Main Menu

৯ মামলায় জামিন পেলেন মির্জা ফখরুল

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: পল্টন ও রমনা থানার পৃথক নয়টি মামলায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।তবে এখনই মুক্তি পাচ্ছেন না তিনি। তার বিরুদ্ধে পল্টন ও রমনা থানায় আরও দুটি মামলা রয়েছে।

বুধবার (১০ জানুয়ারি) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সুলতান সোহাগ উদ্দিন এ আদেশ দেন।

এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল।

এর আগে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জামিনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন তার আইনজীবী আসাদুজ্জামান। আদালতকে তিনি বলেন, ৭৬ বছর বয়সী মির্জা ফখরুল ইসলাম অসুস্থ। গত ২৯ অক্টোবর গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা মির্জা ফখরুলের ওজন ৫ কেজি কমে গেছে। ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, যেকোনো বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তি জামিন পাওয়ার অধিকার রাখেন। বিএনপি মহাসচিব বয়স্ক এবং অসুস্থ, তার জামিনের বিষয়টি বিবেচনার জন্য আদালতের প্রতি আবেদন জানান তার আইনজীবীরা।

আদালতে ফখরুলের আইনজীবী দাবি করেন, বিরোধী মতের ওপর এখনো নানাভাবে নির্যাতন চলছে। রাজনৈতিক বিবেচনায় হয়রানিমূলক মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। মির্জা ফখরুলের বিরুদ্ধে করা নয়টি মামলা রাজনৈতিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব মামলায় বিএনপি মহাসচিবের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। ওই নয়টি মামলার মধ্যে একটি মামলার আসামি শাহজাহান ওমর। তিনি জামিন পেয়ে বিএনপি ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।

রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জামিনের বিরোধিতা করে আদালতে বক্তব্য উপস্থাপন করেন ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) শাহ আলম। তিনি আদালতে বলেন, প্রতিটি মামলায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। তার প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় এসব ঘটনা সংগঠিত হয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান। তার জামিন আবেদন নাকচ করা হোক।

উভয় পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিরুদ্ধে করা ৯ মামলায় জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।

মির্জা ফখরুলের পক্ষে আদালতে আইনজীবী আসাদুজ্জামানের সঙ্গে ছিলেন সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, ওমর ফারুক ফারুকীসহ কয়েকজন। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল, শাহ আলম প্রমুখ।

গত ৩১ ডিসেম্বর ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রেজাউল করিম চৌধুরীর আদালত রমনার তিন ও পল্টন থানার ছয়টি মামলায় ফখরুলের গ্রেপ্তার এবং জামিন শুনানির জন্য ৯ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন।

গত ২৮ অক্টোবর নয়াপল্টনে বিএনপির মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় দলটির নেতাকর্মীরা। পরে তারা বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা-ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটায়। এ ঘটনায় মির্জা ফখরুলের বিরুদ্ধে ১১টি মামলা হয়। এর মধ্যে পল্টন থানায় আট মামলা ও রমনা মডেল থানায় তিনটি মামলা রয়েছে।

পরে গত ২৯ অক্টোবর মির্জা ফখরুলকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তাকে এ মামলায় কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষ জামিন চেয়ে আবেদন করেন। পরে উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে মির্জা ফখরুলকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

Share





Related News

Comments are Closed