Main Menu

সিলেটে ১২ ঘন্টায় ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড, বাড়ছে নদনদীর পানি

Manual5 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটে ১২ ঘন্টায় ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস। সোমবার (৪ আগস্ট) সকাল ৬ টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত এই বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

এর আগের ১২ ঘন্টায় আরও ৩৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

Manual4 Ad Code

সোমবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় সিলেট আবহাওয়া অফিস এ তথ্য জানিয়েছে।

Manual6 Ad Code

এদিকে, ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে ঢল নেমে সিলেট বিভাগের নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে বলে পূর্বাভাস জানিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো) এর বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

সোমবার (৩ আগস্ট) সকালের বুলেটিনে কেন্দ্র জানায়, সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার বেশ কয়েকটি নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং আগামী তিন দিন এ প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে বন্যা দেখা দিতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্ভাবাস অনুযায়ী সোমবার সকাল ৮টা থেকে সিলেটে ভারি বর্ষণ শুরু হয়। দিনভর ভারি বর্ষণে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে ভারতের মেঘালয় রাজ্যেও একই সময়ে ভারি বৃষ্টিপাতের খবর পাওয়া গেছে। সবমিলিয়ে বৃষ্টির পানির সঙ্গে উজানের ঢল নেমে নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

পাউবো সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, সিলেটে আরও তিনদিন ভারি বর্ষণ হতে পারে। এরকম বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে নদনদীর পানি বাড়তে পারে। এছাড়াও ভারতের মেঘালয় রাজ্যেও ভারি বর্ষণ হচ্ছে। যদি সেখানেও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকে তাহলে সিলেটে প্রভাব পড়তে পারে।

এর আগে সোমবার সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তরের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান এক প্রতিবেদনে জানান, সোমবার সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জের লাউড়েরগড় ও মহেশখলায় যথাক্রমে ১৫২ ও ১১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। একই সময়ে সিলেটের লালাখাল, লাতু, কানাইঘাট ও জাফলংয়ে ৫৭ থেকে ১১২ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে।

এ ছাড়া ভারতের মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যেও অতি ভারী বর্ষণ হওয়ায় উজান থেকে নতুন ঢল নামার সম্ভাবনা রয়েছে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সুরমার পানি রবিবার সন্ধ্যায় কানাইঘাট পয়েন্টে ছিল ১০ দশমিক ৯১ মিটার। সোমবার সকাল ৬টায় এ পয়েন্টে পানি ছিল ১০ দশমিক ৯৭ মিটার। সকাল ৯টায়ও এ পয়েন্টে পানি স্থির ছিল। ১২টা, ৩টা বা ৬টার কোনো তথ্য দিতে পারেনি সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ড।

সুরমার সিলেট পয়েন্টে রবিবার সন্ধ্যা ৬টায় পানি ছিল ৮ দশমিক ৬১ মিটার। সোমবার সকাল ৬টায় এ পয়েন্টে পানি বেড়ে দাঁড়ায় ৮ দশমিক ৭০ মিটার। সকাল ৯টায় ছিল ৮ দশমিক ৭৩ মিটার, দুপুর ১২টায় পানি বেড়ে দাঁড়ায় ৮ দশমিক ৭৭ মিটার, আর বিকাল তিনটায় পানি বেড়ে দাঁড়ায় ৮ দশমিক ৮৫ মিটার। তবে সন্ধ্যা ৬টার তথ্যটি দিতে পারেনি সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ড।

কুশিয়ারার পানিও বাড়ছে। রবিবার সন্ধ্যায় কুশিয়ারার পানি জকিগঞ্জের আমলশিদ পয়েন্টে পানি ছিল ১২ দশমিক ৯৯ পয়েন্ট।

সোমবার সকাল ৬টায় এ পয়েন্টে পানি বেড়ে দাঁড়ায় ১৩ দশমিক ২০ মিটার, সকাল ৯টায় পানি ছিল ১৩ দশমিক ২৫ মিটার, দুপুর ১২টায় ছিল ১৩ দশমিক ২৯ মিটার, বিকেল তিনটায় পানি বেড়ে দাঁড়ায় ১৩ দশমিক ৩৫ মিটার। সন্ধ্যা ৬টার পানির হিসাব দেওয়া হয়নি।

শেওলা পয়েন্টে রবিবার সন্ধ্যা ৬টায় পানি ছিল ১০ দশমিক ৬২ মিটার। সোমবার সকাল ৬টায় পানি বেড়ে দাঁড়ায় ১০ দশমিক ৭২ মিটার, সকাল ৯টায় পানি ছিল ১০ দশমিক ৭৬ মিটার, দুপুর ১২টায় পানি বেড়ে দাঁড়ায় ১০ দশমিক ৭৮ মিটার, বিকেল ৩টায় পানি ছিল ১০ দশমিক ৮৫ মিটার। এ পয়েন্টেরও সন্ধ্যা ৬টার হিসাব দিতে পারেনি পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ।

রবিবার সন্ধ্যা ৬টায় ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানি ছিল ৮ দশমিক ৫৫ মিটার। সোমবার সকাল ৬টায় পানি কিছুটা হ্রাস পেয়ে পানি দাঁড়ায় ৮ দশমিক ৫৪ মিটার। সকাল ৯টায় পানি স্থির ছিল, ১২টায় সামান্য বেড়ে দাঁড়ায় ৮ দশমিক ৫৫ মিটার, বিকেল তিনটায়ও এ পয়েন্টে পানি স্থির ছিল। তবে সন্ধ্যা ৬টার হিসাব দেওয়া হয়নি।

তবে কুশিয়ারার শেরপুর পয়েন্টে পানি কিছুটা কমের দিকে। রবিবার সন্ধ্যা ৬টায় এ পয়েন্টে পানি ছিল ৭ দশমিক ১২ মিটার। সোমবার সন্ধ্যায় পানি কিছুটা কমে দাঁড়ায় ৭ দশমিক ১০ মিটার। বিকেল তিনটায় পানি আরেকটু কমে।

Manual1 Ad Code

এছাড়া সিলেটের লোভা, সারি, ডাউকি, সারিগোয়াইন ও ধোলাইয়ের মতো পাহাড়ী নদীগুলোর পানিও এই বাড়ছে তো এই কমছে।

Manual1 Ad Code

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code