Main Menu

পশ্চিম ধরাধরপুর জামে মসজিদের মোতাওয়াল্লী পদ থেকে সৈয়দ মাহবুব ই জামিলকে অব্যাহতি

Manual7 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: অনৈতিক অবৈধভাবে পশ্চিম ধরাধরপুর জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির মোতাওয়াল্লীর পদ দখলে রাখা কথিত মাহবুব ই জামিল কে স্মারক নং- ১৬.০২.০০০০.০৩৮.৩২.০০০.২৫ তারিখ- ২৬/৮/২০২৫ খ্রিঃ তারিখে বাংলাদেশ ওয়াক্ফ প্রশাসনের ওয়াক্ফ প্রশাসক মোঃ নুর-ই-আলম স্বাক্ষরিত আদেশের মাধ্যমে মোতাওয়াল্লীর পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে।

Manual1 Ad Code

বিগত ২৩-১২-২০১০ খ্রিস্টাব্দ তারিখে সৈয়দ মাহবুব ই জামিল কে মোতোয়াল্লী করে ৩ বছরের জন্য ১৭ সদস্য বিশিষ্ট পশ্চিম ধরাধরপুর জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। এর কিছু দিনপর গ্রামবাসী মসজিদের ভিতরে একটি নোটিশ বোর্ডে দেখতে পান মসজিদের ভূমিদাতা ‘মৃত হাজি সৈয়দ তবারক আলী গং ওয়াকফ এস্টেট’। এরপর থেকে পশ্চিম ধরাধরপুর পঞ্চায়েতের মসজিদটি সৈয়দ মাহবুব ই জামিলের পূর্বপুরুষদের দানকৃত মসজিদ হিসাবে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে এলাকার সর্বস্তরের সহজ সরল ধর্মপ্রাণ মানুষদের ধোকা দিয়ে আসছিলো।

এই পরিস্থিতি নিরসনে পশ্চিম ধরাধরপুর পঞ্চায়েত কমিটি পক্ষ থেকে মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন রাসেল বিগত ০৬/১০/২০২৪ ও ২৭/১০/২০২৪ ইং তারিখে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধিন ৪, নিউ ইস্কাটন রোড, ঢাকাস্থ বাংলাদেশ ওয়াক্ফ প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রশাসক বরাবরে সিলেট জেলার দক্ষিণ সুরমা উপজেলাধীন হাজী সৈয়দ তবারক আলী গং ওয়াক্ফ এস্টেট এর অফিসিয়াল মোতাওয়াল্লী বাতিল ও নতুন মোতাওয়াল্লী নিয়োগ সংক্রান্ত আবেদন করেন।

আবেদনের পর মাননীয় উপ ওয়াকফ প্রশাসক আনিসুর রহমান উভয় পক্ষের সমস্ত কাগজপত্র ও মৌখিক এবং লিখিত জবানবন্দি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে গত ২০ আগস্ট ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ স্বঘোষিত মোতাওয়াল্লীর কথিত মাহবুব ই জামিল কে ওয়াকফ প্রশাসক গত ০৮-০৯-২০২৪ খ্রিস্টাব্দ দুই বছরের জন্য অফিসিয়াল মোতোয়াল্লী পদে নিয়োগ দিয়েছিলেন এই নিয়োগ কে অবৈধ ঘোষণা করে তার এই নিয়োগকে বাতিল করে জেলা প্রশাসক সিলেটের মাধ্যমে দক্ষিণ সুরমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সভাপতি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ০৬ জন ব্যাক্তি কে সদস্য করে ৭ সদস্য বিশিষ্ট মৃত হাজি সৈয়দ তবারক আলী গং ওয়াকফ এস্টেট পরিচালনা কমিটি করে ওয়াকফ প্রশাসক বরাবরে জমা দিতে প্রস্তাব করলে মাননীয় ওয়াকফ প্রশাসক মোঃ নুর ই আলম গত ২৬-০৮-২০২৫ খ্রিস্টাব্দ এই প্রস্তাব কে অনুমোদন দিয়ে জেলা প্রশাসক সিলেট কে পত্র প্রেরণ করেন।

