বিএসসি প্রকৌশলীদের প্রতি বৈষম্যের প্রতিবাদে শাবিতে বিক্ষোভ
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: বিএসসি প্রকৌশলীদের প্রতি বৈষম্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল বিভাগগুলোর শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এসময় বিএসই প্রকৌশলীদের প্রতি বৈষম্যে নিরসনে তিন দফা দাবি তুলে ধরেন তারা।
মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে তারা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।
মিছিল শেষে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক সংলগ্ন পিডিবি এলাকায় অবস্থিত সিলেটের কুমারগাঁও বিদ্যুৎকেন্দ্র কার্যালয় প্রতীকীভাবে ঘেরাও করেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দিয়ে প্রকৌশল অধিকার আন্দোলনের সাথে সংহতি ও একাত্মতা পোষণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী, উপ উপাচার্য অধ্যাপক সাজেদুল করিম ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ইসমাঈল হোসেন।
এতে আরও উপস্থিত ছিলেন পুর ও পরিবেশ প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক জহির বিন আলম, শিল্প ও উৎপাদন প্রকৌশল বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মো. মাহামুদ হাসান, যন্ত্রকৌশল বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক নুরুজ্জামান সাকিবসহ প্রকৌশল সম্পর্কিত বিভিন্ন বিভাগের শতাধিক শিক্ষার্থী।
এরপর বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকৌশলীদের সাথে চলমান বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের প্রতি বৈষম্য নিয়ে আলোচনা করেন আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এসময় বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকৌশলীরা তাদের তিন দফা দাবিকে সমর্থন করেন।
সমাবেশে শিল্প ও উৎপাদন প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী পলাশ বখতিয়ারের সঞ্চালনায় তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী তানভীর রহমান বলেন, ‘যারা মেধার সাক্ষর রেখে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির সুযোগ পায় না, তারাই ডিপ্লোমাতে ভর্তি হয়। ডিপ্লোমাতে যারা পড়ে তাদের অধিকাংশই দুর্বল। ক্লাসের টপ করা শিক্ষার্থীরা ডিপ্লোমাতে ভর্তি হয় না। ডিপ্লোমাতে যারা ক্লাসের ব্যাকবেঞ্চার, তারাই পড়ে।’
পুর ও পরিবেশ প্রকৌশল বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহিদুর রহমান সিলেটভিউ-কে বলেন, ‘প্রকৌশল খাতে দীর্ঘদিন ধরেই একটি কাঠামোগত বৈষম্য চলে আসছে। ৯ম ও ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি ও কোটাব্যবস্থায় ডিপ্লোমাধারীদের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। ১০ম গ্রেডে শতভাগ কোটা ডিপ্লোমাধারীদের জন্য বরাদ্দ থাকায় এবং ৯ম গ্রেডে প্রমোশন কোটার মাধ্যমে অধিকাংশ পদ পূরণ হওয়ায় বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য এন্ট্রি লেভেল পদসংখ্যা ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর তা বাতিল করে পদোন্নতির মাধ্যমে পদ পূরণ হচ্ছে। এভাবে নিয়মবহির্ভূত পদোন্নতি শুধু কর্মসংস্থানের সমতা নষ্ট করছে না, পেশাগত মান নিয়ন্ত্রণেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। আমরা চাই, প্রশাসন ও নীতিনির্ধারকরা এই বৈষম্য দূর করতে দ্রæত পদক্ষেপ নেবে এবং প্রকৌশল পেশার মর্যাদা রক্ষা করবে।’
এদিকে বিক্ষোভ মিছিলে আন্দোলনকারীরা ‘আমার সোনার বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’, ‘সিন্ডিকেটের কালো হাত, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, ‘কোটা না মেধা, মেধা, মেধা’, ‘দিয়েছি তো রক্ত আরও দেবো রক্ত’, ‘রক্তের বন্যায়, ভেসে যাবে অন্যায়’, ‘কোটার নামে বৈষম্যে, চলবে না, চলবে না’, ‘এই মুহূর্তে দরকার, কোটাপ্রথার সংস্কার’, ‘আমার সোনার বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’ প্রভৃতি শ্লোগান দেন। সমাবেশে বৈষম্য নিরসনে আন্দোলনকারীদের তিন দফা দাবি হলো-
১. ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ৯ম গ্রেড বা সহকারী প্রকৌশলী বা সমমান পদে প্রবেশের জন্য সবাইকে মেধা পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে এবং বিএসসি ডিগ্রিধারী হতে হবে। কোটার মাধ্যমে কোনো পদোন্নতি নয়, এমনকি অন্য নামে সমমান পদ তৈরি করেও পদোন্নতি দেওয়া যাবে না।
২. টেকনিক্যাল ১০ম গ্রেড বা উপ-সহকারী প্রকৌশলী বা সমমান পদ পুরণের জন্য উন্নত করতে হবে। অর্থাৎ ডিপ্লোমা ও বিএসসি উভয় ডিগ্রিধারীদেরকে পরীক্ষায় সুযোগ দিতে হবে।
৩. বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি বতীত প্রকৌশলী পদবি ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
Related News
এমসি কলেজের ছাত্রকে ছুরিকাঘাত করে লাখ টাকা ছিনতাই
Manual6 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের আখালিয়া এলাকায় এমসি কলেজের এক ছাত্রকে ছুরিকাঘাত করেRead More
আম্বরখানায় পার্কিং দখল করে দোকান, ব্যবস্থা নেয়নি সিসিক
Manual1 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট নগরীর আম্বরখানা পয়েন্ট সংলঘ্ন ওয়েভস আবাসিক এলাকার শীতলগলিরRead More



Comments are Closed