Main Menu

সিলেটে প্রতিদিন ডিমের চাহিদা ২৯ লাখ, উৎপাদন মাত্র ৪ লাখ

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট বিভাগে প্রতিদিন ২৫ লাখ ডিমের ঘাটতি রয়েছে। এ অঞ্চলে প্রতিদিন হাঁস ও মুরগির ডিমের চাহিদা রয়েছে প্রায় ২৯ লাখ। চাহিদার বিপরীতে সিলেটে ৪ লাখ ডিম উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। ফলে অন্তত ২৫ লাখ ডিম বাইরে থেকে এনে চাহিদা মেটাতে হচ্ছে।

শনিবার (১৮ মে) সকালে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ওয়ার্ল্ডস পোল্ট্রি সায়েন্স এসোসিয়েশনের (ওয়াপসা বিবি) বিভাগীয় কর্মশালায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

কর্মশালায় বক্তারা বলেন- হাসের ডিমের পুষ্টিগুন মুরগির ডিমের চেয়ে বেশি। এতে অন্য কোনো এলার্জেন্স নেই। দেশের ৪৫ ভাগ মানুষ প্রাণীজ প্রোটিনের উপর নির্ভরশীল। প্রাণীজ প্রোটিনের অন্যতম উৎস হলো পোল্ট্রি শিল্প। অথচ সিলেট অঞ্চলে লেয়ার খামার ও পোল্ট্রি হেচারী নেই বললেই চলে।

তারা বলেন- সিলেট অঞ্চলে কর্মক্ষম যুব সমাজকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি গ্রামীন নারীদের পোল্ট্রি শিল্পে নিয়োজিত করতে পারলে এ অঞ্চলে মাংস ও ডিমের চাহিদা পুর্ণ করা সম্ভব হবে। পোল্ট্রি শিল্পেও কৃষির মতো কমার্শিয়াল বিদ্যুৎ বিলের পরিবর্তে আবাসিক বিল প্রদান করতে হবে। একই সঙ্গে উদ্যোক্তা গড়ে তুলতে স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋনের সুবিধা বাড়াতে হবে।

সিলেট কৃষি বিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি, এ্যানিমেল ও বায়োমেডিকেল সায়েন্সেস অনুষদীয় ডীন প্রফেসর ড. মো. ছিদ্দিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিকৃবি’র উপাচার্য প্রফেসর ডা. মো. জামাল উদ্দিন ভুঞা।

প্রফেসর ড. নাসরিন সুলতানা লাকী’র সঞ্চালনায় কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- ওয়াপসা বিবি’র সহ সভাপতি প্রফেসর ড. মো, বাহানুর রহমান, প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় চীপ এপিডেমিউলজিস্ট ডা. আছির উদ্দিন, ওয়াস্টার পোল্ট্রির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইমরান হোসেন।

কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন ওয়াপসা বিবি’র সদস্য প্রফেসর ড. মো. ইলিয়াস হোসেন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- প্রফেসর ড. এটিএম মাহবুুব-ই-ইলাহী, প্রফেসর ড. এম রাশেদ হাসনাত।

কর্মশালায় জানানো হয়, সিলেট জেলায় সোনালী জাতের মুরগির চাহিদা রয়েছে এক লক্ষ। অথচ স্থানীয়ভাবে সরবরাহ করা যাচ্ছে ১০ হাজারের মতো। কর্মশালালায় বায়ূ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিতের পাশাপাশি প্রান্তিক চাষি পর্যায় থেকে বাজার পর্যন্ত ডিমের দামের বৈষম্য কমানোর তাগিদ দেওয়া হয়।

এতে অংশ নেওয়া গবেষকরা বলেন- সিলেটের হাওরাঞ্চলে হাঁস পালনের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এই সম্ভাবনাকে ব্যক্তি পর্যায়ে কাজে লাগানো যায়।

কর্মশালায় “দেশে হাঁস উৎপাদনের সমস্যা ও প্রতিকার” শীর্ষক কারিগরি উপস্থাপনা করেন অধ্যাপক ড. মোঃ বাহানুর রহমান, মাইক্রোবায়োলজি ও হাইজিন বিভাগ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং আহ্বায়ক, ওয়াপসা-বিবি বিভাগীয় কর্মশালা কমিটি।

“বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের পোল্ট্রি রোগ এবং এর প্রভাব” শীর্ষক কারিগরি উপস্থাপনা করেন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আল মামুন, প্যাথলজি বিভাগ, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।

“সিলেট অঞ্চলে মুরগি পালনে সমস্যা এবং সম্ভাবনা” শীর্ষক কারিগরি উপস্থাপনা ডাঃ মোঃ জুনায়েদ কবির, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, গোলাপগঞ্জ।

“উপস্থাপিত বৈজ্ঞানিক উপস্থাপনাসমূহের উপর সার্বিক আলোচনা” করেন অধ্যাপক ড. এম. রাশেদ হাসনাত, প্রফেসর পোল্ট্রি বিজ্ঞান বিভাগ, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট।

এরপর উপস্থাপিত প্রবন্ধসমূহের উপর মুক্ত আলোচনা ও মত বিনিময়ে অংশগ্রহন করেন উপস্থিত অতিথিবৃন্দ ও স্থানীয় খামারিরা।

এ সময় খামারিরা বর্তমান বাজারে পোল্ট্রি ও বয়লার ডিমজনীত বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ জামাল উদ্দিন ভূঞা বলেন, “এ ধরনের অনুষ্ঠান প্রান্তিক খামারিদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। খামারিরা তাদের খামারের বিভিন্ন অসুবিধা , সমস্যাসহ বিভিন্ন অসুখের কথা সহজেই তুলে ধরতে পারবেন । তবে এই সকল অনুষ্ঠানে যারা নীতি নির্ধারকের সাথে জড়িত আছেন, তারা উপস্থিত থাকলে ভালো হতো।

এসময় তিনি আরও বলেন, কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় এ ধরনের আয়োজন করার জন্য। এরফলে আমাদের শিক্ষার্থীরা নতুন নতুন খামারের বিভিন্ন সমস্যার কথা জানতে পারবে এবং সেই অনুযায়ী গবেষণা করার সুযোগ পাবে।”

উক্ত অনুষ্ঠানে ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোঃ ছিদ্দিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে ইমরান হোসেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, অয়েষ্টার পোল্ট্রি এন্ড ফিসারিজ লিমিটেড, ডাঃ মোঃ মারুফ হাসান, পরিচালক, বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তর, সিলেট বিভাগ, প্রফেসর ড. মোঃ বাহানুর রহমান, মাইক্রোবায়োলজি ও হাইজিন বিভাগ (বাকৃবি) ও সহ-সভাপতি, ওয়াপসা-বিবি, মাইক্রোবায়োলজি ও ইমিউনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এ টি এম মাহবুব-ই-ইলাহীসহ সিলেট বিভাগের ২০০’র অধিক খামারীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

Share





Related News

Comments are Closed