Main Menu

রাজধানীর বেইলি রোডে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড, নিহত ৪৫

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: রাজধানীর বেইলি রোডের একটি বহুতল ভবনে ভয়াবহ আগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে ৩৮ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।

শুক্রবার (১ মার্চ) সকালে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম হেদায়েতুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন জানান, ঢাকা মেডিকেল কলেজের ইমারজেন্সিতে ৩৩ জন এবং শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে ১০ জন মারা গেছেন।এ ছাড়া পুলিশ হাসপাতালে একজনের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৪৫ জনে।

ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স।যদিও সংস্থাটি প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে, ভবনটিতে কোনো অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও জরুরি ভিত্তিতে বের হওয়ার কোনো ব্যবস্থা ছিল না। সিঁড়ি ছিল মাত্র একটি।

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেজাউল করিম গণমাধ্যমকে বলেন, একটি মাত্র সিঁড়ি থাকা অগ্নি নিরাপত্তা প্রোটোকলের একটি বড় ত্রুটি। ভবনটিতে বেশ কয়েকটি রেস্তোরাঁ ছিল এবং সিঁড়ির পাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল গ্যাস সিলিন্ডার। যার কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়েছে।

এর আগে, বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারী)  রাত ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে ভবনটির দ্বিতীয় তলায় আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি ইউনিটের চেষ্টায় রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

ওই ভবনটি সাত তলা। উপরের তলাগুলোতেও রেস্তোরাঁ এবং তৃতীয় তলায় একটি পোশাকের দোকান ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দ্বিতীয় তলায় আগুন লাগার পর তা ওপরের তলাগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কিত লোকজন ওপরের দিকে ছড়িয়ে যায়। এ সময় ভবন থেকে তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে কয়েকজন আহত হন। আগুন নেভানোর পাশাপাশি ভবনে আটকা পড়া ব্যক্তিদের মই দিয়ে নামিয়ে আনেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

ভয়াবহ এই আগুনে ২২ জন আহত হয়েছেন। এরমধ্যে ৮ জন বার্ন ইনস্টিটিউটে এবং ১৪ জন ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন। আহতদের সবার অবস্থা আশঙ্কাজনক। ভবনের ভিতর থেকে ৭৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

এদিকে, নিহতদের মধ্যে ৩৮ জনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। শুক্রবার ভোর থেকে মরদেহ হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত ২৯ জনের মরদেহ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহকারী কমিশনার মোস্তফা আব্দুল্লাহ আল-নূর জানান, চেহারা, জামাকাপড় দেখে স্বজনরা মরদেহ শনাক্ত করেন। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরই মরদেহ হস্তান্তর করা হচ্ছে।

ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। শেখ হাসিনা তার শোকবার্তায় নিহতদের মাগফেরাত কামনার পাশাপাশি বেঁচে যাওয়াদের দ্রুত চিকিৎসা প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর চকবাজারের চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৮০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

Share





Related News

Comments are Closed