সরকারি খাল ভরাট বন্ধের দাবিতে ছাতকে সংবাদ সম্মেলন
ছাতক প্রতিনিধি: ছাতকে সরকারি খাল দখল করে মাটি ভরাট করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এমপি মুহিবুর রহমান মানিক ও তার প্রধান সহযোগি রফিকুল ইসলাম কিরনের বিরুদ্ধে।
ছাতকের গোবিন্দগঞ্জ সচেতন নাগরিকবৃন্দ ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করা হয়। এব্যাপারে প্রধান মন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
শনিবার (১৬ মার্চ) বিকালে উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ ট্রাফিক পয়েন্টে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ওলিউর রহমান চৌধুরী বকুল এর অফিসে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্টিত হয়েছে।
অনুষ্টিত সংবাদ সম্মেলনে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ওলিউর রহমান চৌধুরী বকুল বলেন, উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ বাজার সংলগ্ন ছৈলা-আফজলাবাদ ইউনিয়নের পুর্ব রামপুর মৌজার সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের পাশে সরকারি নয়ন জুলি খালের অবস্থান। এ খাল দিয়ে প্রাচীন কাল থেকে আশ পাশ এলাকার পানি নিষ্কাশন হয়ে আসছে।
সুনামগঞ্জ জেলার প্রবেশদ্বার গোবিন্দগঞ্জ ব্রীজ সংলগ্ন সরকারি ১ নং খতিয়ানভুক্ত খাল শ্রেণীর প্রায় এক একর ১০ শতক ভুমি (নয়ন জুলি খাল) রয়েছে। সাদা ব্রীজ সংলগ্ন এ ভুমিতে প্রস্তাবিত পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের জন্য স্থান নির্ধারণ করে স্থানটি পরিদর্শন করেন জেলা এবং বিভাগীয় পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারা। এখানে একটি সাইনবোর্ডও টানানো আছে। গোবিন্দগঞ্জ সাদা ব্রীজ সংলগ্ন (নয়ন জুলি খাল) একদিকে সরকারি সম্পত্তি, অন্যদিকে বাজার সহ আশ পাশ এলাকার পানি নিস্কাশনের একটি প্রধান জলাধার। এ খাল ভরাট হলে এলাকার বৃহত্তর একটি অংশ মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখিন হবে।
পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ অনুযায়ী গোবিন্দগঞ্জ ব্রীজ সংলগ্ন খাল শ্রেনীভুক্ত সরকারি ১ একর ১০ শতক ভুমি লিজ বা বন্দোবস্ত দেয়া সরকারি আইন পরিপন্থি।
সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়ক ও ভটেরখাল নদীর মিলনস্থল গোবিন্দগঞ্জের সাদা ব্রীজের গোড়ার সরকারি ওই ভুমিতে পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের জন্য এলাকাবাসী দাবি জানিয়ে আসছেন। সুনামগঞ্জের প্রবেশদ্বার এবং সিলেট-সুনামগঞ্জের ৪টি থানার মোহনা ছাতকের গোবিন্দগঞ্জ বাজার সংলগ্ন ওই ভুমিতে প্রস্তাবিত পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের জায়গা। ওই খালে মাটি ভরাটের কার্যক্রম বন্ধ রাখার জন্য আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন গোবিন্দগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অলিউর রহমান চৌধুরী বকুল।
গত ১৩ মার্চ সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সাইদুর রহমান সুমন এমপির মাধ্যমে খালে মাটি ভরাটের কার্যক্রম বন্ধ রাখার জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, পরিবেশ অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক, ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও থানার ওসিসহ ১০ জনকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তা গোলাম মুস্তাফা মুন্না নোটিশ প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এটা সরকারি খাল ঠিক নয়, রেকর্ডে বলা আছে সরকারের খাল। রাস্তার পাশ থেকে মাটি তোলার ফলে যে খাল সৃষ্টি হয়ে থাকে এটা সে রকম। গরুর বাজার না থাকায় এমপির একটি প্রকল্প দিয়ে গরুর বাজার তৈরির প্রস্তাব ছিল। কোনো ব্যক্তি নয়, বাস্তবায়িত হলে এটি উপজেলা পরিষদ করবে। তবে আপত্তি আসায় সব কিছু বন্ধ রাখা হয়েছে। এই বিষয়ে হোয়াটসঅ্যাপে উচ্চ আদালতের একজন আইনজীবীর লিগ্যাল নোটিশ পেয়েছি।’
Related News
ছাতকের পল্লীতে দু’পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আহত ৬০
Manual8 Ad Code ছাতক প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার উত্তর খুরমা ইউনিয়নের আমেরতল গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকেRead More
সুনামগঞ্জে হাওরে বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু
Manual5 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার সংলগ্ন হাওরে হাঁস ছাড়তে গিয়ে বজ্রপাতে শফিক মিয়াRead More



Comments are Closed