Main Menu

স্বামীর জিডির পর স্ত্রী উদ্ধার, ‘দ্বিতীয় স্বামী’ কারাগারে

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের বিশ্বনাথে নিখোঁজের ২০দিন পর সোমা বেগম (২০) কে উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ।

বুধবার (১১ অক্টোবর) ভোর রাতে সিলেটের এয়ারপোর্ট থানাধীন খাদিমনগর এলাকার সাহেল আহমদের বসত ঘর থেকে সোমাকে উদ্ধার করা হয়। এসময় সাহেল আহমদকে আটক করে পুলিশ। সাহেলের সাথে সুমার প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে বলে জানা গেছে।

ওইদিন বিকেলে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাহেল আহমদকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

জেলে যাওয়া সাহেল আহমদ খাদিমনগর এলাকার উমদার পাড়া গ্রামের ফারুক মিয়ার ছেলে। আর উদ্ধার হওয়া সুমা বেগম বিশ্বনাথ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের প্রচার সম্পাদক সিজিল মিয়ার স্ত্রী। তিনি উপজেলার বাইশঘর গ্রামের খেজুর মিয়ার ছেলে।

বৃহস্পতিবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে সিলেট আদালতে নিয়ে গেলে আদালতের বিচারকের নির্দেশে সোমা বেগমকে নিজ জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্বনাথ থানার এসআই জয়ন্ত সরকার। তিনি বলেন, সাহেল আহমদ ও সুমা বেগমকে আটকের পর ৫৪ ধারায় সাহেলকে জেলে পাঠানো হয়। আর সুমা বেগমকে তার বাবা-মা গ্রহণ না করায় বৃহস্পতিবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে আদালতের নির্দেশে থানায় সাধারণ ডায়রি করে তাকে তার নিজ জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ২০ সেপ্টেম্বর সিজিল মিয়ার মন্ডলকাপনস্থ ভাড়া বাসা থেকে নিখোঁজ হন তার স্ত্রী সোমা বেগম। এর ১৩ দিন পরও কোন খোঁজ না পাওয়ায় গত ৪ অক্টোবর বিশ্বনাথ পৌরসভার মেয়র মুহিবুর রহমানের বাসায় সালিশ নিয়ে যান সুমা বেগমের মা সৈয়দা বেগম (৪৩)। এরপর সালিশ কার্যালয়ে উপস্থিত এলাকাবাসীর সামনে তার মেয়ের বিয়ে ও নিখোঁজের কথা জানান।

সৈয়দা বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘প্রায় ৪বছর আগে ১৬ বছর বয়সে সিজিল মিয়া তার মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেন। এসময় সিজিল মিয়া প্রভাব খাটিয়ে বিয়ে করতে চাইলে তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম নুনু মিয়াকে বিষয়টি জানান। এতে উপজেলা চেয়ারম্যান বলেন, প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার পর কাবিন করে দেওয়া হবে। এখন কাজী ডেকে বিয়ে দিয়ে দেন। এ কথার পর তিনি তার মেয়েকে সিজিলের হাতে তুলে দেন’।

সৈয়দা বেগমের এমন বক্তব্য নিজের ফেসবুক পেজে পোস্ট করেন মেয়র মুহিবুর রহমান।

এঘটনার ৩দিন পর গত ৮ অক্টোবর সৈয়দা বেগম মেয়ের স্বামী সিজিল মিয়া ও উপজেলা চেয়ারম্যানকে আসামি করে সিলেটের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট প্রথম আদালতে অপহরণ ও গুমের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন, মামলা নং৩৯১/২০২৩ইং।

একইদিনে সিজিল মিয়া তার স্ত্রী নিখোঁজ হয়েছেন মর্মে বিশ্বনাথ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন, (জিডি নং ৩৪২)। সিজিল মিয়ার দাবি, ২০২১ সালের ৫ নভেম্বর ২ লাখ টাকা দেনমোহর দিয়ে কবিননামা করে তিনি সুমা বেগমকে বিয়ে করেছেন। এরপর গত ২০ সেপ্টেম্বর সকালে তিনি ব্যবসার কাজে বাইরে গেলে তার স্ত্রী সুমা বেগম প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে যান।

এদিকে ২০ সেপ্টেম্বর সুমা বেগম নিখোঁজের পর ওইদিন বিকেলে ১লাখ ৫০ হাজার টাকা দেনমোহরের মাধ্যমে সাহেল আহমদ (২২) কে বিয়ে করেন সুমা। পরদিন ২১ সেপ্টম্বর বিয়ের স্বীকৃতির জন্য সিলেট আদালতে নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে কোর্ট ম্যারেজও করেন তিনি।

এ ব্যাপারে সোমা আক্তারের প্রথম স্বামী সিজিল মিয়া বলেন, আমার স্ত্রীর জন্ম ২০০৩ সালে। প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার পরই আমরা বিয়ে করি। আমার সাথে সংসার করা অবস্থায় সম্প্রতি সে পালিয়ে আরেকজনকে বিয়ে করে। এ বিষয়টি আমার শাশুড়ি জানতেন। এটি আড়াল করতেই তিনি আমার বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগ এনেছেন। এছাড়া একটি গোষ্ঠি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।

 

Share





Related News

Comments are Closed