জাবিতে মেডিকেল ফেকাল্টি সময়ের দাবি
জাবি সংবাদদাতা: আমি বাঁচতে চাই। আমাকে বাঁচার জন্য সহযোগীতা করেন, ভাই আমারে কিছু টাকা দেন-এ আকুতি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আল বেরুনী হলের কর্মচারী মো: নজরুল ইসলামের। তিনি লিভার সিরোসিস এ আক্রান্ত। গত কয়েক মাস ধরে সুপার ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন আছেন।
২০১৯ সালের ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যা বৈশাখকে বরণ করে নিতে ক্যম্পাসে সাজসাজ রব, এরই মধ্যে বুকে ও পেটে ব্যথা নিয়ে জাবি চিকিৎসাকেন্দ্রে যান ইংরেজি বিভাগের ৪৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নুরুজ্জামান নিভৃত। পরিস্থিতি জটিল হতে থাকায় রাত সোয়া ৯টার দিকে তাঁকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে সেখানে পৌঁছানোর পথেই তাঁর মৃত্যু হয়।
কখনও সুচিকিৎসার অভাবে, কখনও অ্যাম্বুলেন্স না পাওয়ায় শুধু রাশেদ বা নিভৃত নয় এমন ঘটনার বলি হয়েছেন জাবির আরও অনেক শিক্ষার্থী। প্রতিবারই অবহেলায় শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর চিকিৎসাকেন্দ্র উন্নত করতে আন্দোলন হয়েছে। আশ্বাসও মিলেছে। তবে নিভৃতের মৃত্যুর পর সবশেষ দেওয়া ১৩ দফা দাবির কিছুই বাস্তবায়ন হয়নি। চিকিৎসাকেন্দ্রের অবকাঠামো ও যন্তাদির ফাইল পড়ে আছে সংশ্লিষ্ট দফতরের কোন এক কোণায়।
এমন অবস্থায় ক্যাম্পাসের শিক্ষক শিক্ষার্থীর দাবি একটি আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা অনুষদ ও বিশেষায়িত হাসপাতাল। গবেষণাগার ও ল্যাব স্থাপন করে চিকিৎসায় উচ্চতর ডিগ্রি দেওয়ার পাশাপাশি বিশেষায়িত হাসপাতাল হলে ক্যাম্পাসের সবাই সুচিকিৎসা পাবেন; অবহেলায় মৃত্যুও রোধ করা যাবে। পাশাপাশি কম খরচে পাশের সাভার, ধামরাই, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর ও টাঙ্গাইল অঞ্চলের প্রায় এক কোটি মানুষ সেবা নিতে পারবে।
আন্তর্জাতিক গবেষণা ইনডেক্স স্কোপাস অনুসারে, প্রতিষ্ঠার পর থেকে জাবি থেকে মেডিসিন বিষয়ে ৮৩৭টি নিবন্ধ আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে ২০২২ সাল থেকে চলতি বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রকাশিত হয়েছে ২৩৭টি গবেষণা নিবন্ধ। ফলে এ বিষয়ে একটি বিশেষায়িত অনুষদ প্রতিষ্ঠার তাগিদ দিয়েছেন গবেষকরা।
জাবির জীববিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক নূহ আলম বলেন, আমাদের পাঁচটি বিভাগ সরাসরি মেডিকেল স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত। স্বাভাবিকভাবেই এসব বিষয়ে গবেষণা বাড়ছে। সে পরিপ্রেক্ষিতে একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল অনুষদের প্রয়োজন আছে।
বিশ্ব র্যাংকিংয়ে এগিয়ে যেতে চিকিৎসা অনুষদের পাশাপাশি বিশেষায়িত হাসপাতালের প্রয়োজনীয়তার কথা জানান জাবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. এম শামীম কায়সার।
বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. সোহেল আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাসি, মাইক্রোবায়োলজি, বায়োকেমিস্ট্রি এবং জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মেধাবী ও দক্ষ শিক্ষার্থীরা ভালো সুযোগ না পাওয়ায় পড়াশোনা শেষে দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। এখানে আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল ও গবেষণাগার প্রতিষ্ঠা হলে চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা গবেষণায় বড় অবদান রাখতে পারবেন।
জাবির পাশেই বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটসহ বেশ কিছু বড় সরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ ছাড়া শিল্প এলাকা সাভার, আশুলিয়া, ধামরাই ও গাজীপুর মিলিয়ে প্রায় এক কোটি মানুষের বসবাস এ অঞ্চলে। তবে ভালো হাসপাতালের অভাবে তারা উন্নত চিকিৎসা পায় না।
মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. কাজী একেএম রাসেলের কথায়ও বিষয়টি উঠে এসেছে।
তিনি বলেন, এখানে উন্নতমানের চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং পর্যাপ্ত জনবল নেই। তাই বড় বা জটিল রোগীদের ঢাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। যদি এ অঞ্চলে সরকারি সহযোগিতায় ভালো প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে, যেখানে গবেষণা এবং উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি প্র্যাকটিসের সুযোগ থাকবে তাহলে রোগীরা কম খরচে উন্নত সেবা পাবে।
সরকার এ বিষয়ে ইতিবাচক জানিয়ে জাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. নুরুল আলম বলেন, চিকিৎসা অনুষদ এবং বিশেষায়িত হাসপাতালের গুরুত্ব নিয়ে আমরা ভাবছি। ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। চলমান প্রকল্পের কাজ শেষ হলেই নতুন এ অনুষদের সার্বিক গুরুত্ব তুলে ধরে তা বাস্তবায়ন করা হবে।
Related News
ইয়াবা সেবন করে রামিসার ওপর পৈশাচিক নির্যাতন চালায় ঘাতক সোহেল
Manual4 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী শিশু রামিসা আক্তারকে (৭)Read More
শিশু রামিসাকে নৃশংস হত্যার ঘটনায় বেরিয়ে এলো নতুন তথ্য
Manual5 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে হত্যার আগেRead More



Comments are Closed