Main Menu

জাবিতে গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রলীগ নেতাসহ ৪ জন রিমান্ডে

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ছাত্রলীগের নেতা মোস্তাফিজুরসহ ৪ আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

রোববার (৪ ফেব্রুয়ারি) আসামিদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক মিজানুর রহমান। অপরদিকে আসামি পক্ষে জামিন চেয়ে শুনানি করা হয়। শুনানি শেষে ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাবেয়া বেগমের আদালত আসামিদের প্রত্যেকের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ডে নেওয়া অপর আসামিরা হলেন- সাব্বির হাসান, সাগর সিদ্দিক ও হাসানুজ্জামান।

ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আনোয়ারুল কবির বাবুল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান, একই বিভাগের ছাত্র সাগর সিদ্দিকী ও হাসানুজ্জামান এবং উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সাব্বির হাসান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী মুরাদ ও ভুক্তভোগীর স্বামীর পূর্বপরিচিত মামুনুর রশিদের নামে থানায় মামলা দায়ের করা হয়। ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী আশুলিয়া থানায় মামলাটি করেন। এরপর চার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাকি দুইজন পলাতক রয়েছেন।

এদিকে এ ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবিতে উত্তাল ক্যাম্পাস। রোববার বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার সংলগ্ন সড়কে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। পরে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন।

ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ গোলাম রব্বানী বলেন, ক্যাম্পাসে ধর্ষণ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। যতদিন প্রশাসনের মদদে ক্যাম্পাসে অছাত্র, অবৈধ ছাত্র অবস্থান করবে, ছাত্রলীগ নামধারী অছাত্ররা নিয়োগ বাণিজ্য করবে, চাঁদাবাজি করবে ততদিন ক্যাম্পাস থেকে অপরাধ দূর করা সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, ধর্ষকদের ফাঁসি চাই, তাদের মদদদাতা প্রশাসনের পদত্যাগ চাই। ধর্ষণকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। এ ক্যাম্পাসে কোনো অবৈধ, সন্ত্রাসী, অছাত্র, মাদক ব্যবসায়ী থাকবে না। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে প্রয়োজনে শহীদ হয়ে যাব। যে সব হলে প্রাধ্যক্ষ অছাত্রদের দিয়ে হল চালায় সে প্রাধ্যক্ষ থাকতে পারবেন না।

দর্শন বিভাগের অধ্যাপক আনোয়ারুল্লা ভূঁইয়া বলেন, এক বছর ধরে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট যৌন নিপীড়নের অভিযোগ থাকলেও তার কোনো সঠিক বিচার হয়নি। এ ধর্ষণ কোনো ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয় প্রত্যেকটা ঘটনার সঙ্গে থাকে একটা যোগাযোগ। বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো অপরাধের বিচার হয় না।

দর্শন বিভাগের অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, গত কয়েক বছরে ক্যাম্পাসে সংঘটিত অপরাধগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অছাত্ররাই মূলত এসব করছে। তারা কোনো না কোনোভাবে ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে জড়িত। এ কারণে প্রশাসন এদের কোনো বিচার করে না। বারবার দায়মুক্তি দিয়ে যাচ্ছেন। দায়মুক্তির কারণে তারা এ ক্যাম্পাসকে সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে পরিণত করেছে।

অপরদিকে দুপুর ২টার দিকে ধর্ষকদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

এ সময় ছাত্রলীগের উপ-ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আলিফ আফিসান দীপ বলেন, ধর্ষকের শাস্তি সুনিশ্চিত করতে হবে। কখনো একজন ধর্ষককে ছাত্রলীগের মতো ঐতিহ্যবাহী সংগঠনের অংশ বলে বিশ্বাস করি না। ধর্ষক কোনো দলের নয়, সংগঠনের নয়। ধর্ষকের স্থান জেলের অভ্যন্তরে, ধর্ষকের স্থান সর্বোচ্চ শাস্তির মানদণ্ডে। বিশ্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে দ্রুত শাস্তি নিশ্চিতের জোরালো দাবি জানাই। কোনো ধর্ষকের স্থান ক্যাম্পাসে নেই।

বিকেল ৩টার দিকে নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আহসান লাবিব বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ছত্রছাত্রায় বেড়ে ওঠা সন্ত্রাসীরা এ ধরনের ন্যাক্কারজনক কাজে লিপ্ত হয়েছে। এ দায় প্রশাসন কোনোভাবেই এড়াতে পারে না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত বাদী হয়ে মামলা করেনি। এ ঘটনার আমরা তীব্র নিন্দা জানাই।

প্রসঙ্গত, শনিবার (৩ ফেরুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন হলের পাশে জঙ্গলে বহিরাগত নারীকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী নারী। তার প্রেক্ষিতে মূল অভিযুক্তসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।

Share





Related News

Comments are Closed