আহমদকে ডাকা হয়েছে।

Manual7 Ad Code

তিনি আরো জানান, সভায় অংশ নেওয়া প্রার্থীদের ধানের শীষের পক্ষে মাঠপর্যায়ে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে কোনো বক্তব্য না দেওয়া ও কোনোরুপ সংঘাতে না যাওয়ার কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমরা স্পষ্টভাবে বলেছি দল যাকে মনোনয়ন দেবে আমরা তার পক্ষে কাজ করবো। একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে যাবো না। দলের নির্দেশ অমান্য করবো না।

Manual5 Ad Code

বিএনপির একটি সূত্র জানায়, ১৯৯৮ সালে কয়ছর এম আহমেদ জগন্নাথপুর উপজেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৭ সালে বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে ক্ষমতাসীন দলের কর্মীদের হাতে ছাত্রদল নেতা হাফিজ নিহত হন। এরপর রাজনৈতিক হয়রানিতে তিনি দেশ ছেড়ে যুক্তরাজ্য চলে যান। সেখানে গিয়ে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন। টানা তিনবার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে যুক্তরাজ্য বিএনপির রাজনীতিতে ইতিহাস সৃষ্টি করেন।

জগন্নাথপুর পৌরসভার ছিলিমপুর এলাকার মরহুম আব্দুল মতিনের ছেলে (মতলিব মিয়া) কয়ছর এম আহমেদ শেষবার ২০১২ সালে দেশে এসেছিলেন। এরপর হামলা, মামলা ও নিরাপত্তাহীনতায় তিনি আর দেশে আসেননি। আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে তাঁর বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জায়গায় একাধিক মামলা করা হয়। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথেও তিনি বেশ কয়েকটি মামলার এজাহার নামীয় আসামী। শুধু মামলাই নয়, বিএনপির ওই নেতার পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করা হয়। বন্ধ করে দেওয়া হয় সিলেট নগরীর জিন্দাবাজারস্থ ভোজন বাড়ি রেস্টুরেন্টটি। গ্রামের বাড়িতেও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। একারণে পরিবারের সদস্যরাও নিরাপত্তাহীনতায় দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। ২০১৫ সালে কয়ছরের মা এবং ২০১৮ সালে ছোট ভাই উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কবির আহমদ যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। এরপর ওই পরিবারের কেউ আর দেশে আসেননি।

উপজেলা যুবদলের আহবায়ক আবুল হাশিম ডালিম বলেন, কয়ছর এম আহমেদ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আস্থাভাজন হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে দেশে বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ২০টি মিথ্যা মামলা করা হয়। যে কারণে তিনি দীর্ঘ একযুগ ধরে যুক্তরাজ্যে ছিলেন। সেখানে থেকে তারেক রহমানের নির্দেশনায় সুনামগঞ্জ—৩ (জগন্নাথপুর—শান্তিগঞ্জ) আসনের গরিব—দুঃখি মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। করোনা বন্যাসহ সকল দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে আমরা তাঁর নির্দেশনায় মাঠে কাজ করেছি। ফলে আমরাও মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছি।

গত ৫ আগস্ট ছাত্র—জনতার গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার পতন হওয়ায় তিনি দেশে আসার সিদ্ধান্ত নেন। ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে ৭৭ নেতাকর্মীকে সফরসঙ্গী করে যুক্তরাজ্য থেকে সৌদিআরবে পবিত্র ওমরা পালনের উদ্দেশ্যে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। পবিত্র ওমরা পালন শেষে সৌদিআরব থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন বিএনপির ওই নেতৃবৃন্দ। এসময় যুক্তরাজ্য থেকে আরও ২৩ নেতাকর্মী তাদের সঙ্গে এসে যোগ দেন। পরে তিনি শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে ২০ অক্টোবর সকালে ঢাকায় পৌছে শহীদ জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত শেষে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময়সহ দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দেন। এরপর কয়ছর এম আহমদ ২২ অক্টোবর সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে আসেন।

Manual4 Ad Code

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code