Main Menu

গাজায় ইসরাইলি হামলায় নিহত ৭ হাজার ছাড়ালো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিগত দুই সপ্তাহে গাজায় মানবতা ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। ইসরায়েলী আগ্রাসনে সেখানে মৃতের সংখ্যা ৭ হাজার ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশই শিশু।

হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে বৃহস্পতিবার (২৬ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নিহতদের মধ্যে ২ হাজার ৯১৩ জন শিশু, ১ হাজার ৭০৯ জন নারী এবং ৩৯৭ জন বৃদ্ধ।

জাতিসংঘের তরফে সতর্ক করা হয়েছে, গাজায় দিন-রাত প্রায় সব মিলেমিশে একাকার, যুদ্ধ চলছেই। গাজা ভূখণ্ডের এই ছোট্ট অংশ যা মাত্র ১৪১ বর্গমাইল (৩৬৫ বর্গ কিলোমিটার) জুড়ে রয়েছে, তার সর্বত্রই যুদ্ধের চিহ্ন।

চোখের সামনে ধ্বংসযজ্ঞ দেখেছেন এক ফিলিস্তিনি, নাম তার মাহমুদ বাদাভি । তিনি বর্ণনা দিয়েছেন ইসরায়েলের নির্মম নির্দয় সব আক্রমণের। তিনি দেখেছেন, ধ্বংসস্তূপ থেকে শিশুদের নির্জীব দেহ বের করে আনা, তাঁবুতে সাদা চাদরে মোড়ানো সারি সারি মৃতদেহ এবং বিমান হামলায় মাটির সাথে মিশে যাওয়া ইমারত। তাঁর চোখের সামনে মানবতা গুঁড়িয়ে যেতে, পুড়তে, ছিন্নভিন্ন হতে দেখেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী মাহমুদ বাদাভির অ্যাম্বুলেন্সে হত্যাযজ্ঞের এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় ছুটে চলে। গাজার এক সরু গলিতে মাহমুদ দাঁড়ালেন, বিমান হামলায় আহত দুই শিশুকে অ্যাম্বুলেন্সে তোলার জন্য। এক ব্যক্তি তার কোলে কিছু একটা নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সের দিকে এগিয়ে এলেন। তাঁর কোলে মারাত্মকভাবে আহত এক বালক। মাহমুদের এক বন্ধু যিনি আহতদের উদ্ধারকার্যে নিযুক্তদের সাহায্য করছেন, তাকে চিৎকার করে ওই আহত বালক সম্পর্কে আরও যত্নশীল হতে অনুরোধ করে বলেন, “নাসির, ওর মাথা চৌচির হয়ে গেছে। তারপরও মাহমুদ বিচলিত না হয়ে শান্তভাব বজায় রাখেন। এমনটা নয় যে এই পরিস্থিতি তাঁকে নাড়িয়ে দিয়ে যায় না।

কিন্তু মাহমুদ যে কাজে ব্রতী, তা সুষ্ঠু ভাবে করার জন্য স্থির থাকাটা ভীষণ দরকার, যাতে তিনি আহতদের দিকে নজর দিতে পারেন, যাদের বাঁচানো সম্ভব। বিবিসি-র সংবাদদাতার সঙ্গে যখন মাহমুদ কথা বলছিলেন, তখনো মিসাইল বিস্ফোরণের একটা বিকট শব্দ শোনা গেল।

এদিকে জাতিসংঘ জানিয়েছে যে, গাজায় এক তৃতীয়াংশ হাসপাতাল এবং দুই-তৃতীয়াংশ প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধ করতে হয়েছে। এসব হাসপাতাল হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। মজুত জ্বালানির ভাণ্ডার ক্রমশ ফুরিয়ে আসছে। ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও সংকটময় হতে চলেছে। আগামী দিনে কোন পরিষেবাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে আর কোনটা হবে না, তা নিয়ে ‘কঠিন সিদ্ধান্ত’ নিতে হতে পারে।

Share





Related News

Comments are Closed