উল্লেখ্য আনিসুর রহমান এর আদেশে পরিস্কারভাবে উল্লেখ করেন সর্বশেষ রেকর্ড অনুযায়ী দেখা যায় মসজিদের সমূহ জায়গা পশ্চিম ধরাধরপুর জামে মসজিদের নামে রেকর্ডভুক্ত আছে। তিনি আরো উল্লেখ করেন, অতপর সৈয়দ মাহবুব-ই-জামিল এর আবেদেনের প্রেক্ষিতে এ কার্যালয় গত ২৩/১২/২০১০ খ্রিঃ তারিখে মাহবুব-ই-জামিলকে মোতাওয়াল্লী নিয়োগে ১৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি পরবর্তী ০৩ (তিন) বছরের জন্য অনুমোদন করে। উক্ত কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণের পর দীর্ঘ সময় কমিটি নবায়ন বা পুনঃগঠন বা ওয়াকফ প্রশাসক মহোদয়ের অনুমতি গ্রহণ ব্যতিত ও এস্টেটের আয়-ব্যয়ের হিসাব দাখিল ব্যতিত এস্টেটাট পরিচালনা করে।

Manual1 Ad Code

অতপর ২০২৩ সালে মাহবুব-ই-জামিল ও মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন রাসেল এর কমিটি অনুমোদন সংক্রান্ত বিষয়ে আবেদন করলে এ কার্যালয় স্থানীয় হিসাব নিরীক্ষককে সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য নির্দেশ প্রদান করলে স্থানীয় হিসাব নিরীক্ষক গত ১০/০৯/২০২৩ খ্রিঃ তারিখে তা দাখিল করেন।

Manual8 Ad Code

তদন্ত প্রতিবেদনে পরিদর্শক/ হিসাব নিরীক্ষক উল্লেখ করেন কমিটি সংক্রান্ত বিষয়ে সরেজমিনে তদন্ত করলে আইন শৃঙ্খলার অবনতি হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে তাই মন্তব্য/ সুপারিশ বিহীন তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। অতপর এ কার্যালয় জেলা প্রশাসক সিলেটকে গত ০৫/১২/২০২৩ খ্রিঃ তারিখে সুস্পষ্ট মতামতসহ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য অনুরোধ করা হলে জেলা প্রশাসক গত ২৪/০৬/২০২৪ খ্রি: তারিখে এস্টেটের সম্পত্তির রেকর্ড সংক্রান্ত তথ্যাদি প্রদান করলেও কমিটি অনুমোদনের বিষয়ে কোন সুস্পষ্ট মতামত দাখিল করে নাই। যার ফলে বিষয়টি প্রক্রিয়াধীনই থেকে যায়।

এ কার্যালয় ওয়াকফ দলিলের বিধান মোতাবেক মোতাওয়াল্লী/ কমিটি নিয়োগের কার্যক্রম চলমান থাকাবস্থায় মোতাওয়াল্লীর দাবীদার আবেদনকারীদের আবেদন তদন্ত প্রতিবেদনের পর্যবেক্ষণ/ সুপারিশ কোন কিছুই বিবেচনা না করে হঠাৎ করে মাহবুব-ই-জামিলকে গত ০৮/০৯/২০২৪ খ্রিঃ তারিখে ০২ বছরের জন্য অফিসিয়াল মোতাওয়াল্লী নিয়োগ করা হয়েছে মর্মে প্রতিয়মান হয়। সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় এ কার্যালয়ের গত ০৮/০৯/২০২৪ খ্রিঃ তারিখের ১৬,০২,০০০০,০৪৪, ০৩৬,০০০,২৪/১৩নং স্মারকে মাহবুব-ই-জামিলের অফিসিয়াল মোতাওয়াল্লী নিয়োগাদেশ বাতিল এবং সেই সাথে উক্ত এস্টেট টি পরিচালনার নিমিত্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার, দক্ষিণ সুরমা, সিলেটকে সভাপতি করে ও এস্টেটের হিতৈষী অথবা এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ থেকে ০৬ জনকে মনোনয়ন করে মোট ০৭ (সাত) সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটির প্রস্তাব অনুমোদনের নিমিয়ে প্রেরণের জন্য জেলা প্রশাসক, সিলেট-কে অনুরোধ করা যেতে পারে। এই প্রস্তাব কে অনুমোদন দিয়ে মাননীয় ওয়াকফ প্রশাসক মোঃ নুর ই আলম জেলা প্রশাসক সিলেটে পত্র প্রেরণ করেন।

এলাকায় এই খবর ছড়িয়ে পড়লে গ্রামবাসীর মধ্যে আনন্দ দেখা যায়। একে অপরকে মিষ্টিও খাওয়ান।

মাননীয় ওয়াকফ প্রশাসক মহোদয়ের এই নির্দেশে পশ্চিম ধরাধরপুর জামে মসজিদটি দীর্ঘ একশো বছর পরে মসজিদের মালিকানা নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা দূর হয়ে পশ্চিম ধরাধরপুর জামে মসজিদ হিসেবে স্বীকৃতি পেল। বিজ্ঞপ্তি

Manual7 Ad Code

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code