সিলেটে সুরমার তীরে প্রতীমা বিসর্জনে শেষ হল শারদীয় দুর্গাপূজা
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটে বিজয়া দশমী শেষে ভক্তদের উপস্থিতিতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব। মণ্ডপে মণ্ডপে বিদায় ও বিষাদের ধ্বনি বাজিয়ে প্রতীমা বিসর্জন সম্পন্ন হয়েছে। ২৮ সেপ্টেম্বর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।
পাঁচ দিনব্যাপী এ দুর্গোৎসব উদযাপন শেষে বৃহস্পতিবার (০২ অক্টোবর) দুপুরের পর থেকে বিভিন্ন মন্ডপ থেকে প্রতিমা ট্রাকে নিয়ে শোভাযাত্রা করে পূণ্যার্থীরা জড়ো হতে থাকেন নগরীর কিনব্রিজের উত্তরপ্রান্তে, চাঁদনীঘাটে।
এসময় সুরমা পয়েন্ট, সুরমা মার্কেট, জেলা পরিষদের সম্মুখভাগ ছিল লোকেলোকারণ্য। ঢাক-ঢোল ও নৃত্যের সাথে ভক্তরা ‘বলো দুর্গা মাই কি’ শ্লোগানে মুখরিত করে তুলেন চারপাশ।
এছাড়াও রেকর্ডে বাজতে থাকে বিভিন্ন ধরনের গান। অবশ্য বিসর্জনকে কেন্দ্র করে নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে যানজটেরও সৃষ্টি হয়।
বিকাল ৪টায় সিলেটের সুরমা নদীর চাঁদনী-ঘাটে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিমা বিসর্জন কার্যক্রম শুরু হয়। এসময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা ও মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ।
এছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক ও পেশাজীবি সংগঠনের নেতৃবৃন্দছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সচেতন মহলের অনেকে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মতে এবার দেবী দুর্গার আগমন ঘটে গজে অর্থাৎ হাতির পিঠে চড়ে। গজে আগমন বা গমন হলে পৃথিবী শস্য-শ্যামলা হয়। আর দশমীতে দেবীর প্রস্থান ঘটেছে দোলায় চড়ে।
এর আগে, দশমীর দিনে মণ্ডপে মণ্ডপে দেবী দুর্গাকে সিঁদুর দেওয়ার মাধ্যমে সিঁদুর খেলায় মাতেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। এ সময় সব অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভ শক্তির বিকাশের মাধ্যমে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রার্থনা করেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। বিজয়া দশমী উপলক্ষ্যে বিভিন্ন সংঘের উদ্যোগে শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। দর্পণ বিসর্জন আর দেবী আরাধনায় শেষ হয় দশমীর আচার-অনুষ্ঠান। উল্লেখ্য সিলেটে এবারই প্রথম মহাঅষ্টমিতে (৩০ সেপ্টেম্বর) কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিজয়া শোভাযাত্রা ও প্রতিমা বিসর্জনকে ঘিরে এদিন বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় ছিল। র্যা ব, সেনাবাহিনী ও পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থেকেছে। এছাড়াও পাঁচ দিনব্যাপী এ দুর্গোৎসব যেন নির্বিঘ্নে ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় সেজন্য সব ধরণের পদক্ষেপ নেওয়া হয়। পূজার সার্বিক নিরাপত্তায় চালু ছিল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ও হটলাইন নম্বর। পাড়া-মহল্লায় পরিবেশ ঠিক রাখতে ড্রোন উড়ানোর পাশাপাশি সোশাল মিডিয়া মনিটরিংয়ে নিয়োজিত ছিল মেট্রোপলিটন পুলিশের সাইবার টিম।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ সিলেট মহানগর এবং জেলা শাখা সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলায় ৬১৮ টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সিলেট মহানগরে সার্বজনীন ১৪২ টি ও পারিবারিক ২০ টি মিলিয়ে মোট ১৬২ টি এবং জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সার্বজনীন ৪২৭ টি ও পারিবারিক ২৯ টি মিলিয়ে মোট ৪৫৬ টি পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
Related News
সিলেটে মাহফুজা হান্নান এমপি’র নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান
Manual7 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি অধ্যাপিকা মাহফুজা হান্নানRead More
অবশেষে সিলেটে কওমি মাদরাসার চামড়া সংগ্রহের সিদ্ধান্ত
Manual8 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: কোরবানির চামড়া সংগ্রহ না করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেRead More



Comments are Closed