Main Menu

ভয়াবহ ভূমিকম্পের আঘাত আফগানিস্তানে, নিহত ৬২২

Manual7 Ad Code

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সাম্প্রতিক বন্যার ধকল না কাটতেই ভয়াবহ এক ভূমিকম্প আঘাত হানলো আফগানিস্তানে। গত রাতে আঘাত হানা এ ভূমিকম্পে এরই মধ্যে ৬০০ অতিক্রম করেছে নিহতের সংখ্যা। সেইসঙ্গে দেড় হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন ধ্বংসাত্মক এ ভূকম্পনে। আরও অনেক মৃত্যুর খবর আসতে পারে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) আফগানিস্তানের রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম আরটিএ-এর বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়ে রয়টার্স।

এর আগে, স্থানীয় সময় রোববার (৩১ আগস্ট) গভীর রাতে আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে আঘাত হানে ভূমিকম্পটি। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৬।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় রোববার (৩১ আগস্ট) রাত ১১টা ৪৭ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের মাত্র ৮ কিলোমিটার গভীরে। এরপর থেকে অন্তত আরও ১৩ বার ‘আফটার শক’ অনুভূত হয়েছে। সেগুলোর মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৫ থেকে ৫ দশমিক ২-এর মধ্যে।

স্থানীয় অনেকেই বলছেন, এর আগে এত ভয়াবহ ভূমিকম্প দেখেননি তারা।

ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছিল আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলও, যা কেন্দ্রস্থল থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরের পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদেও কম্পন অনুভূত হয়।

এই ভূমিকম্পটি বিশেষভাবে ভয়াবহ ছিল কারণ এটি মাত্র ৫ মাইল গভীরতায় আঘাত হানে, এমনকি মাঝারি মাত্রার ক্ষেত্রেও এটি আরও ধ্বংসাত্মক হয়ে ওঠে। ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পাকিস্তান সীমান্তবর্তী কুনার প্রদেশের নুর গুল জেলা। এছাড়া প্রদেশের সাওকি, ওয়াটপুর, মানোগি এবং চাপা দারা জেলায়ও হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।

আফগানিস্তানের দুর্যোগ মন্ত্রণালয় বলছে, হতাহতদের সংখ্যা চূড়ান্ত নয়, কারণ কর্মকর্তারা এখনও অনেক প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।

ভূমিধসের কারণে সাওকি জেলার দেওয়া গুল এবং নুর গুল জেলার মাজার দারা যাওয়ার রাস্তাগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে উদ্ধারকারী দলগুলোর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছাতে অসুবিধা হচ্ছে।

দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধারকারীরা ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম চালাচ্ছে। কুনার প্রদেশে তিনটি গ্রাম ধ্বংস হয়ে গেছে এবং আরও অনেক গ্রামে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও জানায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শরাফাত জামান এক বিবৃতিতে বলেন, হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Manual1 Ad Code

রয়টার্স প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, হেলিকপ্টার দিয়ে আহতদের সরিয়ে নিচ্ছে। আহতদের অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে যেতে সেনা ও চিকিৎসকদের সাহায্য করছেন বাসিন্দারা।

Manual1 Ad Code

এদিকে আফগানিস্তানের দুর্যোগপীড়িত এই অঞ্চলটি গত সপ্তাহান্তে আঘাত হানা আকস্মিক বন্যার ধকল এখনও সামলে উঠতে পারেনি। তার আগেই আরেকবার বিধ্বস্ত হয়ে গেল শক্তিশালী ভূমিকম্পে।

স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, শুক্রবার থেকে শনিবারের মধ্যে নানগারহার ও কুনারে বন্যায় অন্তত পাঁচজন নিহত হন। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) হিসাব অনুযায়ী, অন্তত ৪০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয় এ বন্যায়।

এমন পরিস্থিতিতে একই অঞ্চলে নতুন করে শক্তিশালী ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত মানুষের দুর্ভোগ ও দুর্দশা আরও বেড়ে গেলো।

মূলত, ভৌগলিক কারণেই মধ্য-দক্ষিণ এশিয়ার দেশ আফগানিস্তান বেশ ভূমিকম্পপ্রবণ। দেশটি এমন বেশ কয়েকটি ফল্ট লাইনের ওপরে অবস্থিত, যেখানে ভারতীয় এবং ইউরেশিয়ান টেকটোনিক প্লেটগুলো মিলিত হয়েছে।

আফগানিস্তানে ভূমিকম্পের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। সেই রেকর্ড পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, গত তিন দশকে কেবল ভূমিকম্পের কারণে আফগানিস্তানে মৃত্যু হয়েছে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষের।

Manual6 Ad Code

১৯৯১ সালে মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার হিন্দুকুশ পার্বত্য অঞ্চলে হওয়া এক ভূমিকম্পে আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও সোভিয়েত ইউনিয়নে ৮৪৮ জন মানুষ নিহত হয়েছিলেন।

এরপর ১৯৯৭ সালে আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী ইরানের প্রদেশ খোরাসানের কায়েন শহরে ৭ দশমিক ২ মাত্রার এক ভূমিকম্পে দুই দেশে প্রাণ হারিয়েছিলেন দেড় হাজারেরও বেশি মানুষ; সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল ১০ হাজারেরও বেশি ঘরবাড়ি।

পরের বছরই ১৯৯৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে আফগানিস্তানের প্রায় বিচ্ছিন্ন ও তাজিকিস্তানের সীমান্তবর্তী উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ তাখারে ভয়াবহ আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হানে, যার শিকার হয়ে আফগানিস্তান ও তাজিকিস্তানে প্রাণ হারান প্রায় ৪ হাজার মানুষ। এর মধ্যে আফগানিস্তানে নিহতের সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৩০০।

Manual7 Ad Code

 

 

 

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code