সড়ক দুর্ঘটনা রোধে মালয়েশিয়ার উদ্ভাবনী প্রকল্প, শিখতে পারে বাংলাদেশও
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর রাজ্যের সেমেনিয়েহ এলাকায় ২০২৩ সালের অক্টোবরে একটি দুই লেনের গ্রামীণ সড়ক আলোয় ঝলমল করছিল। তবে সেটি বৈদ্যুতিক ল্যাম্পপোস্টের আলো নয়- বরং রাস্তার উপর ব্যবহৃত হয়েছিল এক বিশেষ ফোটোলুমিনেসেন্ট রঙ, যা সূর্যের আলো শোষণ করে রাতে নিজে থেকেই জ্বলে উঠে রাস্তা আলোকিত করে তোলে।
সূর্যাস্তের পর এই রঙের আলো প্রায় দশ ঘণ্টা পর্যন্ত জ্বলতে থাকে। ২৪৫ মিটার দীর্ঘ এই সড়কটি ছিল মালয়েশিয়ার জনপথ বিভাগের একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প, যার লক্ষ্য ছিল আলোবিহীন বা বিদ্যুৎবিহীন এলাকায় নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা।
প্রতিবছর মালয়েশিয়ায় ৬ হাজারেরও বেশি মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান, যার অধিকাংশই ঘটে অন্ধকার বা অপর্যাপ্ত আলোযুক্ত সড়কে। তাই প্রকল্পটি প্রথম থেকেই ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটি ছড়িয়ে পড়লে আলোচনার ঝড় ওঠে।
দ্য স্ট্রেইটস টাইমস জানায়, বৃষ্টি বা কুয়াশায়ও এই আলোকিত দাগের দৃশ্যমানতা ভালো থাকায় চালকরা সন্তুষ্ট।
একজন ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারী রসিকতা করে লিখেন, “মালয়েশিয়ার রাস্তা এখন সত্যিই ‘আলোকিত’- আক্ষরিক অর্থেই!”
বাংলাদেশের বাস্তবতায় শিক্ষা
বাংলাদেশেও সড়কে আলো ও দৃশ্যমানতার ঘাটতি দীর্ঘদিনের সমস্যা। রাজধানীসহ অধিকাংশ শহরের রাস্তায় নেই লেন মার্কিং, গ্রামীণ সড়কেও ল্যাম্পপোস্ট থাকলেও বেশিরভাগ সময়ই সেগুলো অচল।
সরকারি হিসাবে প্রতি বছর দেশে ৫ হাজারের বেশি মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান, যার উল্লেখযোগ্য অংশ ঘটে রাতে বা অন্ধকারে।
এ ছাড়া ফিকে দাগ, ভুল স্থানে সাইনবোর্ড, পুরনো ও ক্ষতিগ্রস্ত চিহ্নচিত্র চালকদের জন্য বিভ্রান্তিকর হয়ে উঠছে। যেখানে সড়ক পরিবর্তনের ইঙ্গিত থাকা উচিত ৫০০, ৩০০ ও ১০০ মিটার আগে, সেখানে অনেক সময় বোর্ড বসানো হয় ঠিক মোড়ে- ফলে চালকদের হঠাৎ ব্রেক দিতে হয়, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়।
বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে, যেখানে একই সড়কে চলে নানা ধরনের যানবাহন, মানুষ ও পশুপাখি, সেখানে মালয়েশিয়ার এই উদ্যোগ চিন্তার খোরাক জোগায়।
প্রশ্ন হচ্ছে- কম খরচে, বিদ্যুৎবিহীন এলাকায় ফোটোলুমিনেসেন্ট প্রযুক্তি কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা সম্ভব কি না?
সরকার ইতিমধ্যে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ কর্মসূচির আওতায় ডিজিটাল রোড সেফটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌরচালিত আলো বা স্বআলোকিত রঙ হতে পারে ভবিষ্যতের টেকসই ও সাশ্রয়ী সমাধান, যদি তা দীর্ঘস্থায়ীভাবে প্রয়োগ করা যায়।
নেদারল্যান্ডসের ডেলফট ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি ও জাপানের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর ল্যান্ড অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ম্যানেজমেন্ট ইতিমধ্যে কম খরচে পরিবেশবান্ধব ফোটোলুমিনেসেন্ট রঙ উদ্ভাবনের গবেষণা চালাচ্ছে।
তবে ব্যয়বহুল হওয়ায় মালয়েশিয়া সরকার পরবর্তীতে প্রকল্পটি বড় আকারে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
মালয়েশিয়ান ইনস্টিটিউট অব রোড সেফটি রিসার্চ (MIROS) জানায়, বর্ষা ও আর্দ্রতার কারণে রঙটি দ্রুত ম্লান হয়ে যায়, ফলে ১৮ মাসের মধ্যেই পুনরায় রং করতে হয়।
যদিও প্রকল্পটি স্থায়ী না হলেও, এটি বিশ্বব্যাপী আলো ফেলেছে- নিরাপদ সড়কের অন্ধকার দূর করতে প্রযুক্তির ব্যবহার কতটা কার্যকর হতে পারে তা দেখিয়েছে এই উদ্যোগ।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল ও ঘনবসতিপূর্ণ দেশে নাগরিকের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে গবেষণা ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি- যেন সড়ক শুধু আলোকিত নয়, হয় সত্যিকার অর্থে নিরাপদ।
Related News
বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের ভিসা স্থগিতের সিদ্ধান্ত বাতিল করলেন মার্কিন আদালত
Manual1 Ad Code আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসনRead More
কলকাতায় হোটেলে ভয়াবহ আগুন, ৯ বাংলাদেশি নিহত
Manual6 Ad Code আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার নিউ মার্কেটের পার্শ্ববর্তী মির্জা গালিব স্ট্রিটেরRead More



Comments are Closed