Main Menu

প্রবাসী স্ত্রীর কষ্টার্জিত ৩৫ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক স্বামী!

Manual2 Ad Code

ছাতক প্রতিনিধি: মোবাইল রং নম্বরে পরিচয় থেকে পরকীয়া প্রেম! প্রেম করে মোবাইল ফোনে বিয়ে, কাবিননামা না থাকলেও প্রবাসের মাটিতেই দু’জন স্বামী স্ত্রী পরিচয়ে সংসার করেছেন। মন দেয়া নেয়ার মধ্যে দিয়ে পরকীয়া প্রেমের কারণে স্বামী –সন্তান হারিয়েছে। শুধু তাই নয় তার নিজের কষ্টার্জিত ৩৫ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক প্রেমিক নামক স্বামী। তার সব কিছু হারিয়ে এখন স্ত্রীর স্বীকৃতি না পেলেও কষ্টার্জিত অর্থ ফেরত পেতে সুনামগঞ্জ আদালতের আশ্রয় নিয়েছেন ভূক্তভোগি প্রতারিত নারী।

Manual6 Ad Code

জানা যায়, রাজশাহীর কানুর উপজেলার মালখীরা গ্রামের মৃত আলকু শাহের কন্যা পপি বেগম। তার ছিল স্বামী সংসার ও সন্তানাদি। কিন্তু অভাবের তাড়নায় পরিবারে স্বচ্চলতা ফেরাতে গত ২০১৭ সালে গৃহকর্মীর কাজে সৌদি আরবে পাড়ি জমান পপি বেগম। গত ২০১৯ সালে সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার নোয়ারাই ইউনিয়নের ছনখাইড় গ্রামের মৃত আবদুর রকিবের ছেলে সৌদি প্রবাসী বিল্লাল মিয়ার মোবাইল ফোনে রং নম্বরে পরিচয় হয় সৌদি আরব প্রবাসী বাংলাদেশী পপির সঙ্গে। এ পরিচয় থেকে তাদের মধ্যে এক সময় গভীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। সুন্দরী পপিকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে রঙ্গীন জীবনের স্বপ্ন দেখাতে থাকেন নারীলোভী প্রতারক বিল্লাল। তাতেও পপি বিয়েতে রাজি হয়নি। পপিকে বিয়েতে রাজি করতে নানা কৌশল করেন প্রেমিক বিল্লাল। তার নিজের মোবাইলে পবিত্র কাবা ঘরের ভিডিও ধারণে কসম করে যে, ’’পপি তোকে আমি বিয়ে করে সংসার করব’”। এই কসম করার ভিডিও বার্তা পপিকে পাঠায় প্রেমিক নারীলোভী প্রতারক বিল্লাল। তাতেই মন গলে যায় পপির। বিয়েতে রাজি করিয়ে কিছুদিন পর দেশে ছুটিতে আসেন প্রেমিক বিল্লাল। গত ২০২০ সালের ২ আগষ্ট বিয়ের পিরিতে বসেন পপি ও বিল্লাল। তাও আবার মোবাইল ফোনের মাধ্যমে। পপির বিশ্বাস সৃষ্টি করতে একটি ভুয়া ও জাল কাবিননামাও তৈরী করে সেটি নিয়ে ফের প্রবাসে চলে যান বিল্লাল। প্রবাসে গিয়ে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে দুইজন একসাথে বসবাস শুরু হয়। বিয়ে ও সংসারের বিষয়টি জানতেন পপির কপিলসহ আশপাশে বসবাসরত একাধিক প্রবাসী বাঙালীরাও। পপিকে আরও আপন করে নিতে তার নিজের পরিবারের সবার সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলান প্রতারক বিল্লাল। তাতে বিল্লালের প্রতি পপির বিশ্বাস আরও ভারি হয়ে উঠে। এরপর শুরু হয় প্রতারণার মুল নাটক, যার স্ক্রীপ্ট রাইটার ও পরিচালক ছিলেন বিল্লাল মিয়া। আর তার নির্দেশনায় শুধু স্যুটিং করেছেন পপি। নিখুত পরিচালক বিল্লালের চালাকী একটুও বুঝার ক্ষমতা ছিলো না স্বাক্ষর জ্ঞানহীন সহজ-সরল পপির। প্রবাসি পপির জন্য জমি খরিদ করে বাড়ি নির্মানের স্বপ্ন দেখান প্রতারক বিল্লাল। দেশে এসে বাড়ি নির্মানের দৃশ্যগুলাও ভিডিও ধারণ করে পাঠাতে থাকেন স্ত্রী পপিকে। আর বিভিন্ন পন্থায় নিতে থাকেন পপির উপার্জিত কাড়ি কাড়ি টাকা। ততক্ষনে বিষয়টি টের পেয়ে পপিকে তালাক দেন তার সাবেক স্বামী। প্রতারিত পপির ছয় বছরের উপার্জিত প্রায় ৩০-৩৫ লক্ষ টাকা হারিয়ে স্ত্রীর মর্যাদা তো দুরের কথা, খোজে বেড়াচ্ছেন তার নিজের কষ্টার্জিত সেই অর্থ। তার নিজের ফোনে বেশ প্রমানাদিসহ তাদের বিশেষ মূহুর্তের ছবি ও ভিডিও নিয়ে ঘুরছেন দ্বারে দ্বারে। প্রতারক বিল্লালের বাড়িতে গিয়েও ঠাঁই না পেয়ে নিয়েছেন সুনামগঞ্জ আদালতের আশ্রয়। এসব ঘটনায় সুনামগঞ্জ আদালতে প্রতারণার মামলা দায়ের করলে মামলাটি তদন্তের জন্য ছাতক থানাকে নির্দেশ দেন আদালত। তদন্তের দায়িত্ব পান থানার উপ-পরিদর্শক সিকান্দার আলী।

