শ্রমিক স্বার্থ বিরোধী সকল কালাকানুন বাতিলের দাবি
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: বর্তমান বাজারদরের সাথে সংগতিপূর্ণ জাতীয় নূ্যূনতম মজুরি ঘোষণা, মুদ্রাস্ফীতি, মূল্যস্ফীতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির ছোবল থেকে বাঁচাতে সর্বস্তরে রেশনিং ব্যবস্থা চালু, শ্রমিক স্বার্থ বিরোধী ধারা ও বিধি বাতিল, অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা বিল প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সিলেট জেলার নেতৃবৃন্দ।
৬ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টায় শাহপরান থানা কমিটির উদ্যোগে মেজরটিলা বাজারে অনুষ্ঠিত সমাবেশে থানা কমিটির সভাপতি খোকন আহমদ’র সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক জয়নাল মিয়ার পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সরকার, সাধারণ সম্পাদক মো. ছাদেক মিয়া, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সিলেট জেলা কমিটির দপ্তর সম্পাদক রমজান আলী পটু, জাতীয় ছাত্রদল সিলেট জেলা আহবায়ক শুভ আজাদ (শান্ত), জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট শাহপরান থানা কমিটির সহ-সভাপতি আলাউদ্দিন (ঝাড়–), সিলেট জেলা স’মিল শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন, সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন দক্ষিণ সুরমা উপজেলা কমিটির সহ সম্পাদক আব্দুল মোমিন রাজু প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, জুলাই অভুত্থ্যানের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের পতন হলেও দেশের শ্রমিক-কৃষক জনতার মুক্তি আসেনি। ৫ আগস্টের পর দেশের একাধিক স্থানে অগ্নিকান্ডে নিহত হওয়া, বেতন না পাওয়া, কৃষকের ফসলের ন্যায্য মূল্য না পাওয়াসহ দেশের শ্রমিক ও শ্রমজীবী মানুষ অসহনীয় দুঃখ কষ্টে দিনানিপাত করছে। জুলাই হত্যাকান্ডে দেশের ছাত্র-জনতার পাশাপাশি হোটেল-রিক্সা-গার্মেন্টন্স, পরিবহনসহ বিভিন্ন সেক্টরের শ্রমিকরা আন্দোলনে অংশগ্রহনের মধ্য দিয়ে আহত নিহত হয়েছেন। গত ৯ সপ্তাহ ধরে রেশন, মজুরি না দিয়ে বাগান বন্ধ করার অপতৎপরতা চালাচ্ছে মৌলভীবাজার জেলা জুড়ী উপজেলার ফুলতলা চা বাগান কতৃপক্ষ। নানান সময় বিভিন্ন স্থানে সাবেক সরকারের আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে ভূমিখেকোরা ভূমি দখল করে বিভিন্ন হাউজিং করার অপতৎপরতা চালাচ্ছে। যা চা বাগান সহ সিলেটের মেজরটিলাস্থ আওয়ামীগের দলীয় ছত্রছায়ায় ভূমি দখল-হামলা-মামলা করে আসছিল। বিগত আওয়ামী ও বিএনপি সরকার আদমজী পাটকল, চিনিকল সহ দেশের প্রায় সকল শিল্পকারখানা বন্ধ ও দলীয়করণ করে আমদানী নির্ভর অর্থনীতি তৈরি করেছিল। নেতৃবৃন্দ এসকল বন্ধ শিল্পকারখানা চালু এবং দেশের লক্ষ লক্ষ বেকারের কর্মসংস্থানের জন্য নতুন কর্মক্ষেত্র স্থাপনের আহবান জানান। স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকার মালিক ও লুটেরাদের স্বার্থে অত্যান্ত সুচতুরভাবে শ্রমিকদের আন্দোলন সংগ্রামের টুটি চেঁপে ধরে সংসদে ‘অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা আইন-২০২৩’ নামে একটি কালো আইন উত্থাপন করে। সরকার ধর্মঘট নিষিদ্ধ করে আইন করা উদ্যোগ মালিকদের স্বার্থ রক্ষা ছাড়া আর কিছুই নয়। সাম্রাজ্যবাদী লগ্নিপুঁিজর বিনিয়োগক্ষেত্র বাংলাদেশ। তাই জেনারেল স্ট্রাইক (সাধারণ ধর্মঘট) দমন করার জন্য সাম্রাজ্যবাদী একচেটিয়া লগ্নিপুঁিজ ও দেশীয় দালাল পুজিঁ শ্রেণির স্বার্থে সৈ¦রতান্ত্রিক সরকার এরকম কালা-কানুন তৈরী করেছিল এবং আওয়ামী সরকার ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে ২০১৮ সালে জারি করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। এরকম অযৌক্তিক, প্রচলিত শ্রম আইন আইন অনতিবিলম্বে তা প্রত্যাহারের দাবি জানান পাশাপাশি সাম্রাজ্যবাদের পরিকল্পনায় নয়াউপনিবেশিক আধা-সামন্তবাদী ভারত সরকার কর্তৃক তিস্তাসহ অভিন্ন ৫৪টি আন্তর্জাতিক আইন না মেনে নদীতে বাঁধ-ড্যাম-গ্রোয়েন নির্মাণের কারণে অকাল বন্যাসহ বাংলাদেশের নদনদী ও কৃষি ধ্বংসের ষড়যন্ত্র-চক্রান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে তোলার আহবান জানান।
Related News
রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগদান না করা নিয়ে সিলেট মহানগর বিএনপির বিবৃতি
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: আয়োজকদের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে নগরভবনে অনুষ্ঠিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেRead More
গণতন্ত্র পেয়েছি, রক্ষা করা এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতি
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে দেশেRead More



Comments are Closed