জকিগঞ্জের নিখোঁজ মাদ্রাসা ছাত্র সিলেট থেকে উদ্ধার
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের জকিগঞ্জ থানা পুলিশের তৎপরতায় বাবা-মার কাছে ফিরলো নিখোঁজ কিশোর মো. মাহফুজ রিফাত (১৬)।
সে উপজেলার উত্তর মনসুরপুর গ্রামের আব্দুল বাছিতের ছেলে।
মঙ্গলবার ( ১০ অক্টোবর) তাকে সিলেট নগরীর হুমায়ুন রশিদ চত্ত্বর এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে তার বাবা-মা’র হাতে তুলে দেয় পূলিশ।
জানা গেছে, গত সোমবার (৯ অক্টোবর) জকিগঞ্জ থানায় রিফাতের নিখোঁজ সংক্রান্ত একটি সাধারণ ডায়রি দায়ের করেন তার পিতা আব্দুল বাছিত।
ডায়রিতে তিনি উল্লেখ করেন, গত ৪ অক্টোবর থেকে রিফাতকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা।
মাহফুজুর গোলাপগঞ্জ উপজেলার একটি মাদ্রাসায় হিফজ বিভাগে পড়ত। ৪ অক্টোবর বাড়ি থেকে গোলাপগঞ্জের মাদরাসার উদ্দেশে বের হওয়ার পর তার আর কোনো খবর পায়নি পরিবার।
এরপরই পুলিশ তৎপর হয়ে উঠে। এক পর্যায়ে তারা সিলেট নগরীর হুমায়ুন রশিদ চত্ত্বর এলাকায় তার সন্ধান পায়।
এ বিষয়ে জকিগঞ্জ থানার ওসি মোশাররফ হোসেন বলেন, গতকাল মঙ্গলবার মাহফুজুর রাহমানের খোঁজ মিলেছে সিলেট শহরে। জানা যায়, সে বাড়ি থেকে রাগ করে বের হয়েছিল।
উল্লেখ্য সম্প্রতি সিলেটের পৃথক জায়গা থেকে নিখোঁজ হওয়া তিন কিশোর নিখোজ হয়। নিখোজ হওয়া কিশোরেরা সিলেটের শাহপরান, গোয়াইনঘাট ও জকিগঞ্জ থানা একালার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। পরে নিখোঁজদের স্বজনরা স্ব স্ব থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
জিডি সূত্রে জানা যায়, ১৬ দিনের মধ্যে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে নিখোঁজ হওয়া কিশোরদের বয়স ১৩ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে।
তিন কিশোর হল, সিলেট সদর উপজেলার জালিজ মাহমুদ সিয়াম (১৬), গোয়াইনঘাট উপজেলার মো. উসমান আহমদ (১৩) এবং জকিগঞ্জ উপজেলার মো. মাহফুজ রিফাত (১৬)। এরমধ্যে মাহফুজ রিফাতকে মঙ্গলবার উদ্ধার করা হয়েছে।
গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ জানায়, উপজেলার রুস্তমপুর ইউনিয়নের বীরমঙ্গল জামকান্দি গ্রামের হানিফ আলীর ছেলে উসমান আহমদ গত ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে নিখোঁজ। উসমান স্থানীয় জামকান্দি নুরুল উলুম মাদানি মাদরাসার পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। ছেলে নিখোঁজের ঘটনায় বাবা হানিফ আলী গোয়াইনঘাট থানায় ২৮ সেপ্টেম্বর জিডি করেন।
হানিফ আলী বলেন, উসমান সেদিন সকাল ১০টার দিকে বাড়ি থেকে মাদরাসার উদ্দেশে বের হয়। কিন্তু মাদরাসায়ও যায়নি; পরে আর বাড়িও ফেরেনি। এরপর থেকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু ছেলের সন্ধান পাচ্ছেন না।
এ ব্যাপারে গোয়াইনঘাট থানার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মেহেদী হাসান বলেন, নিখোঁজ কিশোরের সন্ধানে পুলিশ কাজ করছে।
এদিকে সিলেট শহরের খাদিমনগর আবাসিক এলাকা থেকে গত ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় জালিজ মাহমুদ সিয়াম নিখোঁজ হয়। সে সদর উপজেলার পীরেরবাজার এলাকার জহিরিয়া উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র।
জালিজ বরিশালের উজিরপুর উপজেলার গাজীরপাড়া গ্রামের ফরিদুল ইসলাম ও সুলতানা বেগম দম্পতির ছেলে। খাদিমনগর আবাসিক এলাকায় মামা সোহাগ হাওলাদারের বাসায় থেকে পড়াশোনা করত।
ভাগনে নিখোঁজের ঘটনায় সোহাগ হাওলাদার সিলেট মহানগরীর শাহপরাণ (রহ.) থানায় ২০ সেপ্টেম্বর জিডি করেন।
এ ব্যাপারে শাহপরাণ (রহ.) থানার ওসি আবুল খায়ের বলেন, নিখোঁজ স্কুলছাত্রের সন্ধানে পুলিশ কাজ করছে।
জালিজ মাহমুদের মামা সোহাগ হাওলাদার বলেন, ব্যবসার সূত্রে তিনি সিলেটে থাকেন। তার ভাগনে জালিজ পড়াশোনার জন্য সিলেটে এসেছিল; তার বাসাতেই থাকত। সে নিখোঁজের পর অনেক জায়গায় খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
Related News
কোম্পানীগঞ্জে গাছ কেনাবেচা নিয়ে টর্চ জ্বালিয়ে দুই গ্রামের সংঘর্ষ, আহত অন্তত ৪০
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে গাছ কেনাবেচার দেনাপাওনা নিয়ে টর্চলাইট জ্বালিয়ে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যেRead More
বিশ্বনাথে স্ত্রীর মামলায় স্বামী গ্রেফতার
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের বিশ্বনাথে স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় কছির আলী (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকেRead More



Comments are Closed