Manual7 Ad Code

মামলার বাদীনী পপির বক্তব্যে ৩০-৩৫ লক্ষ টাকা প্রতারিত হওয়ার বিষয়টি উঠে আসলেও তদন্তে বিকাশ ও ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন ব্যাংকের মাধ্যমে বিল্লালের পরিবারকে পাঠানো ১২ লক্ষ টাকাসহ পপির বর্ননা অনুযায়ী অন্যান্য ঘটনাও প্রাথমিক ভাবে প্রমানিত হয়েছে মর্মে আদালতে চার্জশীট প্রতিবেদন দাখিল করেছে তদন্তকারী কর্মকর্তা। কিন্তু আসামীরা আদালত থেকে জামিন নিয়ে পপির স্বপ্নের বাড়িতে বসবাস করলেও পপি এখনও বনবাসে। জীবিকার জন্য করছেন মানুষের বাসায় কাজ। পপি এই মুখ নিয়ে ফিরতে চান না সন্তানদের কাছেও। অন্যদিকে বিয়ের আসরে বসার চেষ্টা করছেন পপির প্রতারক স্বামী বিল্লাল। এতে বিল্লালকে হারানোর পাশাপাশি কষ্টার্জিত অর্থ হারিয়ে নিরুপায় পপি বেগম এখন বিচারের অপেক্ষায়।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত প্রতারক প্রেমিক বিল্লালের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার পরিবারের লোকজনরা জানিয়েছে যেহেতু আদালতে পপি মামলা করেছেন, তাই ওই ঘটনাটির সিদ্ধান্ত আদালত দেখবে।

ছাতক থানার ওসি গোলাম কিররিয়া হাসান এসব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, স্বামী সেজে স্ত্রীর কাছ থেকে বাড়ি ঘর বানানোর কথা বলে নেয়া ৩৫ লক্ষ টাকার মধ্যে ১২ লাখ টাকার তথ্য প্রমান পেয়েছে তদন্তকারি কর্মকতা। প্রতারক স্বামীকে অভিযুক্ত করে সুনামগঞ্জ আদালতে চাজশীট দাখিল করেছে থানার পুলিশ।

Manual8 Ad Code

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code